১১:০৪ এম
ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে, দুর্বৃত্তরা একজন নারী চিকিৎসককে হত্যা করেছে। সারা রোকসানা পিনুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার ঘটনাটি ঘটে ভবনের দ্বিতীয় তলার এক ফ্ল্যাটে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। খুন হওয়ার পর ঘরের কিছু জিনিসপত্রও লুট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার দুই স্কুল পড়ুয়া ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই নারী একা ছিলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পারিবারিক সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সারা রোকসানাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের ছেলে জানিয়েছে, "আমি বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "স্বর্ণালংকারের জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছে বলে আমাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়া হবে।"
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন। তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন এবং মেয়ে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, "বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।" একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের জিনিসপত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।"
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব জানান, সাধারণত স্কুল ছুটির পরে নিহত নারী মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে শিক্ষক তার বাবাকে খবর দেন।
এসআই হাবিব আরো জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। তখন নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সাথে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন