প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা ঋতুর আগমনে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। দিনরাত এক করে তারা নৌকা তৈরি করছেন। নতুন নৌকা তৈরি করার পাশাপাশি অনেকে পুরনো নৌকা মেরামতের জন্য তাদের কাছে ছুটছেন। সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালে চলনবিল ও আত্রাই নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তাই এই সময়ে ব্যাপকভাবে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে কার্তিক পর্যন্ত ৫ মাস বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম ও পথঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই সময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার ও মাছ ধরার কাজে নৌকাই একমাত্র বাহন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তাই বর্ষাকালে নৌকার কদর বেড়ে যায়।
জেলে পেশার অনেকে এখনই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এ কারণে চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরির বিশাল চাপ বেড়ে গেছে। নদীর আশপাশের কিছু এলাকা পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগানোর কাজে ব্যস্ত। আবার কেউবা দিচ্ছেন জোড়াতালি। ভিন্ন ভিন্ন কারিগর তারকাঁটা ও লোহার পাত ব্যবহার করে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ততাও দেখাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়া, বড়িয়া, ডাহিয়া, বিয়াশ ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেলো অনেক নৌকা তৈরির কারিগর নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকছেন।
কারিগররা জানিয়েছেন, নৌকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ প্রতিবারের চেয়ে বেড়েছে। পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া এলাকায় একজন কাঠমিস্ত্রী পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। তিনি বলেছেন, সারা বছর কাঠের কাজ করেন। তবে বর্ষার এই সময়ে তিনি নৌকা তৈরির কাজে বেশি সময় দেন। এই কাজের মাধ্যমে তার বাড়তি কিছু আয় হয়ে থাকে।
পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ‘আমার কারখানায় কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি হয়। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটা ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এই বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। বেশিরভাগ ছোট ডিঙি নৌকা, যা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার হয়। আমি আশা করছি এ বছর ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হবে। কাঠের নৌকা বিক্রি করি ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা ও প্লেন সিটের নৌকা ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকায় বিক্রি করছি।
নৌকা তৈরির কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেছেন, বর্ষাকালে প্রতিদিন ২টি থেকে ৩টি নৌকা তৈরি করে থাকি। নৌকাভেদে মজুরি পাই ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে। এছাড়া সারাবছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাঠের অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার চলে।
নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে অবস্থিত। সামান্য বর্ষায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় নৌকাই একমাত্র বাহন। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম অনেক বেশি।
উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর এলাকা থেকে নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, 'চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি'।
চলনবিলের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানালেন, কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, 'সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতি দিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। কাঠের দাম বেড়েছে, তবুও মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ একাধিক গুণ বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন