ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে দুই দিনব্যাপী ‘রাকসু হেলথ ক্যাম্প’ আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগ।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়।

ক্যাম্পটি ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ১৬টি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১৫ ধরনের বিনামূল্যের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ (ডিসিআর) এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), রাজশাহী।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পে নাক-কান-গলা, লিভার, কিডনি, বক্ষব্যাধি, গাইনি ও মেডিসিনসহ ১৬টি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, রিফ্র্যাকশন টেস্ট ও ফিজিওথেরাপিসহ প্রায় ১৫ ধরনের বিনামূল্যের মেডিকেল পরীক্ষা করানো যাবে। ক্যাম্পের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট একই দিনে, দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডিসিআরের প্রতিনিধি ড. ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, "শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একই জায়গায় চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের পোর্টেবল ল্যাবে পরীক্ষা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীর বয়স, উচ্চতা, ওজন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো, রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে জটিলতা ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমানো। এ লক্ষ্যে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ গত ১৮ বছর ধরে কাজ করছে।"

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেছেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবাও ঠিকমতো পান না। সেখানে এক জায়গায় এতগুলো সেবা পাওয়া এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়া অবিশ্বাস্য।"

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ মন্তব্য করেছেন, "আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমরা দোয়া করি, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা এই চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠুক।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান বলেছেন, "এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যারা উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি লাভ করবে।"

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান। এছাড়া অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনডিএফ এবং ডিসিআরের চিকিৎসক, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ রাকসুর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবির ছাত্রী হলে ল্যাপটপ ও টাকা চুরি, প্রশাসনের দায়সারা বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


জবির ছাত্রী হলে ল্যাপটপ ও টাকা চুরি, প্রশাসনের দায়সারা বক্তব্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে একটি কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকলেও তা নিয়ে হল প্রশাসনের ভূমিকা এবং বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রত্যাশিত সহযোগিতা না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী আফসানা মিমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর হলের ১৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। এর পরদিন ৮ অক্টোবর একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী এশার আলমারি থেকে দুই হাজার টাকার বেশি খোয়া যায়। ঘটনার পর হল প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিমি জানান, ৬ অক্টোবর রাতে ল্যাপটপটি ব্যাগে ভরে বিছানার মাথার কাছে রেখেছিলেন তিনি। পরদিন দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কক্ষে ছিলেন না। ওই সময়ের মধ্যেই ল্যাপটপটি চুরি হয়েছে বলে ধারণা তাঁর। ৮ অক্টোবর সকালে একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থীর টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা জানার পর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুরে ক্লাস থেকে ফিরে নিজের ব্যাগে ল্যাপটপটি পাননি তিনি। পরে পুরো ফ্লোরে খোঁজ করেও সেটির সন্ধান মেলেনি।

ঘটনার পর হল প্রভোস্ট ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন মিমি। পরে তাঁদের জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই অচল।

মিমি বলেন, "আমার ল্যাপটপ ও সহপাঠীর টাকা চুরি হওয়ার পর আমরা হল কর্তৃপক্ষের কাছে যাই। কিন্তু দুই-তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর তারা জানায়, ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই নষ্ট। তারা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একটা ফ্লোরে ৮০-৯০ জন মেয়ে থাকে। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে সিসিটিভি নষ্ট, অথচ তারা খেয়াল করেনি। হল কর্তৃপক্ষের এই অসাবধানতার কারণে আমার যে ক্ষতি হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।"

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট আঞ্জুমান আরা আরটিভিকে বলেন, "দুই দিন আগে ইঁদুরে সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। আর শিক্ষার্থী ঠিক কবে ল্যাপটপ হারিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাঁর বান্ধবীর টাকা খুঁজতে গিয়ে তিনি ল্যাপটপটি নেই বলে দেখতে পান।"

প্রভোস্ট আরও বলেন, "হলে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো কিছু হারিয়ে গেলে এর দায়ভার হল প্রশাসন নেবে না। আমরা কয়েকবার ওই কক্ষের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এ ঘটনায় রোববার একটি সভা ডেকেছি। কক্ষে কে বা কারা আসা-যাওয়া করেন, তা তো আমাদের জানা থাকে না।"

হলের নিরাপত্তা জোরদারে প্রবেশপথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রভোস্ট বলেন, "এ ব্যবস্থা চালু করলে বাইরে থেকে অতিথি আনতে না পারার কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আপত্তি তুলতে পারেন। আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থী তার টিউশনির কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি খুঁজে বের করতে।"

উল্লেখ্য, চুরির ঘটনায় হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়মিত তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় হলের শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুবিতে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আনলিমিটেড ডাল-ভাত, ভর্তা-ডিমসহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


খুবিতে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আনলিমিটেড ডাল-ভাত, ভর্তা-ডিমসহ

সকালের খাবারের জন্য ১৫ টাকা খরচ করলে শিক্ষার্থীরা ভাত, ডাল, ভর্তা এবং একটি ডিম পাচ্ছেন। ভাত ও ডাল রয়েছে আনলিমিটেড। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খান জাহান আলী হলের ডাইনিংয়ে এই খাবারের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু রয়েছে। তবে, প্রতিদিন ডিম সরবরাহ করা হয় না। ডিমের অভাবে ভাত, ডাল ও ভর্তা একই মূল্যে প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী সকালের খাবার সরবরাহের উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। খাবারের মূল্য ১৫ টাকা হলেও, খাবারের মান ও মূল্য সমন্বয়ের জন্য হল প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডাইনিংয়ে ভর্তুকি প্রদান করছে। এই মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামের খাবারের ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খান জাহান আলী হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলমের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ টাকার সকালের খাবারের উদ্যোগটি শুরু হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, "এটি ছিল মূলত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া একটি ছাত্রবান্ধব উদ্যোগ। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, চড়া বাজারদরের মধ্যেও যেন কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে সকালের খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং স্বস্তিতে একটি পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে।" খাবারের দাম কম রাখার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণ ও মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রাধ্যক্ষের চালু করা এই ব্যবস্থা বর্তমানে হল প্রশাসন অব্যাহত রেখেছে। খান জাহান আলী হলের বর্তমান প্রাধ্যক্ষ ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বর্তমানে হলে যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো দৃশ্যমান, তার মূল ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম স্যার। আমি মূলত তাঁর রেখে যাওয়া ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব কাজগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।"

ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্য ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি জানান, হল প্রশাসনের সহায়তায় এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খাবারের মান ও মূল্য ঠিক রাখতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।

বর্তমানে খান জাহান আলী হলের ডাইনিংয়ে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সকালের খাবারের জন্য যার মূল্য দাঁড়ায় ৮৫ টাকা।

হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সরদার লালটু মিয়াও বিষয়টি নিয়ে বলেন, "শিক্ষার্থীরা যাতে কম খরচে ও সহজলভ্যে খাবার খেতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রভোস্ট মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া হয়। মূলত খাবারের মূল্য শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে রাখতেই এই ব্যবস্থা।"

ডাইনিংয়ে প্রতিদিনের খাবারের মেনু, খাবারের মান, বাজার ব্যবস্থাপনা তথা আনুষঙ্গিক সকল কিছুর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন ডাইনিং ম্যানেজাররা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার গ্রহণের অভিজ্ঞতাতেও এ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে আসে।

অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি বলেন, "এখন বাইরে সাধারণ একটা ডিম কিনতেই ১২ টাকা লেগে যায়। সেখানে আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় ভাত, ডাল, ভর্তার সঙ্গে ডিমও পাওয়া যাচ্ছে-এটা বিশাল এক সাপোর্ট। আর ডাল-ভাত তো আনলিমিটেড, পেট ভরে খাওয়া যায়।"

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির বলেন, "সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, সেখানে হলরোডের হোটেল বা ক্যান্টিনে সকালে খাওয়াটা বেশ খরচের ব্যাপার। সেই জায়গায় আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় সকালের এই খাবারের ব্যবস্থা সত্যি খুব উপকারে আসছে।"

শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবারের সুযোগ ধরে রাখতে হল প্রশাসনের ভর্তুকি এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের ব্যবস্থাপনা-দুইয়ের সমন্বয়ে চলছে ১৫ টাকার এ সকালের খাবারের ব্যবস্থা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের নামে প্রকৃতি ধ্বংস, অপরাধীদের বিচার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


যুদ্ধের নামে প্রকৃতি ধ্বংস, অপরাধীদের বিচার দাবি ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুদ্ধের ফলে পরিবেশের ক্ষতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশের ধ্বংস শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ ধ্বংস: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে আরাঘচি বলেন, পরিবেশ মানবজাতির একটি অভিন্ন সম্পদ। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, সামরিক সংঘাত বা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে পরিবেশকে ধ্বংস করা উচিত নয়।

‘ইকোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করে তিনি বলেন, এই ধারণা গণহত্যার মতোই গুরুতর। যুদ্ধের ফলে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে পানি, মাটি, বায়ু, বন, কৃষিজমি, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

গাজার পরিবেশগত বিপর্যয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে জলপাইবাগান ধ্বংস এবং পানি ও মাটি দূষিত হওয়ার মতো নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে আগুনে বনভূমি ও হাজার হাজার জলপাইগাছের ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে আরাঘচি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এসব হামলায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন।

পরিবেশ ধ্বংস মোকাবিলায় তিনটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান আরাঘচি। এই তিনটি ক্ষেত্র হলো—পরিবেশ ধ্বংস শনাক্ত ও মোকাবিলায় স্পষ্ট আইন ও মানদণ্ড তৈরি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নথিবদ্ধ করতে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

আরাঘচি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ইরান। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক, আইনি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে দেশটি প্রস্তুত। সামরিক হামলায় পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা বাড়ানোর জন্য আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-কে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

সূত্র: মেহের নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবিতে মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


জবিতে মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্যচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে আবাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য উল্লেখ করেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানের চাহিদা এবং পেশাগত গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে এই বিষয়ে পেশাগত সুযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার জন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনসংকট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাব শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। এসব সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি করার বিষয়ে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন উপাচার্য।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আশোক কুমার সাহা। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান।

সেমিনারের শেষে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তিনটি শিরোনামে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে স্থাপিত ‘মেন্টাল হেলথ অ্যাসেসমেন্ট’ স্টল পরিদর্শন করেন উপাচার্য। এসব স্টলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও আত্মসম্মানবিষয়ক মূল্যায়নের পাশাপাশি বিনা মূল্যে পরামর্শসেবা প্রদান করা হয়।

‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%