মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ পি.এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক স্বামীকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা দুই নারীকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। লিটন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে। তবে প্রথম স্ত্রী দাবি করছেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।
এ নিয়ে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারীর মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক বলেন, "দুজনে মারামারি করছিল। একে অপরকে বলছিল, তোকে তালাক দিয়েছে লিটন।"
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দুই নারীকে থামিয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বারের জিম্মায় দেন। পরে তাদের চায়না বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, "তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছে শুনে সেখানে যাই। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসি। তারা দুজনেই লিটনের বউ বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আমার জিম্মায় রাখা হয়।"
গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, "বাসস্ট্যান্ডে দুইটা মেয়ে চুল ধরে মারামারি শুরু করে। আমরা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসি।"
লিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতেই তিনি তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে আসেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, "লিটন আমাকে বলেছিল, সে তার বউকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটি যাচাই করার জন্য এসেছি।"
ওই নারী আরও জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল। সেই সংসার ত্যাগ করে তিনি লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তার দাবি, লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে চায়না বাজারসহ রাজারহাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টির আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি স্থায়ী শূন্য পদের জন্য মোট ৩৭ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী নাগরিকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে এই লক্ষ্যে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি পর্যন্ত। বেতনের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব পদে নিয়োগ
নিয়োগের জন্য সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে একজন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে চারজন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে একজন, সাউন্ড সিস্টেম অপারেটর পদে একজন, ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে চারজন, এয়ারকুলার টেকনিশিয়ান পদে একজন, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন কেয়ারটেকার পদে একজন, ফটোকপিয়ার অপারেটর/ফটোকপিয়ার টেকনিশিয়ান পদে দুজন, লিফটম্যান পদে পাঁচজন, কার্পেন্টার/কাঠমিস্ত্রি পদে দুজন, প্লাম্বার পদে একজন, রাজমিস্ত্রি পদে একজন, জেনারেটর টেকনিশিয়ান পদে একজন, ফায়ারম্যান পদে একজন, পাম্প ড্রাইভার পদে একজন, প্রজেক্টর ও মাইক্রোফোন অপারেটর পদে একজন, সহকারী ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে দুজন, জেনারেটর অপারেটর পদে দুজন, কার্পেন্টার হেলপার/কাঠমিস্ত্রি হেলপার পদে একজন, সহকারী প্লাম্বার পদে দুজন, সহকারী ফায়ারম্যান পদে একজন, সহকারী রাজমিস্ত্রি পদে একজন এবং সহকারী ফটোকপি টেকনিশিয়ান পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন
সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি আবশ্যক। এই পদের জন্য বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এসব পদের জন্য বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাউন্ড সিস্টেম অপারেটর পদে এসএসসি (ভোকেশনাল) বা এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। এই পদের বেতন ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা।
ইলেক্ট্রিশিয়ান, এয়ারকুলার টেকনিশিয়ান, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন কেয়ারটেকার, ফটোকপিয়ার অপারেটর/টেকনিশিয়ান, লিফটম্যান, কার্পেন্টার, প্লাম্বার, রাজমিস্ত্রি, জেনারেটর টেকনিশিয়ান ও ফায়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত।
পাম্প ড্রাইভার, প্রজেক্টর ও মাইক্রোফোন অপারেটর, সহকারী ইলেক্ট্রিশিয়ান, জেনারেটর অপারেটর, কার্পেন্টার হেলপার, সহকারী প্লাম্বার, সহকারী ফায়ারম্যান, সহকারী রাজমিস্ত্রি ও সহকারী ফটোকপি টেকনিশিয়ান পদে বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণি পাসেও আবেদন
পদভেদ অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে স্নাতক পর্যন্ত। প্লাম্বার, রাজমিস্ত্রি, পাম্প ড্রাইভার, কার্পেন্টার হেলপার, সহকারী প্লাম্বার ও সহকারী রাজমিস্ত্রি পদে অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এসব পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
বয়সসীমা
সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। অন্যান্য পদে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর।
আবেদন শুরু ও শেষ
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির ওয়েবসাইটে এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি পদের ক্রমিক অনুযায়ী ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবৈধ, ত্রুটিপূর্ণ বা ভুল তথ্যসম্বলিত আবেদন বাতিল করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ পদের সংখ্যা কমাতে বা বাড়াতে পারে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে দুটি পৃথক হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি পুলিশ আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যার ঘটনায় মানিক জড়িত।
গ্রেপ্তার হওয়া মানিক নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সী মো. মেহেদী। তিনি একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা।
তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করতেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলাটিও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনের একটি বিজ্ঞানী দলের দ্বারা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রে বিশাল এক খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত এই অঞ্চলে স্বর্ণ ও রূপার উপস্থিতি স্থলভাগের অনেক খনির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
‘সিয়াংইয়াংহং ১০’ গবেষণা জাহাজ থেকে ১৮ দিনের অভিযানে এই খনিজ ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যা চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালানোর জন্য ডুবোযানের সাহায্য নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উত্তপ্ত সামুদ্রিক জলউৎসের আশপাশ থেকে আকরিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম রূপার উপস্থিতি রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই খনিজ ভান্ডারে স্বর্ণ ও রূপার পাশাপাশি তামা, দস্তা এবং বিপুল পরিমাণ পলিমেটালিক সালফাইডও রয়েছে। এসব খনিজের ঘনত্ব ও বৈশিষ্ট্য বিশ্বমানের সমুদ্রগর্ভস্থ খনিজ আমানতের সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে গভীর সমুদ্রের এই চরম পরিবেশের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করেন গবেষকরা। এর ফলে খনিজ সম্পদের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখনই এসব খনিজ উত্তোলন সম্ভব নয়। সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড চাপ, অন্ধকার এবং জটিল পরিবেশের কারণে গভীর সমুদ্র থেকে খনিজ উত্তোলন এখনও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের এই খনিজ সম্পদ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাজে লাগানোর পথ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: গ্লোবাল টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শহরের ব্যস্ত জীবনে শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কংক্রিটের ভবন, ব্যস্ত রাস্তা এবং চার দেয়ালের মধ্যে অনেক শিশু বড় হচ্ছে। এর ফলে মাটি, ঘাস, গাছপালা ও বনভূমির মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংযোগও হ্রাস পাচ্ছে।
তবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সঙ্গে শিশুর যোগাযোগ শুধুমাত্র মন ভালো রাখা কিংবা শরীরচর্চার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাটি, ঘাস এবং গাছপালার সংস্পর্শে আসলে ত্বকে থাকা অণুজীবের বৈচিত্র্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ত্বকের অণুজীব শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
মাত্র ২০ সেকেন্ড মাটির সংস্পর্শে
ফিনল্যান্ডের গবেষকদের একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ২০ সেকেন্ড ধরে মাটি, পিট এবং শ্যাওলা ঘষতে বলা হয়। পরে তাদের ত্বক পরীক্ষা করে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করা হয়।
কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও এই পরিবর্তনের কিছুটা প্রভাব দেখা যায়। তবে গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তন স্থায়ী ছিল না। মাত্র ২০ সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার ফলে ত্বকের অণুজীবের মধ্যে স্থায়ী পরিবর্তন তৈরি হয়নি।
তাহলে গবেষকদের ধারণা, একবার অল্প সময়ের জন্য মাটির সংস্পর্শে আসার চেয়ে নিয়মিতভাবে দীর্ঘ সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সব জীবাণুই ক্ষতিকর নয়
ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীব থাকলেই সেগুলো ক্ষতিকর—এমনটি নয়। মানুষের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের অণুজীব বসবাস করে।
ত্বকে এসব অণুজীবের বৈচিত্র্য থাকলে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কমে যেতে পারে।
শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছিল বনভূমির মতো পরিবেশ।
শিশুদের ওপর প্রকৃতির প্রভাব বোঝার জন্য ফিনল্যান্ডে একটি নতুন গবেষণা পরিচালিত হয়। মধ্য ফিনল্যান্ডের একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য বনভূমির মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়।
সেখানে শিশুদের গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং বিভিন্ন গাছপালার সংস্পর্শে আসার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা এই পরিবেশে সময় কাটায়।
গবেষকরা শিশুদের ত্বক, লালা ও মলের পাশাপাশি রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার ফলে শরীরের অণুজীব সমষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
২৮ দিন খেলায় দেখা গেল যে পরিবর্তন।
২০১৬ ও ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় শিশুদের খেলার মাঠে পিট এবং গাছ লাগানোর বাক্সসহ বনভূমির মতো বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করা হয়েছিল।
শিশুরা সেখানে ২৮ দিন নিয়মিত খেলাধুলা করার পর দেখা যায়, তাদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রে অণুজীবের বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশি। পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠে খেলা করা শিশুদের সঙ্গে তুলনা করে এই পার্থক্য পাওয়া যায়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক বছর পর আবার পরীক্ষা করেও ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্যের কিছু পার্থক্য বজায় থাকতে দেখা যায়। একই সঙ্গে বনভূমির মাটিতে খেলাধুলা করা শিশুদের ত্বকে সম্ভাব্য রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের উপস্থিতিও কম পাওয়া যায়।
তাহলে কি মাটিতে খেললেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে?
এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। গবেষণায় প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্যের পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, শুধুমাত্র মাটিতে খেললেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
গবেষকদের মতে, ত্বকে অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কমতে পারে। তবে প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী হয়, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাহলে শিশুদের নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটি, ঘাস, গাছপালা ও কাঠের সঙ্গে খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে তারা প্রকৃতির কাছাকাছি আসার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকবে। তবে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ