শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৯ পি.এম
ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো বেশ কিছু ডিসিপ্লিনের খেলা শুরু হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। বহুজাতিক এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই নেতিবাচক খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আয়োজক দেশ জাপান। দক্ষিণ কোরিয়া টুর্নামেন্টের আবাসন ব্যবস্থাকে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে’ বলে অভিহিত করেছে। একই অভিযোগ করেছে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ।
বিভিন্ন দেশের অ্যাথলিটরা মূলত থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতি সামলাতে আয়োজক দেশ ক্রুজ জাহাজও প্রস্তুত রেখেছে।
এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, রোয়িং, অ্যাথলেটিক্স, শুটিংয়ের দল কয়েক ধাপে ইতোমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে আয়োজক শহর আইচি-নাগোয়ায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা থাকার রুম পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষত রোয়িং বা শুটিংয়ের মতো যেসব খেলার দল সবার আগে পৌঁছেছে, তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেককেই ঘর পাওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। দেখা গেছে, দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তির কারণে বহু ক্রীড়াবিদ গেমস সেন্টারের লবিতে থাকা সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইচি-নাগোয়ায় পৌঁছে গিয়েছিল ভারতের শুটিং দল। কিন্তু তাদের ঘর দেওয়া হয়নি। ফলে সারা রাত লবিতেই কাটাতে হয়েছে শুটারদের। অবশেষে ভোরের দিকে তাদের জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়। ক্রীড়াবিদদের থেকেও খারাপ অবস্থায় ছিলেন সাপোর্ট স্টাফরা, কারণ তাদের ঘর পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও বেশি সময়।
ভারতের এক কোচ আইচি-নাগোয়া থেকে গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা বুধবার এসেছি। যারা মঙ্গলবার এসেছে, সবচেয়ে বেশি ভুগেছে তারা। কারণ প্রথমদিকে একেবারে অচলাবস্থা ছিল। আমরা যখন এসেছি, পরিস্থিতি সামান্য হলেও উন্নত হয়েছে। তারপরও আমাদের প্লেয়াররা ঘণ্টা দু’য়েক অপেক্ষা করেছে ঘর পাওয়ার জন্য। ওদের ক্রুজে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ঘর তখন দেওয়া হয়নি। জায়গা পেলাম রাতের দিকে। আমরা স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ এসেছি। আর আমাদের ঘর দেওয়া হল রাত দশটার দিকে। তাও আবার গেমস সেন্টার থেকে অনেকটা দূরে। সেন্টার থেকে বাসে করে রাত এগারোটার দিকে হোটেলে এসেছি।’
এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে খেলোয়াড়দের রুম বরাদ্দ না রাখা চরম অপমানের শামিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ রোধ এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন স্থানে এই অভিযানটি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন শতাধিক সদস্য, যার মধ্যে রয়েছে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি, এপিবিএন। অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম মন্তব্য করেন, "সমন্বিত এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ প্রতিরোধ, সম্ভাব্য নাশকতার প্রস্তুতি নস্যাৎ এবং অপরাধ সংঘটনের অনুকূল পরিবেশ রোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
জঙ্গল সলিমপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় জননিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আরব সাগরে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তান এবার ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করেছে। মঙ্গলবার রাতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা পাহারা দেওয়ার সময় ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, সংঘর্ষটি কোথায় এবং কী ধরনের জাহাজের মধ্যে হয়েছে, তা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
ঘটনার পর, প্রথমে ভারতের দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কূটনীতিবিদকে তলব করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তারা ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের শীর্ষ কূটনীতিবিদকেও ডেকে পাঠিয়েছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য।
গত বছর পেহেলগামের ঘটনার পর, বর্তমানে দুই দেশেই কোনো রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত নেই। এর পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন, যাদের কাছে উভয় দেশের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান নৌবাহিনীর সি স্পার্ক ২৬ মহড়া চলাকালে একটি ভারতীয় জাহাজ পাকিস্তানি একটি জাহাজের নিকটবর্তী হয়ে আক্রমণাত্মকভাবে অগ্রসর হয়, যার ফলে সংঘর্ষ ঘটে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংঘর্ষের সঠিক স্থান এবং জাহাজের ধরন উল্লেখ করা হয়নি। তবে তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। তারা অভিযোগ করেছে, এটি ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
• কী বলছে ভারত ও পাকিস্তান?
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানি হাই কমিশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ইউনিটের অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণের কারণে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ছিল ১৯৯১ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত অনুশীলন ও সৈন্য চলাচলের আগাম বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে যেন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং এর জন্য সব সামরিক ইউনিটের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পাকিস্তানের উচিত উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাসঙ্গিক চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলা।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে নৌবাহিনীর সি স্পার্ক-২০২৬ মহড়া চলাকালে একটি ভারতীয় জাহাজ আগ্রাসী আচরণ করে এবং একটি পাকিস্তানি জাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে।
বুধবার রাতে প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া, যুদ্ধসংক্রান্ত চলাচল ও সেনা স্থানান্তরের বিষয়ে পূর্ব অবহিতকরণ সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। পাশাপাশি এটি এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তার সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে যে, ভারতীয় পদক্ষেপ পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো, বিশেষ করে সমুদ্রে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধসংক্রান্ত চুক্তিগুলো পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারও একই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। এই ঘটনায় পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে।
• ১৯৯১ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কী চুক্তি হয়েছিল?
১৯৯১ সালের এপ্রিলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক মহড়া, রণকৌশলগত অনুশীলন এবং সৈন্য চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিশ বা বার্তা প্রদানের নিয়মাবলি নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির উদ্দেশ্য, উভয় দেশের মধ্যে কোনো সামরিক মহড়া বা সৈন্য চলাচলের সময়ে যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। এই চুক্তিতে বলা আছে, উভয় দেশের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী একে অপরের কাছাকাছি এলাকায় কোনো সামরিক মহড়া পরিচালনা করতে পারবে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবারের সংঘর্ষকে ওই চুক্তির ১০ নম্বর ধারার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে, যার মধ্যে ১৫টি পৃথক ধারা রয়েছে। ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে উভয় দেশের নৌ-জাহাজ ও সাবমেরিনগুলোর একে অপরের থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক।
পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অলোক বনসলের মতে, ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি যদি কোনো ফ্রন্ট-লাইন বা সম্মুখসারির বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ হতো এবং সেটি যদি পাকিস্তানি বোটটিকে আঘাত করে ডুবিয়ে দিত, তবে তা অহেতুক একটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হতে পারত।
ভারতীয় নৌসেনার অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্সের প্রাক্তন ডিরেক্টর কমোডোর রঞ্জিত রাই সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন এটি খুবই ইন্টারেস্টিং একটি ঘটনা।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের পিএনএস হুনেন নামের ফ্রিগেটটি ২৩০০ টন ওজনের যুদ্ধ জাহাজ, যা রোমানিয়ায় নির্মিত। এতে ছোট আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান রয়েছে এবং এটি একটি হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম। সম্ভবত এটি সি-স্পার্ক ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল।
পাকিস্তানের নৌবাহিনী যখনই সি-স্পার্কের মতো কোনো মহড়া চালায়, তখন ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের প্রতিবেশী বা প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখে এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে। তারা দেখে কোন ধরনের বিমান উড়ছে এবং কী গতিতে চলছে।
তার মতে, যেহেতু ঘটনাটি গোয়াদর উপকূলের কাছে ঘটেছে, তাই সম্ভবত ভারতীয় নৌবাহিনীও তখন সেখানে নজরদারি চালাচ্ছিল। গোয়াদর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং ভারত সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকে। তখনই পাকিস্তানি জাহাজটি ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজের খুব কাছাকাছি এসে থাকতে পারে।
‘ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি নিশ্চয়ই একটি ফ্রিগেট ছিল যেমন সুরাত বা নীলগিরি শ্রেণির জাহাজ। বড়সড় সেই জাহাজটি সম্ভবত ওই নৌ-মহড়ায় কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করতেই সেখানে গিয়েছিল,’ বলেন তিনি।
ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ডি কে শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, সমুদ্রে দুটি জাহাজের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে; তা যুদ্ধজাহাজ হোক কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ। দুটি জাহাজের এভাবে খুব কাছাকাছি চলে আসাটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং এর ফলে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী বিউটি খাতুন (৪৫) নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিউটি খাতুন শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঝিনাইদহের পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিউটি খাতুন বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য, বিয়ের প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং দেহব্যবসার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিউটি খাতুনের পরিবারটি চরমুরারিদহ গ্রামের জন্য এক ধরনের ক্যান্সার। বিউটির ছেলে রাতুল মাদক ব্যবসা করে এবং বিউটি নিজে দেহ ব্যবসা করে। বিউটির খপ্পরে পড়া ব্যক্তিরা শেষ হয়ে গেছেন। কেউ জমি হারিয়েছেন, কেউ টাকা। পুরো চরমুরারিদহ গ্রামটি একাই শেষ করে ফেলেছে এই মহিলা। তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
এছাড়া, বিউটি যেখানে বসবাস করছেন, সেই জায়গাটিও আওয়ামী লীগের সময় তার দখলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান সাঈদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতায় জমিটি দখল করে বিউটি বাড়ি করেছেন। সূত্রে জানা যায়, বিউটি খাতুনের সাথে ঝিনাইদহের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই জমির কারণে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
মিরাজ জামান রাজের কাছে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিউটি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে আমার মায়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। সেই জমি উদ্ধার করতে আদালতে মামলা চলছে। আমার মামলায় আদালত থেকে কমিশন চলাকালীন বিউটি ও চেয়ারম্যান সাঈদ বাহিনী আমার ওপর হামলা চালায়। জমির মালিকানা বুঝে নিতে না পারার জন্য এবং আমাকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিউটি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র জমিজমার বিরোধের কারণে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
আদালত মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে খারিজ করে দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে আদালত তাকে আইনের ১৭ (১) ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এই ঘটনায় আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে আদালত আইনের ১৭(১) ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বাটেক্সপো আয়োজন করছে। আজ বিজিএমইএ বাটেক্সপো ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপোর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ১৯৮৯ সালে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যে আয়োজন শুরু হয়েছিল, তা সময়ের সাথে দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তবে আজকের ঘোষণায় বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের যে পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, বাটেক্সপো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। দীর্ঘ এক যুগ পর এই আয়োজনের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের পোশাক শিল্প, উদ্যোক্তা, শ্রমিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা বহন করত— বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত বিজিএমইএ নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংগঠনটির নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। তবে তিনি মনে করেন, বাটেক্সপোর মতো জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনে দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখা হলে তা দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্য, গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্য এবং শিল্পের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের আরও শক্তিশালী বার্তা দিত। বিশেষ করে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি। আজকের বিশ্বে একটি দেশ শুধু তার পণ্য রপ্তানি করে না; প্রতিটি রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে সেই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ভাবমূর্তির একটি বার্তাও বিশ্বের কাছে পৌঁছে যায়। একটি পোশাক যেমন বাংলাদেশের কারখানা থেকে একজন বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তেমনি তার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয় ও দেশের মর্যাদাও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিশ্বে কোনো দেশের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক বার্তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই বার্তা সরাসরি একটি দেশের পণ্য, ব্র্যান্ড, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি আয়োজনকে তারা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা হিসেবে দেখেন না। এটি একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা মনে করেন, বাটেক্সপোর মতো একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের রাজনৈতিক অতিথি নির্বাচন এবং সামগ্রিক উপস্থাপনায় আরও বিস্তৃত জাতীয় ভাবনা ও পেশাদার কৌশল প্রয়োজন ছিল। দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো অনিচ্ছাকৃত বার্তা যেন বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে না যায়—এ বিষয়টিও একটি জাতীয় শিল্প সংগঠনের বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ছোট করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার উদ্দেশ্যে এই বক্তব্য দিচ্ছেন না। বরং বিজিএমইএকে একটি অরাজনৈতিক ও জাতীয় শিল্প সংগঠন হিসেবে আরও দূরদর্শী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কোনো একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বা সংগঠনের সম্পদ নয়। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক, হাজার হাজার উদ্যোক্তা, অসংখ্য স্থানীয় ব্যবসা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রেতা ও অংশীদার। তাই শিল্পের জাতীয় আয়োজনগুলোতে এমন একটি পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সহযোগিতা, ঐকমত্য ও বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির বার্তাই প্রধান হয়ে ওঠে।
তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে বিজিএমইএ তার দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আরও যোগ্যতা, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং জাতীয় শিল্পের প্রতিটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবে।
বাটেক্সপো শুধু একটি প্রদর্শনী নয়—এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বিশ্বে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। তারা চান, বাটেক্সপো হোক রাজনৈতিক বিভাজনের নয়; বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, জাতীয় ঐকমত্য এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রতীক। দেশের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অবস্থানের স্বার্থে—বিজিএমইএ’র কাছে তারা আরও পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার প্রত্যাশা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ