প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সকালের খাবারের জন্য ১৫ টাকা খরচ করলে শিক্ষার্থীরা ভাত, ডাল, ভর্তা এবং একটি ডিম পাচ্ছেন। ভাত ও ডাল রয়েছে আনলিমিটেড। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খান জাহান আলী হলের ডাইনিংয়ে এই খাবারের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু রয়েছে। তবে, প্রতিদিন ডিম সরবরাহ করা হয় না। ডিমের অভাবে ভাত, ডাল ও ভর্তা একই মূল্যে প্রদান করা হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী সকালের খাবার সরবরাহের উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। খাবারের মূল্য ১৫ টাকা হলেও, খাবারের মান ও মূল্য সমন্বয়ের জন্য হল প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডাইনিংয়ে ভর্তুকি প্রদান করছে। এই মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামের খাবারের ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খান জাহান আলী হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলমের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ টাকার সকালের খাবারের উদ্যোগটি শুরু হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, "এটি ছিল মূলত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেওয়া একটি ছাত্রবান্ধব উদ্যোগ। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, চড়া বাজারদরের মধ্যেও যেন কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে সকালের খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং স্বস্তিতে একটি পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে।" খাবারের দাম কম রাখার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণ ও মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রাধ্যক্ষের চালু করা এই ব্যবস্থা বর্তমানে হল প্রশাসন অব্যাহত রেখেছে। খান জাহান আলী হলের বর্তমান প্রাধ্যক্ষ ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বর্তমানে হলে যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো দৃশ্যমান, তার মূল ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম স্যার। আমি মূলত তাঁর রেখে যাওয়া ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব কাজগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।"
ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্য ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি জানান, হল প্রশাসনের সহায়তায় এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খাবারের মান ও মূল্য ঠিক রাখতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।
বর্তমানে খান জাহান আলী হলের ডাইনিংয়ে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সকালের খাবারের জন্য যার মূল্য দাঁড়ায় ৮৫ টাকা।
হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সরদার লালটু মিয়াও বিষয়টি নিয়ে বলেন, "শিক্ষার্থীরা যাতে কম খরচে ও সহজলভ্যে খাবার খেতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রভোস্ট মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া হয়। মূলত খাবারের মূল্য শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে রাখতেই এই ব্যবস্থা।"
ডাইনিংয়ে প্রতিদিনের খাবারের মেনু, খাবারের মান, বাজার ব্যবস্থাপনা তথা আনুষঙ্গিক সকল কিছুর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন ডাইনিং ম্যানেজাররা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার গ্রহণের অভিজ্ঞতাতেও এ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে আসে।
অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি বলেন, "এখন বাইরে সাধারণ একটা ডিম কিনতেই ১২ টাকা লেগে যায়। সেখানে আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় ভাত, ডাল, ভর্তার সঙ্গে ডিমও পাওয়া যাচ্ছে-এটা বিশাল এক সাপোর্ট। আর ডাল-ভাত তো আনলিমিটেড, পেট ভরে খাওয়া যায়।"
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির বলেন, "সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, সেখানে হলরোডের হোটেল বা ক্যান্টিনে সকালে খাওয়াটা বেশ খরচের ব্যাপার। সেই জায়গায় আমাদের হলের ডাইনিংয়ে ১৫ টাকায় সকালের এই খাবারের ব্যবস্থা সত্যি খুব উপকারে আসছে।"
শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবারের সুযোগ ধরে রাখতে হল প্রশাসনের ভর্তুকি এবং ডাইনিং ম্যানেজারদের ব্যবস্থাপনা-দুইয়ের সমন্বয়ে চলছে ১৫ টাকার এ সকালের খাবারের ব্যবস্থা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন