ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরে লাগেজ ও বস্তায় নারীর খণ্ডিত দেহ, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি


গাজীপুরে লাগেজ ও বস্তায় নারীর খণ্ডিত দেহ, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের করুণ পরিণতি

গাজীপুরে লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে নিহতের প্রেমিক, তার মা এবং এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসকুর আলমের ছেলে মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০), যিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা (মেম্বারবাড়ি) এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ডলি স্থানীয় বাঘেরবাজার এলাকার গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। পিবিআই জানায়, পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় মিশন ইসলামের সাথে ডলির পরিচয় ঘটে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছিল। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করেন। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান, এবং মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার কারণে ডলির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ান। ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহটি ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। এরপর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন মিশন। মরদেহ গুম করতে একটি স্যুটকেস কেনা হলেও, মরদেহটি তাতে না ধরায় ব্লেড, বঁটি ও দা দিয়ে কোমর থেকে মরদেহটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে কোমরের নিচের অংশ লাগেজে এবং ওপরের অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।

এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলতে সহযোগিতা করেন। পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তারা ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছান।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় মিশন ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা কালভার্টের নিচের খালের পানিতে ফেলে দেন। এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লেগে যায়। তিনি মিশনের কাছে বস্তা ও লাগেজের ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান। তখন মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের মরদেহ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানার উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খাল থেকে একটি লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। লাগেজের ভেতরে ছিল মরদেহের কোমরের নিচের অংশ, আর কোমরের ওপরের অংশ ছিল প্লাস্টিকের বস্তায়। মরদেহটি অজ্ঞাত এবং অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরে ধারাবাহিক অনুসন্ধান, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়। ডলি হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে এবং একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর (তুলসিভিটা) এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী মিশনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ খণ্ডিত করার কাজে ব্যবহৃত একটি বঁটি ও দা, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও একজোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মরদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, লাগেজ কেনার বিষয়ে তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত ও পচনশীল মরদেহ হওয়ায় শুরুতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, ঘটনার অন্যান্য দিক এবং উদ্ধার হওয়া আলামত নিয়েও তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে কেক-পাউরুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে কেক-পাউরুটি

রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় বর্তমানে বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি, যা বনরুটি নামে পরিচিত, এবং কেকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন।

সম্প্রতি, বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। কিছু ক্ষেত্রে, পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মানভেদে ১০ টাকা দামের ছোট পাউরুটি বর্তমানে ১৫ টাকায় এবং ১০ টাকার সাধারণ কেক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকার রুটি-কেকের দাম ২০ টাকা করা হয়েছে।

তবে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের দাম না বাড়িয়ে, আগের তুলনায় ওজন ও সাইজ ছোট করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আকার ও ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করলে, পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম বেড়ে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। পাশাপাশি, বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।

বিক্রেতাদের মতে, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই কারণে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা। তাদের দৈনিক খাদ্য তালিকার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে চা ও বেকারি পণ্য।

সেগুনবাগিচার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারাদিন রিকশা চালিয়ে দুপুরের খাটুনি শেষে ৫-১০ টাকার বিস্কুট আর চা খেয়ে একটু পেটের ক্ষুধা মিটাতাম। এখন সেই বিস্কুটের দামও ৫ টাকা বেড়ে গেছে। সকালে দুটো বনরুটি আর চা খেলে আগে ২০ টাকায় হয়ে যেত, এখন ৩০ টাকা লাগে। দিনে যদি চা-নাশতাতেই অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা চলে যায়, তবে দিনশেষে পরিবারকে কী দেবো?"

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা বেগম। তিনি বলেন, "বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে হিসাব, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ইতিমধ্যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর বেকারি পণ্যের মতো সহজলভ্য ও জরুরি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে, কিছু কিছু বেকারির পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে একধরনের অরাজকতা দেখা গেছে। ঘোষিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে তাদের পণ্যের দাম বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। কারণ ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা, আর ১৫ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম না বাড়িয়ে কমানো হয়েছে ওজন।

বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

এই সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি প্রায় সাত হাজার রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি। সেখানে রুটি, কেকের মতো বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচের পাল্লা আরও কিছুটা ভারী হয়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের গঠন করা হল মেডিকেল টিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের গঠন করা হল মেডিকেল টিম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছে, যা জেলা ও মহানগর এবং অধীনস্থ ইউনিটসমূহে ঘোষিত সাত দিনের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই টিম গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল টিমটি গঠন করা হয়েছে।

মেডিকেল টিমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

টিমের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. গালিব হাসান, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, সহস্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন, সহস্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল।

যুবদলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ও নবগঠিত মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. বেলাল হোসেন নাজিম জানান, "দেশবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সচেতন করতে আমাদের এই মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই টিম কাজ করা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যুবদলের কর্মী হিসেবে আমরা সবসময়ই প্রস্তুত।"

ডেঙ্গু সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো সচেতনতা। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, জমা পানি দূর করতে হবে এবং এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে হবে। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় কর অঞ্চলে এসএসসি-এইচএসসি পাসে ৩৯ জনের চাকরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


ঢাকায় কর অঞ্চলে এসএসসি-এইচএসসি পাসে ৩৯ জনের চাকরি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর অঞ্চল-১৬ (ঢাকা) একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছয় ক্যাটাগরির পদে মোট ৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তবে, আবেদন করার জন্য শুধুমাত্র ঢাকা জেলার স্থায়ী নাগরিকদের জন্য এই সুযোগ রয়েছে।

যেসব পদে নিয়োগ

কর অঞ্চল-১৬-এ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা হলো: কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন, প্রধান সহকারী পদে আটজন, উচ্চমান সহকারী পদে সাতজন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ১০ জন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পাঁচজন এবং অফিস সহায়ক পদে আটজন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে এইচএসসি বা সমমান এবং অফিস সহায়ক পদে এসএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

কম্পিউটার ও টাইপিং দক্ষতা

প্রধান সহকারী ও উচ্চমান সহকারী পদে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ৩০ এবং বাংলায় ২৫ শব্দ টাইপ করার গতি থাকতে হবে। সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ইংরেজি ও বাংলায় যথাক্রমে ৩০ ও ২৫ শব্দ টাইপ করার পাশাপাশি সাঁটলিপিতে ইংরেজিতে ৭০ এবং বাংলায় ৪৫ শব্দের গতি থাকতে হবে।

বেতন

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পদভেদে বেতন প্রদান করা হবে। কম্পিউটার অপারেটর ও প্রধান সহকারী পদে বেতন হবে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা, উচ্চমান সহকারী ও সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং অফিস সহায়ক পদে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেতন দেওয়া হবে।

বয়স ও আবেদনের যোগ্যতা

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদন করার জন্য শুধুমাত্র ঢাকা জেলার উপযুক্ত ও স্থায়ী নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রার্থী কেবল একটি পদে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন শুরু

অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টায়।

আবেদন ফি

প্রথম থেকে পঞ্চম পদে আবেদন ফি ও সার্ভিস চার্জসহ মোট ১১২ টাকা এবং ষষ্ঠ পদে ৫৬ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সব গ্রেডে মোট ফি ৫৬ টাকা।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের tax16.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Application Form’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ফরম সাবমিটের পর Applicant’s Copy ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।

আবেদন ফি টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। অনলাইনে আবেদন সাবমিটের পর পাওয়া User ID ব্যবহার করে নির্ধারিত নিয়মে দুইটি এসএমএস পাঠিয়ে ফি জমা দিতে হবে।

আবেদন শেষ

আবেদন করা যাবে ১০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেমোথেরাপি নেওয়ার ১১ বছর পর জানা গেল, বেকি জোন্সের শরীরে ক্যানসার ছিল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


কেমোথেরাপি নেওয়ার ১১ বছর পর জানা গেল, বেকি জোন্সের শরীরে ক্যানসার ছিল না

যুক্তরাজ্যের বেকি জোন্স ১১ বছর ধরে ক্যানসারের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি জানতে পারেন যে, তার শরীরে কখনোই ক্যানসার ছিল না। ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে তাকে বছরের পর বছর অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।

বেকি ২০১২ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ২১ বছর, তখন তীব্র মাইগ্রেনের কারণে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকরা তাকে জানান, তার মস্তিষ্কে প্রাণঘাতী গ্রেড-৪ গ্লিওব্লাস্টোমা টিউমার রয়েছে। বলা হয়েছিল, চিকিৎসা না নিলে তার মৃত্যু হতে পারে কয়েক মাসের মধ্যে।

এরপর বেকিকে টেমোজোলোমাইড (টিএমজেড) নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দেওয়া শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন, জীবনের বাকি সময় এই ওষুধ নিতে হবে। অথচ সাধারণ চিকিৎসা নির্দেশিকায় এ ধরনের কেমোথেরাপি সাধারণত ছয় মাসে ছয়টি সাইকেলের মতো দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বেকি জানান, একাধিক স্ক্যানে মস্তিষ্কে টিউমারের স্পষ্ট কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তাকে বলা হয়েছিল, টিউমারটি স্ক্যানে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

বছরের পর বছর কেমোথেরাপির কারণে বেকি ভুগেছেন বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, মুখে ঘা ও চরম ক্লান্তিতে। তাকে সামাজিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক জমায়েত এড়িয়ে চলতে হয়েছে সংক্রমণের আশঙ্কায়। চিকিৎসার কারণে তার কর্মজীবনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি সন্তান ধারণ করতে পারবেন না, তবে পরে তার দুটি সন্তান হয়েছে।

২০২৪ সালে হঠাৎ করে তার কেমোথেরাপি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন তাকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অবসরে গেছেন। এরপর নতুন করে বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু হলে ২০২৫ সালে বেকি জানতে পারেন, তার মূল রোগ নির্ণয়ই ভুল ছিল।

স্বাধীন নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেকির কখনোই মস্তিষ্কে ক্যানসার ছিল না। তিনি আসলে ‘টিউমেফ্যাকটিভ ডিমাইলিনেশন’ নামের এক ধরনের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা সাধারণত নিউরোলজিস্টরা চিকিৎসা করেন এবং শক্তিশালী স্টেরয়েড দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়।

বেকির অভিযোগ, ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১১ বছর অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে কেটেছে। তিনি বলেন, তাকে বারবার বলা হয়েছিল কেমোথেরাপি না নিলে তিনি মারা যাবেন।

বেকির মতো ৪০ জনের বেশি রোগী ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার (ইউএইচডব্লিউ) এনএইচএস ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘ সময় বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে তাদের ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই হাসপাতালে কিছু রোগীকে দীর্ঘ সময় টিএমজেড দেওয়া হয়েছে, অথচ এর উপকারিতার পক্ষে সামান্য বা কোনো প্রমাণ ছিল না। পর্যালোচনা করা ২০টি মামলার মধ্যে ১৫টিকে সামগ্রিকভাবে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে রোগীদের টিএমজেড ব্যবহারের ঝুঁকি যথাযথভাবে বোঝানো ও নথিভুক্ত না করা, চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ‘ক্লিনিক্যাল কৌতূহলের’ অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা ব্যক্তিগত রোগীর বিষয়ে মন্তব্য করবে না। তবে টিএমজেড প্রেসক্রিপশন ও ব্যবহারের ওপর আরও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট।

বেকির ভাষায়, ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের ভুলের বিষয় নয়; বরং এত দীর্ঘ সময় ধরে সেই ভুল কীভাবে নজরদারির বাইরে থাকল, সেটিও বড় প্রশ্ন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%