মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৩ পি.এম
পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি সকল কার্যক্রমকে মানুষের, প্রাণীর, উদ্ভিদের এবং বাস্তুতন্ত্রের সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সদর দপ্তরে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই কথা বলেন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এ সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা পরস্পর-সংযুক্ত ক্ষেত্রগুলোর সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভর করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় এক খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতে পড়তে পারে। পরিবেশ, প্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশীদারিত্বের কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর আগে এই সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।
তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনা বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক দংইউ ছু, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মুইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুরো ম্যাকুত, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেন হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভের অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি. ডি. মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরানথানা এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানথানা ইসলামি মার্কেটের সামনে সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাইল গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং অপরজন হোসেনপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সাব্বির (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মতে, সোমবার দুপুরে শহরের সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজে কিছু শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজের জন্য রড টানার কাজ চলছিল। একপর্যায়ে শ্রমিকরা রডটি ওপরে তুলতে গিয়ে সেটি ভবনের বাইরের অংশে থাকা একটি খোলা এসির সঙ্গে সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তের মধ্যে দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় শত শত মানুষ ভিড় করেন। এতে পুরানথানা ইসলামি মার্কেট ও সামাদ প্লাজার আশপাশে ব্যাপক জনসমাগম সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন, "এভাবে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এসি খোলা অবস্থায় রেখে নির্মাণকাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্কতার কারণে একই সঙ্গে দুইজন শ্রমিকের প্রাণ চলে গেল। নির্মাণকাজের আগে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।"
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সময় শ্রমিকদের ব্যবহৃত লোহার রড ভবনের বাইরে থাকা এসির সংস্পর্শে চলে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজের সময় রড, বাঁশ, মই বা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন, এসির সংযোগসহ বিদ্যুতের উৎসগুলো সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "যেকোনো ভবনে নির্মাণকাজ শুরুর আগে আশপাশের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি নিরাপদ করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বেষ্টনী, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজের সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে তদারকি না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাথমিকভাবে অসতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করার ঘটনা শুরুতে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ক্ষোভ, অপ্রতিমের বয়সে বড়দের সঙ্গে ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের মতো বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মতে, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্সটি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের আলাদা স্বার্থ ও ক্ষোভও হত্যার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়। মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। তাদের বাইরে আরও এক তরুণের সম্পৃক্ততাও যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে তুহিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেদিন তুহিন বারবার অপ্রতিমের ফোনে বার্তা পাঠাচ্ছিল। তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেছিল। এক পর্যায়ে বলা হয়, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোনটি দিয়ে তারা টিকটকের জন্য ভিডিও বানাবে এবং ছবি তুলবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তুহিনের কথায় শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে অপ্রতিম শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তুহিন পাশাপাশি হাঁটছে এবং কথা বলছে। তাদের আচরণ স্বাভাবিক ছিল। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই একসঙ্গে দেখা যায়।
অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীদের মতে, পরে সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দুই কিশোর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সময় সে আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনও ভূমিকা পালন করেছিল কিনা, তা যাচাই করছে পুলিশ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। এ কারণে বাইরের লোকদের জন্য সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।
অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে টানাটানি করেছিল শিয়াল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করতো গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে ওই টাকা ফেরত চাইছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়।
তদন্তকারীরা বলছেন, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনায় নিজে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তখনও অন্যদের নাম বলতে চাইছিল না তুহিন। অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলেও জানা গেছে।
তবে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুঠোফোনে বারবার ফোন আসছিল। কল করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানায়। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখতো। ঘটনার দিন নিজের মুঠোফোন সঙ্গে নেয়নি সে। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি ধরা না পড়ে, সে জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পক্ষে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা ওই কিশোরের বাবাকে। তার অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান জানিয়েছেন, স্কুলে কোনো ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতো এবং একটি দল তৈরি করেছিল। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে রোববার সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ রেকর্ড নেই।
সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।’
পুলিশের কাছে অবশ্য অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। এই বয়স ও সামাজিক অবস্থানের ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাদের ওঠাবসা ছিল, তারা তার সহপাঠী নন; বয়সেও বড়। তদন্তে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।
অপ্রতিমের গৃহশিক্ষক মো. আল আমিন বলেন, ‘অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও সে অনেক ম্যাচিউরড ছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন কোটবাড়ি এলাকায় থাকায় এবং তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে সবাই সহজে রিসিভ করতো। সেও বড় ও ছোট—দুই বয়সের মানুষের সঙ্গেই মিশতো। তবে সিনিয়রদের সঙ্গে তার মেলামেশা বেশি ছিল।’
তুহিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তুহিনের সঙ্গে সম্পর্ক কত দিনের, সেটি আমি জানি না। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, তুহিন মোটরসাইকেল দিয়ে অপ্রতিমকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যেতো। ছেলে মানুষ ছিল, তাই বিষয়টি খুব ভালোভাবে রিসিভ করেছে হয়তো। এভাবেই হয়তো তাদের সম্পর্ক বেশি গভীর হয়ে গেছে।’
অপ্রতিমের মামা কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অপ্রতিমরা আগে গন্ধমতি এলাকার আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে রাফিন নামে অপ্রতিমের এক প্রতিবেশী বন্ধু ছিল। রাফিনের বয়স ১৫-১৬ বছর। রাফিনের বন্ধু তুহিন। তুহিনের বয়স ১৯ বছর। রাফিনের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠে অপ্রতিম। সেই সুবাদে রাফিনের বন্ধু তুহিনের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। তবে তুহিনের মোটরসাইকেল থাকায় তারা প্রায়ই ঘুরতে যেতেন। সে কারণে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক অন্যদের তুলনায় বেশি গভীর ছিল।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতিম নিখোঁজের পর আমরা যখন তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন তুহিনকে কল দিই। সে আমাদের বাসায় দেখা করেনি। সে আমাদের সঙ্গে পাশের রামপুরা এলাকায় এসে দেখা করে। ওই সময় তার সঙ্গে সিয়াম নামের একজন ছিল, যাকে পরে পুলিশ আটক করেছে। তখন সে আমাদের জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে তার বের হওয়ার কথা থাকলেও সে বের হয়নি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় আমরা নিশ্চিত হই, বিষয়টি লুকাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার হয়। ততক্ষণে তুহিন পুলিশ হেফাজতে চলে যায়।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আইফোন, পাঁচ হাজার টাকা, তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ঘটনার সময় আরও কয়েকজনের উপস্থিতির বিষয় সামনে এসেছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের কুঁড়ি বিলের চারপাশে বর্তমানে শাপলা ফুলের এক বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে। এই বিলে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করা হচ্ছে। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলেই চোখে পড়ে এক নতুন পৃথিবী। চারপাশে রয়েছে নীল আকাশ, তুলোর মতো সাদা মেঘ, দূরে গারো পাহাড়ের সবুজ রেখা এবং তার নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেই জলরাশির উপর ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন সবুজ পাতার ওপর লাল ফুলের একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরতের এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নে অবস্থিত কুঁড়ি বিলে প্রকৃতির এই নান্দনিক দৃশ্যের দেখা মিলছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১০০ একর এলাকায় এবার বিপুল সংখ্যক লাল শাপলা ফুটেছে। ভোরের কোমল আলোয় যখন শাপলাগুলো পানির ওপর মাথা তুলে দাঁড়ায়, তখন পুরো বিলটি যেন জীবন্ত কোনো ছবির ক্যানভাস হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসছেন। তবে অনেকেই শুধু তীরে দাঁড়িয়ে শাপলা দেখেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। স্থানীয় নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা। চারপাশে লাল শাপলা, পানির মৃদু ঢেউ এবং বৈঠার ছলাৎছল শব্দ, কিছু সময়ের জন্য হলেও যেন ব্যস্ত জীবনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দলবেঁধে নৌকায় ঘুরছেন, ছবি তুলছেন এবং ভিডিও করছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুঁড়ি বিলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুদের উচ্ছ্বাসও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কুঁড়ি বিল একসময় পদ্ম-শাপলা ও নানা জলজ উদ্ভিদে ভরপুর ছিল। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং জলজ ফুলে বিলটি হয়ে উঠত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। সময়ের সঙ্গে বিলের বিভিন্ন অংশে মাছের প্রকল্প গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাই উত্তরাংশে নতুন করে লাল শাপলার বিস্তার স্থানীয়দের জন্য আনন্দের বিষয়।
শাপলা দেখতে আসা মানুষের আনাগোনায় আশপাশের পরিবেশও বদলে গেছে। দর্শনার্থীদের জন্য গড়ে উঠেছে চা, ফুচকা, কফি এবং বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী দোকান। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝির আয়ও বেড়েছে।
তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরাপদ নৌযান, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলের জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং অতিরিক্ত মাছের প্রকল্পের কারণে যেন শাপলার এই রাজ্য হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা এখন শুধুমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি মানুষের আনন্দ, স্থানীয় জীবিকার নতুন সম্ভাবনা এবং হারিয়ে যেতে বসা জলাভূমির ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার একটি আশাবাদের নাম। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করা গেলে গারো পাহাড়ঘেঁষা বকশীগঞ্জের এই প্রত্যন্ত বিলটি জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী বলেন, "কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা দেখতে দূরদূান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসছে, নৌকা দিয়ে ঘুরে ঘুরে ফুলের সুবাস নিচ্ছে এবং আনন্দ উপভোগ করছে।"
এতে এলাকার মানুষও আনন্দ উপভোগ করছেন। তাই কুঁড়ি বিলের শাপলা সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ জানান, "এই বিলে শাপলা ফুল দেখার জন্য অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। ক্ষণিকের জন্য ঘুরতে এসে প্রকৃতির বুকে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুরা। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে এই বিল বাণিজ্যিক শিল্পে নেওয়া যায় কিনা বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘাট ও ফেরির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত এবং নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে উভয় পাড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীতে পলি জমে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ফেরি ভিড়তে না পারায় গত পাঁচদিন ধরে ওই ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে চালু রয়েছে মাত্র দুটি। অপর পাঁচটি ঘাট বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এবং নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই সীমিত ঘাট ও ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। এর ফলে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যান। দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করতে গিয়ে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন চালক, সহকারী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন জানান, নদীতে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে সব ঘাটে ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু পকেট অচল হয়ে পড়ায় সীমিতসংখ্যক ফেরি দিয়ে পারাপার পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ এবং পুরোনো ফেরিগুলোর ধীরগতির কারণে ঘাটের জট এবং ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সাতটি ফেরি পর্যায়ক্রমে সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে পারাপার দ্রুত করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল স্রোতের মধ্যে তারা ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিং করলে স্রোতের প্রবাহে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ড্রেজিং করতে দেরি হবে।
এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোর বেশির ভাগই ২০ থেকে ২২ বছরের পুরোনো। বর্তমানে ৯টি ফেরি চালু থাকলেও এর মধ্যে ৫টি ফেরি পদ্মার ৭ দশমিক ২০ নটিক্যাল মাইল বেগের স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে না।
দিনের বেলায় গাড়ির চাপের কারণে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিতে গাড়ি লোড দিলেও মাঝ নদীতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে দুটি ফেরি মাঝ নদীতে বিপদে পড়েছে।
ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে প্রতিদিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে দুই সারিতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে, হঠাৎ করে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ওই ঘাটের দুই পাশের দোকানপাট, হোটেলসহ অন্যান্য আয়নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাব্যতা সংকট, ঘাটের অপ্রতুলতা, পুরোনো ফেরি এবং তীব্র স্রোতের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে প্রতিদিনই যানজট এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ