মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০০ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে গ্রেপ্তার হওয়া আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আদালত এই শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পুলিশ প্রসিকিউশন বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আজ ওই আবেদনের শুনানির জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় সময় নির্ধারণ করেছে।
একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটির সহযোগী মো. মহসিনকে গত শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। সেখান থেকে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে আটক করা হয়।
মহসিনকে গ্রেপ্তারের সময় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, "৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিদেশিদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দেন। বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল।"
মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকেও গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড চাওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংগঠনটির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় সদর উপজেলার কানারবাজার এলাকা থেকে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার দক্ষিণ আটং এলাকার রুহুল আমিন বেপারীর ছেলে সিয়াম হোসেন বেপারী (২০), একই এলাকার আমির হোসেন সরদারের ছেলে অন্তর সরদার (২১) এবং ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার নাসির বেপারীর ছেলে সিয়াম বেপারী (১৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার আটং এলাকার কানারবাজার-বুড়িরহাট সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের কিছুক্ষণ পর সেটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর পালং মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরে সন্ধ্যার দিকে কানারবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়াম হোসেন বেপারী, অন্তর সরদার ও সিয়াম বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের মুঠোফোন যাচাই করে মিছিলে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল শেষে ফেরার পথে গতকাল কানারবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের মুঠোফোন যাচাই করে ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সোমবার তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণআন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন মামুন ফরাজি, যিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের গুলিতে আহত রাজুর পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বের হচ্ছিল। রাজুকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও ১৯ জুলাই তার মৃত্যু ঘটে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সামনে মামুন জবানবন্দি দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় তিনি অষ্টম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মামুন তার জবানবন্দিতে বলেন, ১৮ জুলাই আসরের নামাজের পর মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের কাছে ময়ূর ভিলার সামনে আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে থাকে। এতে অনেকেই আহত হন এবং তাদের বিভিন্ন যানবাহনে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন ১৯ জুলাই সকাল থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে মামুন বলেন, শ্যামলী ও আসাদগেট এলাকায় তিনি পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে দেখেছেন।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে বাঁশবাড়ি এলাকায় পুলিশ, আনসার, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীরা জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলিতে আশ্রয় নেন।
মামুন জানান, কয়েকজন আন্দোলনকারী ওরিয়েন্টাল কোভান নামের একটি আবাসিক ভবনের গেটে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে রাজু নামে এক আন্দোলনকারীকে একজন পুলিশ ও আনসার সদস্য টেনে নিয়ে যান এবং পরে তাকে গুলি করা হয়।
তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ রাজুকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আনলে তিনি দেখতে পান, তার পায়ে ও পেটে গুলি লেগেছে এবং তার পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বের হচ্ছিল। রাজুকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু ১৯ জুলাই তিনি মারা যান।
রাজুকে গুলি করা আনসার সদস্য হিসেবে মামুন ওমর ফারুকের নাম উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে মামুন আরও জানান, ওই দিন বিকেলে বছিলা তিন রাস্তার মাঝখানেও আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র লোকজন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। তার ভাষ্য, হেলিকপ্টার থেকেও র্যাব গুলি চালাচ্ছিল।
সন্ধ্যার দিকে গুলির তীব্রতা বেড়ে গেলে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন। মামুন তখন মেহজাবিন বিউটি পার্লারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পেছনে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে জসিম নামে আরেক আন্দোলনকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
সাক্ষী বলেন, জসিমের একটি গুলি হাতে লেগে দুটি আঙুল ঝুলে ছিল এবং আরেকটি গুলি তার বুকে লেগে পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। জসিমকে রনি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ২৯ জুলাই বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান মামুন।
মামুন তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, ২২ জুলাই মোহাম্মদপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে বিকেল ৪টার দিকে টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন। এরপর তিনি আর আন্দোলনে অংশ নেননি।
মামুন তার জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশ এবং পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির জন্য দায়ী করেন। তিনি মামলায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এ মামলায় ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগ কর্মী ফজলে রাব্বি।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলায় শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ, সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী নতুন সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর প্রকৌশল অফিসের বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (জিডিআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী সড়ক উন্নয়নে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১ হাজার ৫০০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করেছেন। পরে স্থানীয়রা নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। সড়কটি পূর্বে মাটির ছিল এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। স্থানীয়দের দাবির পর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিকভাবে ও ফোনে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
পুরনো কাদামাটির সড়কে কাদার ওপরেই ইট-খোয়া ফেলে কাজ শুরু করা হয়েছে। অথচ প্রথমে সড়কে মাটি কাটার কথা ছিল এবং পরে বালু ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের পুরোনো মাটি না কেটে ইট-খোয়া-বালু দিয়ে কাজ করেছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে গিয়ে সড়ক উন্নয়ন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া বলেন, "সকাল থেকে এই কাজের ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।" ফাইল খুঁজে না পাওয়ার কারণে সড়কটির উন্নয়নের কাজ কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং কবে নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষ।
তবে আমজাদ ট্রেডার্সের লোকজনকে ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৬ জুলাই ওই সড়ক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরা কঠিন। কারণ, স্থানীয়রা কাজের ধরন জানেন না। যখন সড়কে নিম্নমানের খোয়া দেওয়া হচ্ছে, তখনই কিছু লোক বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খুবই নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চলছে।" উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি শুধু "দেখছি" বলেই দায় সেরেছেন, কিন্তু সরেজমিনে আসেননি।
আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, "এটি কোনো টেকসই কাজ হচ্ছে না।" এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের রাস্তায় যদি এমন পোড়া ইটের গুঁড়ো ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়, আগামী বর্ষার শুরুতেই রাস্তা আবার নষ্ট হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। তিনি বলেন, সরকারি বড় অঙ্কের বাজেট থাকার পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দাপ্তরিক ফাইল ‘গায়েব’ হওয়ায় কাজের মান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হোক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, "সড়কে কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়নি। এগুলো অটো ব্রিকসের খোয়া এবং টেস্টের ফলাফল ভালো।"
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান বলেন, "আমরা বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখব।" পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ওপরে দেওয়াতে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, "আমি ওই সড়ক পরিদর্শন করেছি। কোনো ধরনের ব্যত্যয় পাইনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে নিহতের প্রেমিক, তার মা এবং এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসকুর আলমের ছেলে মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০), যিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা (মেম্বারবাড়ি) এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ডলি স্থানীয় বাঘেরবাজার এলাকার গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। পিবিআই জানায়, পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় মিশন ইসলামের সাথে ডলির পরিচয় ঘটে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছিল। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করেন। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান, এবং মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার কারণে ডলির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ান। ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহটি ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। এরপর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন মিশন। মরদেহ গুম করতে একটি স্যুটকেস কেনা হলেও, মরদেহটি তাতে না ধরায় ব্লেড, বঁটি ও দা দিয়ে কোমর থেকে মরদেহটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে কোমরের নিচের অংশ লাগেজে এবং ওপরের অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলতে সহযোগিতা করেন। পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তারা ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছান।
ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় মিশন ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা কালভার্টের নিচের খালের পানিতে ফেলে দেন। এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লেগে যায়। তিনি মিশনের কাছে বস্তা ও লাগেজের ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান। তখন মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের মরদেহ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানার উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খাল থেকে একটি লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। লাগেজের ভেতরে ছিল মরদেহের কোমরের নিচের অংশ, আর কোমরের ওপরের অংশ ছিল প্লাস্টিকের বস্তায়। মরদেহটি অজ্ঞাত এবং অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে ধারাবাহিক অনুসন্ধান, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়। ডলি হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে এবং একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর (তুলসিভিটা) এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী মিশনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ খণ্ডিত করার কাজে ব্যবহৃত একটি বঁটি ও দা, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও একজোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মরদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, লাগেজ কেনার বিষয়ে তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত ও পচনশীল মরদেহ হওয়ায় শুরুতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, ঘটনার অন্যান্য দিক এবং উদ্ধার হওয়া আলামত নিয়েও তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ