প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জামালপুরের কুঁড়ি বিলের চারপাশে বর্তমানে শাপলা ফুলের এক বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে। এই বিলে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করা হচ্ছে। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলেই চোখে পড়ে এক নতুন পৃথিবী। চারপাশে রয়েছে নীল আকাশ, তুলোর মতো সাদা মেঘ, দূরে গারো পাহাড়ের সবুজ রেখা এবং তার নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেই জলরাশির উপর ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন সবুজ পাতার ওপর লাল ফুলের একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরতের এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নে অবস্থিত কুঁড়ি বিলে প্রকৃতির এই নান্দনিক দৃশ্যের দেখা মিলছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১০০ একর এলাকায় এবার বিপুল সংখ্যক লাল শাপলা ফুটেছে। ভোরের কোমল আলোয় যখন শাপলাগুলো পানির ওপর মাথা তুলে দাঁড়ায়, তখন পুরো বিলটি যেন জীবন্ত কোনো ছবির ক্যানভাস হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসছেন। তবে অনেকেই শুধু তীরে দাঁড়িয়ে শাপলা দেখেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। স্থানীয় নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা। চারপাশে লাল শাপলা, পানির মৃদু ঢেউ এবং বৈঠার ছলাৎছল শব্দ, কিছু সময়ের জন্য হলেও যেন ব্যস্ত জীবনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দলবেঁধে নৌকায় ঘুরছেন, ছবি তুলছেন এবং ভিডিও করছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুঁড়ি বিলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুদের উচ্ছ্বাসও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কুঁড়ি বিল একসময় পদ্ম-শাপলা ও নানা জলজ উদ্ভিদে ভরপুর ছিল। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং জলজ ফুলে বিলটি হয়ে উঠত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। সময়ের সঙ্গে বিলের বিভিন্ন অংশে মাছের প্রকল্প গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাই উত্তরাংশে নতুন করে লাল শাপলার বিস্তার স্থানীয়দের জন্য আনন্দের বিষয়।
শাপলা দেখতে আসা মানুষের আনাগোনায় আশপাশের পরিবেশও বদলে গেছে। দর্শনার্থীদের জন্য গড়ে উঠেছে চা, ফুচকা, কফি এবং বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী দোকান। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝির আয়ও বেড়েছে।
তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরাপদ নৌযান, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলের জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং অতিরিক্ত মাছের প্রকল্পের কারণে যেন শাপলার এই রাজ্য হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা এখন শুধুমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি মানুষের আনন্দ, স্থানীয় জীবিকার নতুন সম্ভাবনা এবং হারিয়ে যেতে বসা জলাভূমির ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার একটি আশাবাদের নাম। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করা গেলে গারো পাহাড়ঘেঁষা বকশীগঞ্জের এই প্রত্যন্ত বিলটি জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী বলেন, "কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা দেখতে দূরদূান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসছে, নৌকা দিয়ে ঘুরে ঘুরে ফুলের সুবাস নিচ্ছে এবং আনন্দ উপভোগ করছে।"
এতে এলাকার মানুষও আনন্দ উপভোগ করছেন। তাই কুঁড়ি বিলের শাপলা সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ জানান, "এই বিলে শাপলা ফুল দেখার জন্য অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। ক্ষণিকের জন্য ঘুরতে এসে প্রকৃতির বুকে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুরা। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে এই বিল বাণিজ্যিক শিল্পে নেওয়া যায় কিনা বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন