বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:১৬ পি.এম
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে রাশেদ খান প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং তাকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খান বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল সুকৌশলে মীর শাহে আলমকে ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে উপস্থাপন করে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধু বিবেচনায় অনেকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি বিভিন্ন টকশোতে বিরোধী পক্ষের মুখ থেকে এটাই শুনেছি যে, জনাব মীর শাহে আলম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বন্ধু! বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউশনে ছিলাম।’
তিনি আরও জানান, গতকাল মীর শাহে আলম নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বয়সে বেশ ছোট এবং কখনও একই স্কুল-কলেজে পড়েননি। তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সূত্র ধরেই গড়ে উঠেছে।
উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে মীর শাহে আলম সব বরাদ্দ বগুড়ায় নিয়ে গেছেন। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) থেকে উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় বগুড়া ১৬ নম্বরে এবং গোপালগঞ্জ ৭ নম্বরে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তার (প্রতিমন্ত্রী) কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই সেই সমালোচনা আমরা করব। কিন্তু সম্মিলিত মিথ্যাচারের পেছনে নিশ্চিত কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে।’
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রাশেদ খান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নের জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছেন এবং বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীরাও মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিনি জানান, মাসখানেক আগে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না’, মূলত সেই ক্ষোভ এবং বর্তমান বিরোধী দলের রাজনৈতিক কৌশল–উভয়ই মীর শাহে আলমকে টার্গেট করার পেছনে কাজ করছে।
রাশেদ খানের মতে, ‘তাদের (একটি মহলের) চিন্তা হলো মীর শাহে আলমকে বিতর্কিত করতে পারলে বুঝি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার মিশন সফল হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় বিয়ে করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন সবুজ গাজী নামে এক মাদক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
এর আগে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাচৌকিদার মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাইমচর থানা পুলিশ জানায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ২০১৬ সালের একটি মাদক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি শহিদ গাজী ওরফে সবুজ গাজী হাইমচর থানার চরভাঙ্গা (পূর্ব নাম গাজীপুর) এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি, দ্বিতীয় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের কনে দেখার প্রস্তুতির আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজকে কালাচৌকিদার মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতঃপূর্বে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দিল্লি, নিউইয়র্ক, লন্ডন, জেনেভাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মিশনে সম্প্রতি বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন।
এ বিষয়ে জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, "সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চেঞ্জ হবে, রদবদল হবে, নতুন লোক আসবে। সেটা তো চলমান প্রক্রিয়া। এটা তো কোনো নতুন কিছু না। যখন সরকারের থেকে একটা স্টেটমেন্ট যাবে, সরকার থেকে প্রকাশ হবে, তখনই আপনারা জানতে পারবেন কেন, কোথায়, কীভাবে, কোন কারণে রদবদল হচ্ছে। কিন্তু এটা চলমান প্রক্রিয়া।"
এই রদবদলের পেছনে বিএনপি করা বা না করার কোনও বিষয় জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "না না, বিএনপি করা বা কোনো বিষয় না।" তিনি আরও জানিয়েছেন, "অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে, আপনি যদি প্রধানমন্ত্রীর কাজকর্মগুলো ফলো করেন, তার সিদ্ধান্তগুলো ফলো করেন— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে তিনি ইমপর্টেন্স দেন কাজকে, এফিশিয়েন্সিকে (দক্ষতাকে)। কে কতটুক কাজে পারদর্শী, কে কতটুক আন্তরিকভাবে দেশের জন্য কাজ করতে পারছে, দেশের প্রতি কার আন্তরিকতা আছে, সেটাই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচ্য বিষয়।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি আন্তরিকতা, কাজের প্রতি ডেডিকেশন (উৎসর্গ) এবং এফিসিয়েন্সি— এগুলোর বিচারেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে আমাদের রদবদল হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া; যখন ফাইনাল হবে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাজেট প্রকাশ হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা ঋতুর আগমনে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। দিনরাত এক করে তারা নৌকা তৈরি করছেন। নতুন নৌকা তৈরি করার পাশাপাশি অনেকে পুরনো নৌকা মেরামতের জন্য তাদের কাছে ছুটছেন। সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালে চলনবিল ও আত্রাই নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তাই এই সময়ে ব্যাপকভাবে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে কার্তিক পর্যন্ত ৫ মাস বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম ও পথঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই সময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার ও মাছ ধরার কাজে নৌকাই একমাত্র বাহন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তাই বর্ষাকালে নৌকার কদর বেড়ে যায়।
জেলে পেশার অনেকে এখনই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এ কারণে চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরির বিশাল চাপ বেড়ে গেছে। নদীর আশপাশের কিছু এলাকা পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগানোর কাজে ব্যস্ত। আবার কেউবা দিচ্ছেন জোড়াতালি। ভিন্ন ভিন্ন কারিগর তারকাঁটা ও লোহার পাত ব্যবহার করে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ততাও দেখাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়া, বড়িয়া, ডাহিয়া, বিয়াশ ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেলো অনেক নৌকা তৈরির কারিগর নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকছেন।
কারিগররা জানিয়েছেন, নৌকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ প্রতিবারের চেয়ে বেড়েছে। পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া এলাকায় একজন কাঠমিস্ত্রী পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। তিনি বলেছেন, সারা বছর কাঠের কাজ করেন। তবে বর্ষার এই সময়ে তিনি নৌকা তৈরির কাজে বেশি সময় দেন। এই কাজের মাধ্যমে তার বাড়তি কিছু আয় হয়ে থাকে।
পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ‘আমার কারখানায় কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি হয়। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটা ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এই বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। বেশিরভাগ ছোট ডিঙি নৌকা, যা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার হয়। আমি আশা করছি এ বছর ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হবে। কাঠের নৌকা বিক্রি করি ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা ও প্লেন সিটের নৌকা ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকায় বিক্রি করছি।
নৌকা তৈরির কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেছেন, বর্ষাকালে প্রতিদিন ২টি থেকে ৩টি নৌকা তৈরি করে থাকি। নৌকাভেদে মজুরি পাই ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে। এছাড়া সারাবছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাঠের অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার চলে।
নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে অবস্থিত। সামান্য বর্ষায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় নৌকাই একমাত্র বাহন। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম অনেক বেশি।
উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর এলাকা থেকে নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, 'চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি'।
চলনবিলের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানালেন, কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, 'সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতি দিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। কাঠের দাম বেড়েছে, তবুও মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ একাধিক গুণ বেড়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাজারে মাদকের মধ্যে কোনো ভেজাল না থাকলেও নিত্যদিনের খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল থাকাটা বড়ই আশ্চর্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন রাখার সময় তিনি এই ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জনগণ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার পেতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাও জানতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের বৈঠক।
অধিবেশনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে সাবিকুন্নাহার ফলের মৌসুমে বাজারে ফরমালিন ও ভেজালের আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ফলের মৌসুমে বাজারে এতো ফল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কোন ফলটি কিনবে, কোনটি ফরমালিনমুক্ত আর কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী- তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেজালের এই চাদরে ঢাকা দুনিয়ায় মাদকে কোনো ভেজাল না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর মন্তব্য করে তিনি খাদ্যের মান সংরক্ষণ এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জামায়াত এমপির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী ভেজালের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে একে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতদিনই মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যকে ভেজালমুক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে এই অপতৎপরতা রোধে মাঠে নামবে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য পুরোপুরি ভেজালমুক্ত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা ও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের এই লড়াইয়েও সরকার অবশ্যই সফল হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ