ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ইয়াবা


রাজশাহীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ইয়াবা

এখন ইয়াবা সংক্রান্ত একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মাত্র এক টাকার একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বাজার থেকে ক্রয় করে, লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়ে ভুয়া ইয়াবা তৈরি করা হচ্ছে। এতে অজানা ওষুধ সেবনের ফলে মাদকাসক্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজশাহীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয়ে থাকে। মাদকসেবীদের আনাগোনা সেখানে চোখে পড়ে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এছাড়া নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকা, হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কৌশলে ইয়াবা এবং ইয়াবার আদলে ওষুধ বিক্রির চক্র গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এসব স্থানে চক্রগুলো প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে তৈরি রং করা মায়াবড়ি ও ডুরালাক্স ট্যাবলেট বিক্রি করছে। বিশেষ করে কম দামে মাদক পাওয়ার আশায়, অনেক তরুণ মাদকসেবী সেখানে ছুটে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবার আদলে এসব রং করা ট্যাবলেট মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ট্যাবলেটের গায়ে লাল বা গোলাপি রঙের মার্কার বা সাইনপেনের কালি লাগিয়ে ইয়াবার রূপ দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রকৃত ইয়াবা বলে মাদকসেবীদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের এসব ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানিয়েছেন, ঘন ঘন অভিযানের কারণে অনেকেই ইয়াবা বিক্রি করছে না। তিনি জানান, একজনের কাছ থেকে দুই পিস ‘মাল’ (ইয়াবা) নিয়েছিলেন ২৮০ টাকা পিস হিসেবে। পরে খাওয়ার সময় দেখেন, সেগুলো আসলে ওষুধ। কারণ, ওই ওষুধ খাওয়ার পর তার পায়খানার বেগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

আরেকজন জানান, এটি ইয়াবার মতো রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু আসলে এটা মায়া বড়ি রং করে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স ইয়াবার আদলে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি অবহিত নন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন যারা

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি অফিসার (অফিসার টু এক্সিকিউটিভ অফিসার)

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন।

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়

প্রার্থীর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে

আবেদনের যোগ্যতা:

- যেকোনো বিষয়ে স্নাতক অথবা এলএলবি/এলএলএম ডিগ্রি থাকতে হবে।

- শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ গ্রহণযোগ্য নয়।

- ন্যূনতম ৪ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৫ টাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লেটভর্তি খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


২৫ টাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লেটভর্তি খাবার

এক প্লেট ভাত, অর্ধেক সিদ্ধ ডিম, পটল ভাজি, আলু ভর্তা, আলু ভাজি ও শাক ভাজির সঙ্গে ডালও মিলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ২৫ টাকায় ছয় পদের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজারের ‘হোটেল মাদারীপুরে’ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই খাবারটি ‘সিস্টেম’ নামে পরিচিত।

দামের দিক থেকে কম হলেও খাবারের মান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে সকাল ও দুপুরের খাবারের সময়ে হোটেলটিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ছয়টি পদ নিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয় বলেই এর প্রচলিত নাম ‘সিক্স আইটেম’। তবে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে এটি ‘সিস্টেম’ নামেই অধিক পরিচিতি পেয়েছে।

‘সিস্টেম’-এর উদ্যোক্তা হোটেল ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। তিনি কুমিল্লার লাকসাম থেকে রাজশাহীতে আসেন জীবিকার সন্ধানে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ষাটের কোঠায়। একসময় রিকশা চালালেও তিনি প্রায় ৩৬ বছর ধরে হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মানিক মিয়া জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে হোটেল মাদারীপুরে ‘সিস্টেম’ চালু রয়েছে। শুরুতে ২০ বছর আগে এই খাবারের দাম ছিল মাত্র ৬ টাকা। সময়ের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ধীরে ধীরে ‘সিস্টেম’-এর দামও বেড়ে বর্তমানে ২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছয় পদের খাবারের মধ্যে রয়েছে এক প্লেট ভাত, অর্ধেক ডিম, পটল ভাজি, আলু ভর্তা, শাক ভাজি ও আলু ভাজি। এর সঙ্গে ডাল সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়। হোটেলে মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছে ‘সিস্টেম’-এর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

হোটেলটির নামকরণের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। মানিক মিয়া জানান, আগে দোকানটির মালিক ছিলেন মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির জেলার নাম অনুসারেই হোটেলটির নাম রাখা হয় ‘হোটেল মাদারীপুর’। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে হোটেলটি চালু রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মানিক মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হোটেলে ৫০০টির বেশি ‘সিস্টেম’ বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি খাবার বিক্রি হয়। ‘সিস্টেম’-এর পাশাপাশি হোটেলে মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারও পাওয়া যায়। সকালে ও দুপুরে ‘সিস্টেম’ বিক্রি হলেও রাতে খিচুড়িসহ অন্যান্য খাবার পরিবেশন করা হয়।

স্টেশন বাজারে হোটেলটির অবস্থান হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও সহজ। এর পাশেই রয়েছে মাদার বখ্শ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল। কিছুটা দূরে রয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল। ফলে এসব আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিয়মিত হোটেলটিতে খাবার খেতে আসেন।

দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটির ‘সিস্টেম’ খাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, "আমি এখানে সাড়ে তিন বছর ধরে খাচ্ছি। এখানকার বিশেষত্ব হচ্ছে কম টাকায় অনেকগুলো আইটেম দিয়ে খাবার খাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের অনেক খরচ থাকে। তাই কম টাকায় যেখানে ভালো খাবার পাওয়া যায়, সেখানেই খাই।" তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখানে খেতে আসেন। খাবারের মানও ভালো।

কম দামে খাবার দেওয়ার বিষয়টিকে হোটেল মালিকের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "সিস্টেম মিল যেন অমাবস্যায় এক আলোর মশাল। ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সবকিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। ঠিক এমন সময়ে ২০–২৫ টাকায় তৃপ্তি করে খাওয়া যায়—এটি আমাদের কাছে মানবিক উদ্যোগ। একই সঙ্গে অন্য হোটেল মালিকদের জন্যও এটি অনুকরণীয়। রাবি শিক্ষার্থীদের গল্প-কথায় হোটেলটি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

শহীদ শামসুজ্জোহা হলে থাকা শিক্ষার্থী জুবাইর হোসেনও মাঝেমধ্যে হোটেলটিতে খেতে যান। তিনি বলেন, "এত কম দামে এমন খাবার রাজশাহীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। কম দাম হলেও খাবারটি বেশ তৃপ্তিদায়ক।"

দ্রব্যমূল্যের চাপে যখন স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের খাবারের খরচও বাড়ছে, তখন ২৫ টাকার এই ‘সিস্টেম’ শুধুমাত্র একটি সস্তা খাবারের নাম নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে রাবির শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিচিত নাম। ৩৬ বছর ধরে টিকে থাকা হোটেল মাদারীপুর তাই হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের সংস্কৃতিরও একটি ছোট্ট অংশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, প্রভিডেন্ট ফান্ড-মুনাফার অংশসহ রয়েছে নানান সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, প্রভিডেন্ট ফান্ড-মুনাফার অংশসহ রয়েছে নানান সুবিধা

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: টেরিটরি সেলস ম্যানেজার

বিভাগ: কম্পিউটার প্রোডাক্টস

পদসংখ্যা: ২

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে বিবিএ বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি।

অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইটি পণ্য বিক্রয় ও বিতরণের ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ থেকে ৩ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: মাঠ পর্যায়ে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৩০ বছর

কর্মস্থল: কুমিল্লা, রাজশাহী

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধা হিসেবে প্রভিডেন্ট ফান্ড, মোবাইল বিল, পারফরম্যান্স বোনাস, বিমা, লভ্যাংশ বা মুনাফার অংশ, বছরে ২টি উৎসবকালীন বোনাস এবং প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাবার পরিবেশনে কাগজের ব্যবহার: স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে অজান্তেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


খাবার পরিবেশনে কাগজের ব্যবহার: স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে অজান্তেই

বাসে বসে জানালা দিয়ে আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা কেনার অভ্যাস অনেকের। পথে হাঁটতে হাঁটতে ঝালমুড়ি, ছোলা বা ভাজাপোড়া খাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। অফিসের নিচে আড্ডার ফাঁকে গরম শিঙাড়া, পুরি কিংবা পিঠা খাওয়াও অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। তবে, যদি এসব খাবার কাগজের ঠোঙা, পুরোনো পত্রিকা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে পরিবেশন করা হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

খাবার পরিবেশনে কাগজ ব্যবহার অনেকের কাছে সহজ ও সাশ্রয়ী মনে হলেও, এতে খাবারের সঙ্গে কাগজের কালি ও বিভিন্ন জীবাণু মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কাগজের ঠোঙায় খাবার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

রাস্তার পাশে খাবারের দোকান বা ফেরিওয়ালাদের অনেক সময় পত্রিকার পাতা, সাধারণ কাগজ কিংবা কাগজের ঠোঙায় খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। আচার, আমড়া, শসা, ঝালমুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, ফুচকা, শিঙাড়া, পুরি, জিলাপি, পরোটা কিংবা লুচির মতো খাবার এসব কাগজে পরিবেশন করা হয়।

অনেক সময় খাবারের বাড়তি তেল শুষে নেওয়ার জন্য কিংবা চামচের বিকল্প হিসেবেও কাগজ ব্যবহার করা হয়। এতে কাগজের কালি খাবারের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে কাগজে পানি বা তেল লাগলে কালির কিছু উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

কালির ক্ষতিকর উপাদান খাবারে মিশতে পারে। কাগজের ছাপার কালিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর মধ্যে কিডনি ও লিভারের প্রদাহ, হৃদ্‌রোগ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, বৃহদান্তর ও লিভারের মতো অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

গরম ও তেলযুক্ত খাবারে ঝুঁকি বেশি

শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, পরোটা বা ভাজাপোড়ার মতো গরম ও তেলযুক্ত খাবার কাগজে রাখলে কাগজের কালি খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ বাড়ে। একইভাবে শসা, আমড়া বা আচারের মতো ভেজা খাবারও কাগজের কালি ও অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে আসে।

তেল ও পানি কাগজের কিছু রাসায়নিক উপাদান খাবারের দিকে স্থানান্তরে সহায়তা করতে পারে। ফলে কাগজে রাখা খাবার খাওয়ার সময় অজান্তেই এসব উপাদান শরীরে ঢুকে যেতে পারে।

পুরোনো কাগজে থাকতে পারে জীবাণু

শুধু কালিই নয়, অপরিষ্কার বা পুরোনো কাগজেও বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকতে পারে। এমন কাগজ খাবারের সংস্পর্শে এলে জীবাণু খাবারে চলে আসার আশঙ্কা থাকে।

পরে সেই খাবার খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য পেটের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কাগজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া খাবার খান, তাদের এ বিষয়ে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদে কাগজের কালি ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে।

চিকিৎসকের পরামর্শ

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং খাবার রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও খাদ্য রাখার উপযোগী কাগজ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ ছাপানো কাগজ, পত্রিকার পাতা কিংবা হাতে লেখা কাগজে খাবার দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

খাবার পরিবেশনের জন্য পরিষ্কার সাদা কাগজ, টিস্যু বা কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রঙিন টিস্যু ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে গরম, তেলযুক্ত বা ভেজা খাবার পত্রিকার পাতা কিংবা সাধারণ ছাপানো কাগজে না রাখাই নিরাপদ।

ক্রেতাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কাগজের ঠোঙা বা পত্রিকার পাতায় দেওয়া খাবার এড়িয়ে নিরাপদভাবে পরিবেশন করা খাবার বেছে নিলে বিক্রেতারাও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাগজের ব্যবহার কমাতে উৎসাহিত হবেন।

তাহলে রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাবারটি কী, সেটিই নয়—কোন পাত্র বা কাগজে খাবারটি দেওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%