ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জবি উপাচার্যের পিএসের আচরণে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা


জবি উপাচার্যের পিএসের আচরণে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি জকসুর এক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আরও কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

অভিযোগকারীদের মতে, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়ার সময় পিএসের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। অনেকের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা হয়েছে এবং সাক্ষাতের বিষয়ে পরে জানানো হবে বলেও কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগস্টের পর ডিন অফিস পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইতে গিয়ে তাকে প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার অভিযোগ, সাক্ষাতের বিষয়টি উপাচার্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন। প্রথমে চেয়ারম্যান ছাড়া দেখা করা যাবে না বলে জানানো হয়। পরে চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে সময় চাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এরপর আর সাক্ষাতের সময় বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, পিএসের আচরণে সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্ট ও মন্তব্যে ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে ‘রূঢ়’, ‘বদমেজাজী’ ও ‘অসহযোগিতামূলক’ মন্তব্য করা হয়েছে।

সম্প্রতি জকসুর হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেতে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, বার্ষিক ফেস্ট আয়োজনের বিষয়ে সময় চাইতে গেলে পিএস প্রথমে জানান, সাক্ষাতের সময় দেওয়ার দায়িত্ব তার নয়। পরে দায়িত্ব তার ওপর থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট দিনের সাক্ষাতের কথা উপাচার্যকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ফাতেমা তুজ জোহরা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে উপাচার্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। শুধু সাক্ষাতের সময় জানার জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সময়সূচি জানাতে অনুরোধ করলে পিএস উচ্চস্বরে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি সময়সূচি দেবেন না বলেও জানান বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।

এসব অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার পদ্ধতি এবং উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আপনাদের সাংবাদিকদের কয়েকজনের মাধ্যমে মাত্রই বিষয়টি জানলাম। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পিএসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী না।”

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

উল্লেখ্য, এর আগেও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দিনাজপুরের মানুষ নিজেদের বঞ্চিত ভাবার সুযোগ নেই’— সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


‘দিনাজপুরের মানুষ নিজেদের বঞ্চিত ভাবার সুযোগ নেই’— সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান

দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সরকারদলীয় হুইপ মো: আখতারুজ্জামান মিয়া মন্তব্য করেছেন যে, দিনাজপুরের মানুষ নিজেদের বঞ্চিত ভাবার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা নিজেদেরকে কোথায় নিয়ে যেতে চান সেটা আপনাদেরকে ঠিক করতে হবে।"

এই বক্তব্যগুলো তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলা সমিতির নবীনবরণ ও বিদায়ী সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রদান করেন।

হুইপ আরও বলেন, "আমরা কোন জায়গায় আছি, কী করতে চাই, সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষের দেশের আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান থাকতে হবে, আইন মানতে হবে। আমি মানুষ এবং মানুষের সাথেই আমার সবচেয়ে বড় সম্পর্ক থাকবে।"

তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নবীন শিক্ষার্থীরা কী হতে চাও, সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। সর্বদা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি আদায় করতে হবে। আমাদের সবাইকে কিছু না কিছু করতে হবে। নিজেদের মধ্যে চেষ্টার মানসিকতা থাকতে হবে সর্বোচ্চ। আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞান সৃষ্টিকর্তা যতটুকু দান করেছেন, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করব।"

এসময় দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "আমাদের প্রকৃত মানুষ হতে হবে। মানুষকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান অনেকটাই কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান রাখবে।"

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, "দিনাজপুর জেলা ছাত্র-কল্যাণ সমিতি যেন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন হয়। ব্যক্তির মতভেদ থাকলেও এই সংগঠনটি যেন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে।"

এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর মো. কামরুজ্জামান, দিনাজপুরস্থ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগেভাগে পৌঁছে ভারতীয় অ্যাথলিটরা চরম অপমান ও ভোগান্তির শিকার, লবিতেই রাত কাটাতে হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


আগেভাগে পৌঁছে ভারতীয় অ্যাথলিটরা চরম অপমান ও ভোগান্তির শিকার, লবিতেই রাত কাটাতে হলো

ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো বেশ কিছু ডিসিপ্লিনের খেলা শুরু হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। বহুজাতিক এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই নেতিবাচক খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আয়োজক দেশ জাপান। দক্ষিণ কোরিয়া টুর্নামেন্টের আবাসন ব্যবস্থাকে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে’ বলে অভিহিত করেছে। একই অভিযোগ করেছে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ।

বিভিন্ন দেশের অ্যাথলিটরা মূলত থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতি সামলাতে আয়োজক দেশ ক্রুজ জাহাজও প্রস্তুত রেখেছে।

এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, রোয়িং, অ্যাথলেটিক্স, শুটিংয়ের দল কয়েক ধাপে ইতোমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে আয়োজক শহর আইচি-নাগোয়ায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা থাকার রুম পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষত রোয়িং বা শুটিংয়ের মতো যেসব খেলার দল সবার আগে পৌঁছেছে, তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেককেই ঘর পাওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। দেখা গেছে, দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তির কারণে বহু ক্রীড়াবিদ গেমস সেন্টারের লবিতে থাকা সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইচি-নাগোয়ায় পৌঁছে গিয়েছিল ভারতের শুটিং দল। কিন্তু তাদের ঘর দেওয়া হয়নি। ফলে সারা রাত লবিতেই কাটাতে হয়েছে শুটারদের। অবশেষে ভোরের দিকে তাদের জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়। ক্রীড়াবিদদের থেকেও খারাপ অবস্থায় ছিলেন সাপোর্ট স্টাফরা, কারণ তাদের ঘর পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও বেশি সময়।

ভারতের এক কোচ আইচি-নাগোয়া থেকে গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা বুধবার এসেছি। যারা মঙ্গলবার এসেছে, সবচেয়ে বেশি ভুগেছে তারা। কারণ প্রথমদিকে একেবারে অচলাবস্থা ছিল। আমরা যখন এসেছি, পরিস্থিতি সামান্য হলেও উন্নত হয়েছে। তারপরও আমাদের প্লেয়াররা ঘণ্টা দু’য়েক অপেক্ষা করেছে ঘর পাওয়ার জন্য। ওদের ক্রুজে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ঘর তখন দেওয়া হয়নি। জায়গা পেলাম রাতের দিকে। আমরা স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ এসেছি। আর আমাদের ঘর দেওয়া হল রাত দশটার দিকে। তাও আবার গেমস সেন্টার থেকে অনেকটা দূরে। সেন্টার থেকে বাসে করে রাত এগারোটার দিকে হোটেলে এসেছি।’

এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে খেলোয়াড়দের রুম বরাদ্দ না রাখা চরম অপমানের শামিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে ৩'শ সদস্য নিয়ে আবারও অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে ৩

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ রোধ এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন স্থানে এই অভিযানটি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

অভিযানে অংশগ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক সদস্য, যার মধ্যে রয়েছে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি, এপিবিএন। অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম মন্তব্য করেন, "সমন্বিত এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ প্রতিরোধ, সম্ভাব্য নাশকতার প্রস্তুতি নস্যাৎ এবং অপরাধ সংঘটনের অনুকূল পরিবেশ রোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

জঙ্গল সলিমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় জননিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের চাপে ভারত, আরব সাগরে দুই জাহাজের সংঘর্ষে নতুন উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


পাকিস্তানের চাপে ভারত, আরব সাগরে দুই জাহাজের সংঘর্ষে নতুন উত্তেজনা

আরব সাগরে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তান এবার ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করেছে। মঙ্গলবার রাতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা পাহারা দেওয়ার সময় ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, সংঘর্ষটি কোথায় এবং কী ধরনের জাহাজের মধ্যে হয়েছে, তা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

ঘটনার পর, প্রথমে ভারতের দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কূটনীতিবিদকে তলব করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তারা ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের শীর্ষ কূটনীতিবিদকেও ডেকে পাঠিয়েছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য।

গত বছর পেহেলগামের ঘটনার পর, বর্তমানে দুই দেশেই কোনো রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত নেই। এর পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন, যাদের কাছে উভয় দেশের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান নৌবাহিনীর সি স্পার্ক ২৬ মহড়া চলাকালে একটি ভারতীয় জাহাজ পাকিস্তানি একটি জাহাজের নিকটবর্তী হয়ে আক্রমণাত্মকভাবে অগ্রসর হয়, যার ফলে সংঘর্ষ ঘটে।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংঘর্ষের সঠিক স্থান এবং জাহাজের ধরন উল্লেখ করা হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এটি ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।

• কী বলছে ভারত ও পাকিস্তান?

বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানি হাই কমিশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ইউনিটের অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণের কারণে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ছিল ১৯৯১ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত অনুশীলন ও সৈন্য চলাচলের আগাম বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে যেন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং এর জন্য সব সামরিক ইউনিটের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পাকিস্তানের উচিত উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাসঙ্গিক চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলা।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে নৌবাহিনীর সি স্পার্ক-২০২৬ মহড়া চলাকালে একটি ভারতীয় জাহাজ আগ্রাসী আচরণ করে এবং একটি পাকিস্তানি জাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে।

বুধবার রাতে প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া, যুদ্ধসংক্রান্ত চলাচল ও সেনা স্থানান্তরের বিষয়ে পূর্ব অবহিতকরণ সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। পাশাপাশি এটি এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তার সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে যে, ভারতীয় পদক্ষেপ পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো, বিশেষ করে সমুদ্রে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধসংক্রান্ত চুক্তিগুলো পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারও একই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। এই ঘটনায় পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে।

• ১৯৯১ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কী চুক্তি হয়েছিল?

১৯৯১ সালের এপ্রিলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক মহড়া, রণকৌশলগত অনুশীলন এবং সৈন্য চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিশ বা বার্তা প্রদানের নিয়মাবলি নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এই চুক্তির উদ্দেশ্য, উভয় দেশের মধ্যে কোনো সামরিক মহড়া বা সৈন্য চলাচলের সময়ে যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। এই চুক্তিতে বলা আছে, উভয় দেশের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী একে অপরের কাছাকাছি এলাকায় কোনো সামরিক মহড়া পরিচালনা করতে পারবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবারের সংঘর্ষকে ওই চুক্তির ১০ নম্বর ধারার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে, যার মধ্যে ১৫টি পৃথক ধারা রয়েছে। ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে উভয় দেশের নৌ-জাহাজ ও সাবমেরিনগুলোর একে অপরের থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক।

পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অলোক বনসলের মতে, ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি যদি কোনো ফ্রন্ট-লাইন বা সম্মুখসারির বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ হতো এবং সেটি যদি পাকিস্তানি বোটটিকে আঘাত করে ডুবিয়ে দিত, তবে তা অহেতুক একটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হতে পারত।

ভারতীয় নৌসেনার অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্সের প্রাক্তন ডিরেক্টর কমোডোর রঞ্জিত রাই সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন এটি খুবই ইন্টারেস্টিং একটি ঘটনা।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের পিএনএস হুনেন নামের ফ্রিগেটটি ২৩০০ টন ওজনের যুদ্ধ জাহাজ, যা রোমানিয়ায় নির্মিত। এতে ছোট আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান রয়েছে এবং এটি একটি হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম। সম্ভবত এটি সি-স্পার্ক ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল।

পাকিস্তানের নৌবাহিনী যখনই সি-স্পার্কের মতো কোনো মহড়া চালায়, তখন ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের প্রতিবেশী বা প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখে এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে। তারা দেখে কোন ধরনের বিমান উড়ছে এবং কী গতিতে চলছে।

তার মতে, যেহেতু ঘটনাটি গোয়াদর উপকূলের কাছে ঘটেছে, তাই সম্ভবত ভারতীয় নৌবাহিনীও তখন সেখানে নজরদারি চালাচ্ছিল। গোয়াদর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং ভারত সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকে। তখনই পাকিস্তানি জাহাজটি ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজের খুব কাছাকাছি এসে থাকতে পারে।

‘ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি নিশ্চয়ই একটি ফ্রিগেট ছিল যেমন সুরাত বা নীলগিরি শ্রেণির জাহাজ। বড়সড় সেই জাহাজটি সম্ভবত ওই নৌ-মহড়ায় কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করতেই সেখানে গিয়েছিল,’ বলেন তিনি।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ডি কে শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, সমুদ্রে দুটি জাহাজের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে; তা যুদ্ধজাহাজ হোক কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ। দুটি জাহাজের এভাবে খুব কাছাকাছি চলে আসাটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং এর ফলে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%