০৪:১৪ পি.এম
পঞ্চগড়ের বোদায় একটি নারী মোটরসাইকেল থামানোর পর চালককে মারধর করার, টাকা ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগে পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে রনি (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) মোটরসাইকেলে বোদা উপজেলা শহরের প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে এক অপরিচিত নারী তার মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা আছে বলে জানান।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
পরিমল ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে কয়েকজন যুবক এসে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে ওই নারীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউসুফ আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে পরিমল ওই নারীকে দেখতে পান এবং এ সময় তার পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চারটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
বাড়িতে ফিরে পরিমল বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বোদা থানায় পরিমল চন্দ্র বর্মন পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।
ঘটনার পর রাজু ইসলাম ছাড়া অপর চার যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল। পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান ও সদস্যসচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযুক্তদের তিন দিনের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায় জানান, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন