০৪:০৭ পি.এম
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ সময়। এ দিনটির দোয়া কবুলের বিশেষ সময়কে কাজে লাগাতে অনেক মুসলমান বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তিগফার পড়েন। জুমার নামাজের সময়, যখন ইমাম দুই খুতবার মাঝখানে অল্প সময়ের জন্য বসেন, তখন কী ধরনের দোয়া পড়া যেতে পারে, তা নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে।
সহিহ মুসলিমে জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে—
هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلَاةُ
অর্থ: ‘এ সময়টি হলো, ইমাম বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৩
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প
হাদিসটির আলোকে দেখা যায়, জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় হিসেবে ইমাম বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুই খুতবার মাঝখানে পড়ার জন্য বিশেষ কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়। এ সময়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা এবং কল্যাণ চেয়ে দোয়া করা যায়।
১. গুনাহ মাফের দোয়া
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এই ইস্তিগফারটি পড়া যেতে পারে—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি।
২. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া
আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান
দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চেয়ে কোরআনের এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে—
رَبَّنَا آتِينَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২০১
৩. ক্ষমা ও রহমতের দোয়া
আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়া চাইতে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে—
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমিন।
অর্থ: হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ
—সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১১৮
৪. নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। তাই এ সময় দরুদ শরিফ পড়া যেতে পারে। যেমন—
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
অর্থ: আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
দুই খুতবার মাঝখানে দোয়া করার নিয়ম
দুই খুতবার মাঝখানে ইমাম অল্প সময়ের জন্য বসেন। এ সময় নীরবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। তবে এ সময়ের জন্য ওপরের কোনো দোয়াকে নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয়। নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, সুস্থতা, হেদায়াত ও কল্যাণ চাওয়া যেতে পারে।
জুমার দিনের মর্যাদা ও খুতবার আদবের প্রতি খেয়াল রেখে এ সময়টুকু কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং নিয়মিত ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করতে পারেন।
আরও পড়ুন: কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআনের সুসংবাদ ও ইসলামের নির্দেশনা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন