মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ এম
বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য নীতি সহায়তা প্রদান করেছে। এখন থেকে, যদি কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হয়, তবে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের নতুনভাবে নীতি সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এই বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় ঋণখেলাপিদের এই বড় ছাড় প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এর আওতায় নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নতুন আবেদন করা যাবে। এর আগে ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
নতুন নির্দেশনার আওতায় সবচেয়ে বড় সুবিধা ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতির ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়েছে। যদি কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করা ঋণ হিসাবগুলোর সম্মিলিত ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হয়, তবে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।
অন্যদিকে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় নির্ধারণ করে ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে। তবে যেসব ঋণগ্রহীতার আবেদন করা ঋণ হিসাবগুলোর ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, পূর্বে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অথবা বাছাই কমিটির আওতায় নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন নির্দেশনায় বর্ণিত বাড়তি সুবিধা পাবেন। ইতোমধ্যে যে সময় গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পার হয়েছে, তা নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনর্গঠনের সুবিধা এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ সার্কুলারের আওতায় করা সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এর আগে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তা দিতে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে একই বিষয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ এবং ৭ মে ২০২৬ তারিখে পৃথক সার্কুলার লেটার জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে নীতি সহায়তা পেয়েছেন এবং যারা নতুন করে আবেদন করবেন- উভয় পক্ষই নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বাড়তি মেয়াদ ও পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পাবেন। তবে আগের সার্কুলার ও এর ধারাবাহিকতায় জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানের ফলে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩২ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫০ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৩৩ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ২৩ জন এবং উত্তরা বিভাগ থেকে ৫০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। গোয়েন্দা বিভাগও ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযানের সময় ১টি দেশীয় রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি, ৬৩২৪ পিস ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা এবং ৩৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের তথ্যের গরমিলে নানা ধরনের জটিলতায় পড়ছেন গ্রিসে বসবাসরত হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে বিদেশে যাওয়ার সময় ভুল বা ভিন্ন তথ্য দিয়ে তৈরি করা পাসপোর্টের কারণে পরবর্তীতে দেশে এসে সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেক প্রবাসীকে।
হবিগঞ্জের মশিউর রহমান মুমিন এরই একটি উদাহরণ। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী জন্ম ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার সময় এক দালালের মাধ্যমে তার নামে তৈরি করা হয় একটি পাসপোর্ট। সেখানে নাম দেওয়া হয় ‘মশিউর মিয়া’ এবং জন্মসাল উল্লেখ করা হয় ১৯৯৯।
ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বিভিন্ন পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যান মশিউর। পরে গ্রিসে তার রেসিডেন্স পারমিটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওই পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তৈরি হয়। ফলে বিদেশে বসবাসের ক্ষেত্রে তার এনআইডির তথ্যের প্রয়োজন হয়নি।
সম্প্রতি দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে নতুন করে সমস্যায় পড়েন তিনি। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য এনআইডি প্রয়োজন হওয়ায় আবেদন করতে গিয়ে দেখা যায়, তার এনআইডির নাম ও জন্মসালের সঙ্গে বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্ট এবং অন্যান্য নথির তথ্যের মিল নেই। ফলে তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারেননি। পরে বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথির তথ্য অনুযায়ী এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করেন মশিউর। কিন্তু মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
মশিউর রহমান মুমিনের মতো এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন আরও অনেক প্রবাসী।
ভুক্তভোগী মশিউর বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার সময় দালালের মাধ্যমে আমার পাসপোর্টে নাম ও জন্মসালের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই পাসপোর্ট দিয়েই গ্রিসে রেসিডেন্স পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করেছি। এখন দেশে এসে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়েও সমস্যায় পড়েছি। এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু দীর্ঘদিনেও সমাধান হয়নি। আমার মতো যারা এমন সমস্যায় পড়েছেন, তাদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’
শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, দেশে ফিরে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করতেও একই ধরনের জটিলতায় পড়ছেন অনেক প্রবাসী। বিদেশে ব্যবহৃত পাসপোর্টে থাকা নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে এনআইডির তথ্য না মেলায় নবায়নের আবেদন আটকে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। বিদেশে থাকা অবস্থায় যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেছি, সেটির তথ্য অনুযায়ী আমার অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হয়েছে। দেশে ফিরে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে দেখি এনআইডির তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল নেই। ফলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই বিদেশে বৈধভাবে ব্যবহৃত নথিপত্র যাচাই করে এ ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার আহবান জানাই। যেহেতু বিদেশে আমাদের ডকুমেন্ট তৈরি হয়েছে তাই ওই তথ্য দিয়েই দেশে এনআইডি সংশোধনের অন্তত একবার সুযোগ দেওয়া দরকার।’
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদেশে যাওয়ার সময় দালাল বা মধ্য স্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কিংবা নিজেদের অসচেতনতনায় ভুল তথ্য, ভিন্ন নাম কিংবা বয়স দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি হওয়ার কারণে পরবর্তীতে এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিদেশের রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক হিসাব, চাকরির কাগজপত্রসহ বিভিন্ন নথি তৈরি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর দেশে এসে এনআইডির সঙ্গে এসব তথ্যের গরমিল দেখা দিলে তৈরি হয় জটিলতা।
গ্রিসের কমিউনিটি নেতা জাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক প্রবাসী দালাল বা মধ্য স্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপে ভুল নাম, বয়স কিংবা জন্মতারিখের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে যান। পরবর্তীতে ওই তথ্যের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক হিসাব, চাকরির কাগজপত্রসহ বিভিন্ন বৈধ নথি তৈরি হয়ে যায়। দেশে ফিরে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে গরমিল দেখা দিলে তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। প্রকৃত পরিচয় ও বিদেশের বৈধ নথিপত্র যাচাই করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের জন্য বিশেষ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
প্রবাসীরা বলেন, বিদেশে থাকার সময় এনআইডির প্রয়োজন না হলেও দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি ক্রয়-বিক্রয়, কর সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে এনআইডি প্রয়োজন হয়। তখনই তথ্যের গরমিলের কারণে অনেককে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
প্রবাসীরা আরও বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বৈধ পাসপোর্ট, রেসিডেন্স পারমিট ও অন্যান্য সরকারি নথিপত্র যাচাই করে বিশেষ ব্যবস্থায় এনআইডির তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত পরিচয় যাচাই করে সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা প্রয়োজন। বিদেশের বৈধ নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দিতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটি ভরিতে ৪ হাজার ১১৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছে।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবারও একই দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।
স্বর্ণের দামের পাশাপাশি বাজুস রুপার দামও কমিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ১৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ২০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলের মঞ্চে কিছু বিদায় কেবল বিদায় নয়, বরং এক যুগের পর্দা নামানোর মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা যেন তেমনই একটি ক্ষণ। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে যার পায়ের জাদুতে বহু রাত রঙিন হয়ে উঠেছে, সেই জাদুকরকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া ফুটবলবিশ্বের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
মেসির বিদায়ে সেই আক্ষেপ ফুটে উঠেছে পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর কথায়। আর্জেন্টাইন মহাতারকার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, মেসিকে ছাড়া আগামী বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলো আর আগের মতো হবে না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মেসি জানান, তিনি আর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার এই সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা তার কথাতেই প্রতিফলিত হয়েছে।
মেসি লিখেছেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলা থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিদায়ের সিদ্ধান্তে নিজের কষ্টের কথাও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল কষ্টদায়ক একটি সিদ্ধান্ত, যা এখনো আমাকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’
তবে বিদায়ের মুহূর্তেও দেশের জার্সির প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেছেন মেসি। তার কাছে আর্জেন্টিনা মানে শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয়; বরং প্রতিটি ম্যাচে দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার একটি দীর্ঘ যাত্রা।
মেসির ভাষায়, ‘আমি সবসময় আমার সবকিছু দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি এবং মাঠে নিজের সর্বস্ব দিয়েছি। ফুটবলের মাধ্যমে তোমাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব অনুভব করাতে চেয়েছি।’
মেসির সেই বিদায়ী বার্তার নিচে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মরিনহো। ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত এই কোচ লিখেছেন, ‘একটি অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন।’
এরপর মরিনহোর সবচেয়ে আবেগঘন উপলব্ধি আসে। মেসিকে ছাড়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলোর চেহারাই বদলে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
মরিনহোর ভাষায়, ‘পরবর্তী কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ তোমার অনুপস্থিতিতে আগের মতো হবে না।’
সাবেক পর্তুগিজ তারকা মরিনহোর এই কথায় যেন প্রতিধ্বনিত হলো কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনের কথাই। কারণ মেসি শুধু আর্জেন্টিনার একজন ফুটবলার নন, তিনি নিজেই বিশ্বকাপের এক অধ্যায়। মাঠে তার বাঁ পায়ের ছোঁয়া ফুটবলপ্রেমীদের মাতিয়ে রাখে।
সূত্র :
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ