১০:৫৫ এম
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর মাত্র এক শতাংশ জমিতে তৈরি হয়েছে। ৮৫ ফুট লম্বা ও মাত্র ৫ ফুট চওড়া এই ঘরের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
ঘরটির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালাল। দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্পপেন্নাই গ্রামে ডোবা ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়ার এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি শাহজালালের পরিবারের একমাত্র বসতঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। শাহজালাল তখন দেশে মাইক্রোবাস চালাতে শুরু করেছিলেন। পরে তিনি ইরাকে চলে যান এবং কয়েক বছর পর দেশে ফেরেন। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাসে পাঠানো টাকায় চলতি বছরের জুন মাসে এই ঘরটি নির্মিত হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে শাহজালাল তার বাবার কাছ থেকে এক শতাংশ নিচু জমি কেনেন। একই সময়ে তিনি পৈত্রিক ভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্বজনদের সঙ্গে জায়গা নিয়ে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার কারণে তিনি প্রায় সবকিছুই হারিয়ে ফেলেন। একসময় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে কখনো আবার খোলা আকাশের নিচেও থাকতে হয়েছে।
ঘরটি মাত্র ৫ ফুট চওড়া হলেও এতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবেশমুখে রান্নাঘর, খাবার রাখার জায়গা, শোয়ার কক্ষ, পোশাক রাখার স্থান, পানি তোলার মোটর এবং শৌচাগারও রয়েছে। ঘরের সামনে চলাচলের জন্য এবং পেছনে বসার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে।
খাদিজা আক্তার জানান, ছোট ঘর হলেও তারা তিন সন্তানকে নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। রাতের বেলায় ছোট চৌকিতে সবাই মিলে ঘুমান। জায়গার অপ্রতুলতার কারণে অতিরিক্ত শোয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে করতে হয়।
ঘরটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের ভাষ্য, নিজের চোখে না দেখলে এত ছোট জায়গায় একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করছে, তা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজের কোনো থাকার জায়গা ছিল না। অনেক কষ্টের পর তারা একান্তই অল্প জায়গার মধ্যেই মাথা গোঁজার জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার জানান, শাহজালাল দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও সীমিত আয়ের কারণে বড় জায়গা কেনার সুযোগ পাননি। এলাকায় এক শতাংশ ডোবার জমির দামও অত্যন্ত বেশি। তাই বাধ্য হয়ে তারা অল্প জায়গাতেই তাদের স্বপ্নের ঘর তৈরি করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন