ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৪৩ ঘণ্টা পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল শুরু


৪৩ ঘণ্টা পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল শুরু

রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে প্রায় সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর এখন বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে গোল্ডেন লাইন পরিবহন নিয়ে রাজবাড়ীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ এখনো পুরোপুরি মেটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দুই জেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, বাধ্য হয়ে যাত্রীরা মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে গোল্ডেন লাইন নিয়ে বিরোধ এখনও সমাধান হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজবাড়ীর উপর দিয়ে গোল্ডেন লাইনের চারটি ট্রিপ চললে আপত্তি নেই; এর বেশি ট্রিপ চালাতে দেওয়া হবে না।

সুকুমার ভৌমিক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনার পর ফরিদপুরে রাজবাড়ীর একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারকে মারধর করা এবং ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন বাস চলাচলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় তারা পুনরায় বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সে সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলবে। উভয় পক্ষই ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তবে ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন পরিবহন ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে ট্রিপ বাড়াতে থাকে বলে অভিযোগ করেন রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কিছু কিছু দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ২৮টি পর্যন্ত ট্রিপ চালানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি বাস চলাচলের পর অতিরিক্ত বাস চলাচলে শ্রমিকরা বাধা দেন। এর জেরে ফরিদপুরে রাজবাড়ীর বাস আটকে দেওয়া হয়। এ সময় রেখা পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েলও সকাল থেকে বাস চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেলেও গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চলাচল নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও সচল ‘বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনা’ সেই খনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


আবারও সচল ‘বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনা’ সেই খনি

অস্ট্রেলিয়ার একটি খনিতে টাংস্টেন রয়েছে। এই খনি আবার চালু হচ্ছে, কারণ এটি যুদ্ধের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুসমৃদ্ধ।

কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত এই খনির নাম ডলফিন মাইন। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের ভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। টাংস্টেন একটি শক্তিশালী ধাতু। এই ধাতু দিয়ে তৈরি হয় শক্তিশালী বর্ম-ভেদী গুলি এবং সাঁজোয়া যানের বর্ম।

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খনিটি বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। যুদ্ধ এলেই খনিটি চালু হয়েছে, আবার শান্তি ফিরলে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বড় লাভের প্রত্যাশায় খনিটির দিকে নজর দিচ্ছেন। তারা ধারণা করছেন, সামনে টাংস্টেনের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার কারণে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইনটি প্রথম চালু হয়। তবে তিন বছর পর যুদ্ধ থেমে যায় এবং টাংস্টেনের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটে। ফলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা শুরু হলে ১৯৩৮ সালে খনিটি আবার চালু হয়। এরপর কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি কখনও বন্ধ হওয়ার এবং কখনও চালু হওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রবণতা বাড়ায় খনিটি কিছুদিন সচল ছিল। কিন্তু ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর খনিটি একরকম প্রত্যাবর্তনের আশায় বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি আবার চালুর কাজ শুরু করা হয়। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরু করেন।

এখন ২০২৬ সালে এসে খনিতে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। বর্তমান যুদ্ধগুলোর কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান কারণ। সেপ্টেম্বর মাসে মাটির নিচ থেকে প্রথম আকরিক তোলা ও সরবরাহের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।

এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চীনের চেয়ে বেশি হারে বিরল খনিজ সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন নিজ দেশ থেকে।

প্রতিবেশী চীন সম্প্রতি তাদের সামরিক শক্তি অনেক বাড়িয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন আগেই সতর্ক করে জানিয়েছে, চীন যথেষ্ট সামর্থ্য অর্জনের পর দশকের মধ্যেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রও এখন যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাতু সংগ্রহের দৌড়ে যোগ দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটি কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন ভাণ্ডার থেকে খনিজ তোলার জন্য ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এই টাংস্টেন। ইরানের সঙ্গে মাসের পর মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করছে, তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে। আর এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর খনিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


ট্রাম্পের ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ইরান চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও চরম একঘরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় লিপ্ত যেকোনো দেশকে কড়া সতর্কবার্তা প্রদান করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা তেহরানকে কোনো আর্থিক, বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সুবিধা প্রদান করবে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, নিবন্ধিত জাহাজ এবং ভুয়া কোম্পানির কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেন। এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ অভিহিত করে, মিত্র দেশগুলোকে তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র আওতায় তেহরানের অর্থ প্রবাহ বন্ধে কঠোর তেল, নৌ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসছে। তবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিস্তারিত সম্পর্কে কোনো প্রকাশ না হওয়ায়, ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হ্যানা মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে কিছুটা হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার চীন, তুরস্ক ও ইরাকের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ব্র্যান্ডিস ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাদের হাবিবি দাবি করেছেন, চীন সরকার এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাড়া না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায়, বেজিংয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা ওয়াশিংটনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম

সৌদি আরবের পবিত্র مক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া।

বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে, প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। তার এ সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ বিভাগে প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

প্রতিযোগিতার সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের এই তরুণ হাফেজ।

পাঁচটি পৃথক শাখায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান কোরআনের হাফেজ ও কারিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

প্রতিযোগিতা চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, পবিত্র কোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে নিয়ে এসেছে। মসজিদুল হারামে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগকে তিনি তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

মক্কার পবিত্র ভূমিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোরআনপ্রেমী তরুণদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের জন্য প্রথম স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। একজন তরুণ হাফেজের এ সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও হিফজের অঙ্গনেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের প্রতিভাবানদের মিলনমেলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন দেশের জন্য এক অনন্য সম্মান। পবিত্র কোরআনকে বুকে ধারণ করে মক্কার পবিত্র ভূমিতে বাংলাদেশের পতাকাকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং বাংলাদেশের কোরআনপ্রেমী মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও আনন্দ ও গৌরবের সংবাদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


আজ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলাদেশে ৩৫ বছরের বিরতির পর আবারো রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। ভোটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণের পর, সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদের প্লেনারি হলে, যেখানে সাধারণত সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে বসেন, সেখানেই ভোটগ্রহণ হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটের স্থান নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। দুই প্রার্থীর মধ্যে যাকে ভোট দেবেন, নির্ধারিত স্থানে তার পক্ষে ভোট দিয়ে স্বাক্ষর করে ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।

তিনি আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যাতে একসঙ্গে বেশি ভিড় না হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

পরবর্তী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন বলেও জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ সময় রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী (সংসদ সদস্য হলে) তার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে। ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়েও সরাসরি সম্প্রচার থাকবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রমও সরাসরি দেখানো হবে।

এবারের ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এ বিষয়ে গত ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-কেন্দ্রিক এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এই নির্বাচনকে ঘিরে সবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটশেষে সেখানেই গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হলো ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার পদ্ধতিও জানিয়েছেন ইসি সচিব। ভোটাররা ব্যালট গ্রহণের পর নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হলে গণনা শুরু হবে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটের ব্যালট সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হলো কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রাথীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাই আজ দুজনের মধ্যে ভোট হবে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এর আগে প্রায় ৩৫ বছরের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। দেশের মানুষকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানাতে চাই।

৩৫ বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%