মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৩ পি.এম
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও সরকারি সেবা ডিজিটাল করা নয়; বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করে উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইন্টারঅপারেবিলিটি কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জড়িত। একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করে অভিন্ন অবকাঠামো ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘কার্যকরী ই-গভর্নেন্স: বাংলাদেশে ই-গভর্নমেন্ট ও ডিজিটাল গণসেবার গতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তথ্য বিনিময় নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা, আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছর সরকার আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, এআই-সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং—এই পাঁচটি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবে। তিনি জানান, সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাচাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের কন্যা বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, ২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছেন। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে।
বীরভূম জেলার কুসুম্বা গ্রামে তার নিজ বাড়ির প্রথম তলা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির একটি ঘটনায় চাকরি পাওয়ার অভিযোগ ছিল। এছাড়া, তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছিল। জানা গেছে, দুজনই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃষ্টি গত কয়েক বছর ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসাও চলছিল। রামপুরহাট থানার পুলিশ তার মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত তদন্তের পর মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, অতিরিক্ত গতি এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের জানাজা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, তা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ডেপুটি ডিরেক্টর নজরুলকে প্রধান করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আপাতদৃষ্টিতে যতটুকু জানা গেছে, এটি সম্ভবত চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটেছে। ওই জায়গাটি ফাঁকা ছিল এবং গাড়িটি মোড় নেওয়ার সময় সম্ভবত গতি বেশি ছিল। অতিরিক্ত গতির কারণে চালক গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি এবং ডান দিকে ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান।
তিনি জানান, গাড়িটি নির্ধারিত পথে মোড় নিতে না পেরে সামনে চলে যায় এবং আন্ডারপাসের নিচে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, সাধারণত ওই জায়গায় কোনো গাড়ি যাওয়ার বা নিচে পড়ে যাওয়ার কথা নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি সব বিষয় খতিয়ে দেখবে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দুর্ঘটনার স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ঘটনার সময়ের ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনালসহ পুরো এলাকাটি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। ফলে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা ফুটেজ দেখেই অনেকটা স্পষ্ট হওয়া সম্ভব। তদন্ত কমিটি সেসব ফুটেজও পর্যালোচনা করবে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত একজন আনসার সদস্য প্রথমে দুর্ঘটনার বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি অন্যদের খবর দিলে প্রায় ১০ জন আনসার সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পর উল্টে যাওয়া গাড়িটি সোজা করা হয়। এরপর হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। তিনি জানান, সিএমএইচে নেওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়। একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল দেখতে অনেক উৎসুক মানুষ সেখানে আসতে পারেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরাও থাকতে পারে। তাই দুর্ঘটনাস্থল ও আন্ডারপাসের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে নিচের দিকে উঁকি দিতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে না থাকে, সে জন্য এখনই প্রটেকটিভ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমার ধারণা, ফাঁকা জায়গা দেখে গাড়ির গতি বেশি ছিল এবং চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তবে এটি শুধু প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত কমিটি সবকিছু খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ফটোপোস্টের কারণে সম্প্রতি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। এক বছর আগে দেওয়া একটি বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘যতটুকু পাপ কামাইছি সব ধুয়ে মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই। আর যে কয়দিন বাঁচবো আল্লাহ খোদার নাম করে যাবো’—এই বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। এ বিষয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।
পপি পরিষ্কারভাবে জানান, তিনি কখনোই চলচ্চিত্রে অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, মানুষ জেনে-না জেনে ভুল বা পাপ করতে পারে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়।
সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এবং নিজের অভিনয় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু আমার ব্যক্তব্যে একটি বারের জন্যও বলিনি যে আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাপ করেছি। মানুষ কী তার নিজের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান না? আমরা তো জেনে না জেনে অনেক পাপ করি, সেসব পাপের জন্য কী আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যাবেনা? তো আমি আমার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি আমার স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে ভালো থাকতে পারি সেটাতো অন্যায়ের কিছু নয়। আমিতো একটি বারের জন্য বলিনি যে আমি সিনেমাতে অভিনয় করে পাপ করেছি। যে সিনেমা আমাকে এতো যশ এতো খ্যাতি এতো সম্মান এনে দিয়েছে, যে সিনেমা থেকে আমি অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করেছি, যে সিনেমার কারণে আজও দর্শক আমাকে এতো ভালোবাসেন সেই সিনেমা কিংবা সিনেমা শিল্পকে নিয়ে আমি খারাপ কিছু বলবো নেগেটিভ মন্তব্য করবো-প্রশ্নই আসেনা। আমি আমার চলচ্চিত্রকে এখনো অনেক ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।’
পপি আরো বলেন, ‘জীবনের প্রয়োজনে আমি আজ হয়তো দূরে আছি, কিন্তু ফেলে আসা দিনগুলো আমি ভীষণ মিস করি। বিয়ের পর একটি মেয়েকে তার স্বামীর কথা মতো চলতে হয়। আমার স্বামী আদনান আমাকে ভীষণভাবে আগলে রাখে, আমার একমাত্র ছেলে আয়াতকে নিয়েই আমার সময় কেটে যায়। আমার সুখের সংসার। আপনাদের সবার দোয়াতেই আমার এই সুখের সংসার। আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়টাতে আমি দিনের পর দিন রোদে পুরে গরমে, বৃষ্টি বাদলে অনেক কষ্ট করে শুটিং করে টাকা রোজগার করেছি। অনেক কষ্টের পরে হালার রোজগার করেছি। নিজের পরিবারকে লালন পালন করেছি, তো যে চলচ্চিত্র থেকে আমার এতোকিছু সেই চলচ্চিত্রকে কোনোদিনই অসম্মান করে কিংবা অভিনয় পেশাকে অসম্মান করে আমি কিছু বলবো না।’
অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে অবসর আমি নেইনি। যদি কোনোদিন কোনো গল্প ভালো লাগে হয়তো আমি অভিনয় করতেও পারি, আবার হয়তো আর অভিনয়ে নাও ফেরা হতে পারে। তবে সিনেমা প্রয়োজনায় আসার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে নিজের বায়োগ্রাফিতে অভিনয় করার। সবাই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।’
পপি অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিলো ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশান’। যদিও কয়েকটি সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পপি আর অভিনয় করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের ওসমানীনগরে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অনুসারী নেতাকর্মীদের দুই বলয় এবং সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপি। তবে এই পৃথক কর্মসূচির কারণে তিন পক্ষের প্রচার-প্রচারণার মধ্যে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার তাজপুর বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সিনিয়র সদস্য সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে, বিকেল ৩টায় গোয়ালাবাজারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দাল মিয়া, ইউপি সদস্য ইমরান রব্বানী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।
দুই বলয়ের এই পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল, আলোচনা সভা এবং অন্যান্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় বলয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীরের নেতৃত্বে তাজপুর বাজার থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কদমতলা হয়ে পুনরায় তাজপুর বাজারে ফিরে বনফুলের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একই সময়ে কদমতলা থেকে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তাজপুরমুখী আরেকটি বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসেন। মিছিলটি বনফুলের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই পথসভা করছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অনুসারী নেতাকর্মীরা। ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে এসে পড়েন।
এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরস্পরকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তার অনুসারী দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি এবং একই সময়ে তাজপুর বাজারে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ওসমানীনগরের স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ