বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৩৪ পি.এম
দেশের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার রোধে সরকার যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনের নাম জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬, যা প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত (পাবলিক গাম্বলিং এ্যাকট ১৮৬৭) আইনটিকে রহিত করেছে।
রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। আইনটি এর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে গেছে।
নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের পরিষ্কার সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
একইসঙ্গে বলা হয়েছে যে এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ বলে গণ্য হবে।
বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না। সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বাধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।
অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার অপরাধের জন্য সর্বাধিক সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বাধিক সাত বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বাধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন।
জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশগ্রহণ করলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বাধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বাধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বাধিক ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সাথে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনেও বিচার হবে।
নতুন আইনের অধীনে আদালতকে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ডিভাইসসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তি আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে।
কোনো কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকা সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবেন। আইনটি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে যে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্য অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী।
এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচের পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অপরাধের তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
আইনে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ এবং জনসচেতনতার কার্যক্রম পরিচালনারও বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন আইন কার্যকর করার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পাবলিক গ্যামলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান মামলা ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও দাফন আয়োজন হতে যাচ্ছে।
আলজাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের মোট পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে জানাজার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে। এরপর সোমবার রাজধানী তেহরানে শোক মিছিল বের হবে, যা ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম হয়ে ইরাকের নজফ ও কারবালায় অগ্রসর হবে।
পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থল মাশহাদে দাফন করা হবে। এ উপলক্ষে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষের উপস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অনুষ্ঠানে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবার মতো ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারাও এতে যোগ দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা শুরু হয়, যা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
পরীক্ষার প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) শাখায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু রয়েছে, যেখান থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে শুধু পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ এবং ০১৭৫৬১০৩১৫২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ই-মেইল: controller@dhakaeducationboard.gov.bd।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্য মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে বাইরে উৎকণ্ঠার সহিত অপেক্ষা করছিলেন মা ফরিদা ইয়াসমিন। তাকে হাতে তসবিহ নিয়ে মেয়ের ভালো ফল ও সফলতা কামনা করার জন্য দোয়া করতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রের সামনে এমন একটি আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। পরীক্ষার সময়, অনেক অভিভাবকই তাঁদের সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, এর মধ্যে ফরিদা ইয়াসমিনও ছিলেন।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি নিজেই মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েটিকে কোনো প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ানো হয়নি। এসএসসি পরীক্ষায় মেয়ের ভালো ফলের কথা উল্লেখ করে ফরিদা বলেন, এবারও তিনি একই ধরনের সাফল্যের প্রত্যাশা করছেন।
পরীক্ষা শুরুর পূর্বে, অনেক পরীক্ষার্থীকে বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করেন। কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল যা চোখে পড়ার মতো ছিল।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমানের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএম) শাখায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বছর মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। সাধারণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট শেষ হবে। এরপর ৯ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই মাস এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর সম্পূর্ণভাবেই সফল হয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীন আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে নতুন বিকল্প নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ সরাসরি সংযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ