ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি


নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনার ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

তিনি সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা দিবসের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনার দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "দেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।"

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা তাদের দায়িত্ব। তবে, মেয়েরা ঘরে থাকবে এই ধরনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অন্যায় শিকার হলে চুপ না থেকে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সকল কন্যা শিশুদের মার্শাল আর্ট শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, নারীদের সাফল্যের সাথে শুধু পরিবার নয়, দেশও জড়িত।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর

ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে স্বয়ংক্রিয় বাড়ি, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন এবং চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তি ও টেকসই নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে।

২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর ও শহরের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রোবটের সাহায্যে নির্মিত হবে বহুতল ভবন, বাড়িগুলো হবে স্বয়ংক্রিয় এবং আবাসন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে, চালকবিহীন গাড়ি এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে শহরের নকশায় পরিবর্তন আসবে। বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ভবিষ্যৎ চিত্র তুলে ধরেছেন একদল শীর্ষস্থানীয় স্থপতি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরে বসবাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা মেটাতে প্রচলিত বাড়িঘর নির্মাণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য আলাদা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রচলিত ধারণা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির স্বল্পতা, নির্মাণব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে এ ধরনের আবাসন ব্যবস্থা টেকসই রাখা কঠিন হবে।

স্থপতি জেমস সাইসাকর্নের মতে, বাড়তি জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা পূরণে বহুতল ভবন এবং মিশ্র ব্যবহারের স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একই জায়গায় আবাসন, কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যতে ‘মিসিং মিডল’ নামে পরিচিত মাঝারি ঘনত্বের আবাসন ব্যবস্থা আবার জনপ্রিয় হতে পারে। এই ব্যবস্থায় টাউনহাউস এবং ছোট ছোট বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাড়ির মতো বসবাসের পরিবেশ বজায় রেখেই অধিক সংখ্যক মানুষকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে যৌথ সবুজ পার্ক এবং সামাজিক মিলনস্থল তৈরির সুযোগ বাড়বে।

ভবিষ্যতের আবাসন নির্মাণে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে রোবটের সহায়তায় একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকা অথবা শহরের বড় অংশের কাঠামো নির্মাণ সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থপতিরা।

এ ধরনের প্রযুক্তি নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের সংকট মোকাবিলা এবং নির্মাণের নির্ভুলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বহুতল ভবন নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সময় এবং সম্পদের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে রোবটনির্ভর নির্মাণব্যবস্থা কতটা ব্যাপকভাবে চালু হবে, তা প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্যয় এবং নির্মাণসংক্রান্ত নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে আরও বেশি সহনশীল করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে বাড়ির নকশা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পানি এবং বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

স্থপতি স্কট স্পেক্টের ধারণা, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে। ফলে এসব বাড়ির বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গ্রিডের সংযোগ মূলত জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগবে।

প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাস চলাচলের উপযোগী নকশা বাড়ির ভেতরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখবে। এতে কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার এবং বিদ্যুতের খরচও কমানো সম্ভব হবে।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণে ভবিষ্যতে কাঠের ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন স্থপতিরা। বিশেষ করে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা সিএলটি নামের প্রকৌশলগতভাবে তৈরি কাঠের প্যানেল বহুতল ভবন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেমস সাইসাকর্নের মতে, এ ধরনের কাঠের প্যানেল মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হওয়ায় ভবিষ্যতের নির্মাণকাজে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর বিকল্প হিসেবে কাঠের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে নির্মাণপ্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হবে।

ভবিষ্যতের শহরগুলোতে চালকবিহীন গাড়ি যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গের মতে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বাড়ি এবং আবাসিক ভবনে বড় গ্যারেজ কিংবা পার্কিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন কমে যাবে।

এসব জায়গা পার্ক, হাঁটার পথ এবং সামাজিক যোগাযোগের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে আবাসন, কর্মক্ষেত্র এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলোকে একে অপরের কাছাকাছি আনা যাবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী শহর গড়ে তোলা সহজ হবে।

ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু বাসস্থানের সংকট সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; গুরুত্ব পাবে সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার এবং ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাড়া গড়ে উঠতে পারে।

এসব আবাসনে ছাদের বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং কাজের জায়গার মতো সুবিধা থাকবে। একই ভবন বা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা যৌথভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। স্থপতি মাইলস স্মিথ এ ধরনের জীবনযাপনকে আধুনিক ‘কান্ট্রি ক্লাব’ ঘরানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সব মিলিয়ে, ২০৫০ সালের আবাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামাজিক সুবিধার সমন্বয় ঘটতে পারে। রোবটনির্ভর নির্মাণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ বাড়ি এবং মানুষকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা ভবিষ্যতের শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা প্রযুক্তির অগ্রগতি, নির্মাণব্যয় এবং কার্যকর নগর পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: নিউজউইক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেটফ্লিক্সে ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই, ৮০০ জন চাকরি হারাতে পারেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


নেটফ্লিক্সে ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই, ৮০০ জন চাকরি হারাতে পারেন

জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৫ শতাংশকে ছাঁটাই করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে প্রায় ৮০০ কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেটফ্লিক্স আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে। প্যাক নিউজের সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তবে, কোন বিভাগে ছাঁটাইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি নেটফ্লিক্সের এক মুখপাত্র।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেটফ্লিক্সে পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার। সেই অনুযায়ী, ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হলে প্রায় ৮০০ জন চাকরি হারাতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ জন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কর্মরত ছিলেন।

এর আগে নেটফ্লিক্স একাধিকবার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ২০২২ সালে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো গ্রাহকসংখ্যা কমে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৫০ কর্মীকে ছাঁটাই করে। চলতি বছরও বৈশ্বিক পণ্য উন্নয়ন দলের কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, নেটফ্লিক্সের রাজস্বে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টেড সারানডোস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের সব ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজস্বে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটির আরও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেটফ্লিক্সের আয় ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, তৃতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।

আগামী ২০ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে নেটফ্লিক্সের। এর আগে সম্ভাব্য কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, কৌশলগত অংশীদারত্ব, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি এবং জলবায়ু অর্থায়নসহ বহুবিধ দ্বিপক্ষীয় বিষয়।

এই বৈঠকটি সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসার এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে আলোচনা হয় বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। এছাড়াও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, "স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।"

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, "বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।" তিনি বলেন, "এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।"

কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়।

কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন

বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতে সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Technical and Vocational Education and Training—TVET) খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডার আগ্রহের কথা জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

ডাল ও তৈলবীজ খাতে সহযোগিতা

বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (International Maize and Wheat Improvement Center—CIMMYT)-এর মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

কৃষক কার্ড ও কৃষি খাতে তথ্য ব্যবস্থাপনা

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।" এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে আলোচনা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড ও দারিদ্র্য বিমোচন

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন ও জলবায়ু অর্থায়ন

বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে কানাডার আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশি-কানাডীয়দের অবদান ও কানাডা সফরের আমন্ত্রণ

বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই। তিনি তাদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কানাডার পক্ষে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসিআই নিয়োগ দেবে, মোবাইল বিল ও দুপুরের খাবারসহ রয়েছে নানান সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


এসিআই নিয়োগ দেবে, মোবাইল বিল ও দুপুরের খাবারসহ রয়েছে নানান সুবিধা

অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (এসিআই) জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার/অফিসার

বিভাগ: ক্রেডিট ইনফরমেশন সেন্টার

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি

অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীদের কম্পিউটারে এমএস অফিসে (বিশেষ করে এক্সেল) দক্ষতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: প্রার্থীদের জন্য ১ থেকে ২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন।

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: শুধু নারী

বয়সসীমা: ২৪ থেকে ৩০ বছর

কর্মস্থল: ঢাকা (তেজগাঁও শিল্প এলাকা)

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রার্থীদের মোবাইল বিল, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদান করা হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%