সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪১ পি.এম
বিচারকের আসনে বসার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আরিফুল হক সিয়াম। নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় তিনি এবার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত প্রস্তুতি, নিরলস পরিশ্রম এবং পরিবারের অনুপ্রেরণা।
জজ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে আরটিভির মুখোমুখি হয়েছেন আরিফুল হক সিয়াম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভির রাবি সংবাদদাতা সায়েম চৌধুরী।
আরটিভি: বিচারক হওয়ার স্বপ্নটি কখন এবং কিভাবে তৈরি হয়েছিল?
আরিফুল হক সিয়াম: জজ হওয়ার ইচ্ছাটা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। আইন পড়া শুরু করার পর থেকেই বিচার বিভাগ আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করত। একজন বিচারক আইন, যুক্তি, ন্যায়বোধ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, এই চারটি বিষয়কে ধারণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিভিন্ন মামলার রায়, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে পড়তে গিয়ে ধীরে ধীরে মনে হয়েছে, বিচারক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বটি আমার ব্যক্তিত্ব ও চিন্তার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরটিভি: প্রথম হওয়ার অনুভূতি এবং ফল প্রকাশের মুহূর্তটি কেমন ছিল?
আরিফুল হক সিয়াম: যখন জানতে পারলাম যে আমি দেশব্যাপী প্রথম হয়েছি, প্রথমে কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এরপর আনন্দের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি একটি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছি। মনে হয়েছে, এই ফল শুধু আমার একার নয়। আমার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যারা পুরো যাত্রায় আমাকে সহযোগিতা করেছেন, সবার সম্মিলিত অবদান এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আরটিভি: প্রথম হয়েছেন—এটা জানার পর প্রথম কাকে জানিয়েছেন?
আরিফুল হক সিয়াম: আমার কাছে এই মুহূর্তটার সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল সাফল্যের খবরটা নিজের মধ্যে আটকে না রেখে প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। পাশের রুমে মা ছিলেন। সবার আগে তাকেই জানিয়েছি। বাবা বাইরে কাজে ছিলেন, মাকে জানানোর পর তাকে ফোন করে জানিয়েছি।
আরটিভি: প্রস্তুতিতে সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি ছিল?
আরিফুল হক সিয়াম: আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল দীর্ঘ সময় ধরে একই লক্ষ্য ধরে রাখা। একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি কয়েক মাসের বিষয় নয়; দীর্ঘ সময় নিয়মিত পড়াশোনা, নিজের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করা এবং বারবার নিজেকে যাচাই করার বিষয়।
বিশেষ করে এমন সময় এসেছে, যখন পড়াশোনা করেও মনে হয়েছে হয়তো যথেষ্ট হচ্ছে না। আবার কখনো কোনো বিষয় প্রত্যাশা মতো ভালো হয়নি। তখন হতাশ না হয়ে কোথায় ঘাটতি আছে সেটা চিহ্নিত করে আবার শুরু করতে হয়েছে। আমি মনে করি, প্রস্তুতির সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল শুধু পড়াশোনা নয়, বরং নিজের ওপর বিশ্বাসটা ধরে রাখা।
আরটিভি: আপনার জীবনে এমন কোনো মানুষ আছে, যাকে এই সাফল্যের বিশেষ কৃতিত্ব দিতে চান?
আরিফুল হক সিয়াম: একজনকে আলাদা করে কৃতিত্ব দেওয়া আমার জন্য কঠিন। কারণ, এই সাফল্যের পেছনে আমার পরিবারের দোয়া, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন সময়ে পাওয়া অনেক মানুষের সহযোগিতা রয়েছে। তবে যদি কাউকে কৃতিত্ব দিতেই হয় সেটা অবশ্যই আল্লাহর। আল্লাহ চেয়েছিলেন বলেই আমাকে তিনি সম্মানিত করেছেন।
আরটিভি: নতুন করে যারা জজ নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে, সাফল্যের ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?
আরিফুল হক সিয়াম: আমি প্রথমেই বলব, এটাকে শুধু একটি চাকরির পরীক্ষা হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি হিসেবে নিতে হবে। প্রথমত, আইনের মৌলিক বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। শুধু ধারা মুখস্থ করলে হবে না, ধারাটির উদ্দেশ্য কী, প্রয়োগ কীভাবে হয়, আদালতের সিদ্ধান্ত কী এবং একটি বিধানের সঙ্গে অন্য বিধানের সম্পর্ক কী এসব বুঝতে হবে।
দ্বিতীয়ত, লিখিত পরীক্ষার জন্য লেখার অনুশীলন করতে হবে। ভালো জানা আর পরীক্ষার খাতায় ভালোভাবে উপস্থাপন করা এক বিষয় নয়।
তৃতীয়ত, প্রতিদিনের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা পড়ার লক্ষ্য করে তিন দিন পর থেমে যাওয়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়া অনেক বেশি কার্যকর।
চতুর্থত, নিজের ভুলগুলোকে ভয় পাওয়া যাবে না। মডেল টেস্ট, লিখিত পরীক্ষা বা মক ভাইভায় কোথায় ভুল হচ্ছে সেটা বের করে সংশোধন করতে হবে।
সবশেষে বলব, অন্যের প্রস্তুতির সঙ্গে নিজের প্রস্তুতির তুলনা না করে নিজের গতিটা ধরে রাখুন। এই পরীক্ষায় মেধার পাশাপাশি ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া। তাই নিয়মিত তার কাছে চাইতে হবে, তাকে ডাকতে হবে।
আরটিভি: ভবিষ্যতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য কি হবে?
আরিফুল হক সিয়াম: আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে একজন ন্যায়পরায়ণ, নিরপেক্ষ এবং দায়িত্বশীল বিচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। একই সঙ্গে আমি মনে করি, ন্যায়বিচার শুধু সঠিক রায় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সময়মতো বিচার দেওয়া, পক্ষপাতমুক্ত থাকা, আইনকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের প্রতি মানবিক থাকা, সবকিছুই বিচারিক দায়িত্বের অংশ।
আমি বিশ্বাস করি একজন বিচারকের হাতের কলম একজন যোদ্ধার হাতের তরবারির চাইতেও বেশি ভারী। আর আল্লাহ আমাকে সেই ভার সহ্য করবার শক্তি যেন দেন সেই দোয়া সকলের কাছে আমি চাই।
আরটিভি: বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা থাকবে।
আরিফুল হক সিয়াম: আপনাকেও ধন্যবাদ। আরটিভির পাঠকদেরকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শৌচাগার থেকে আবুল কালাম আবু (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে, মসজিদের শৌচাগারের টিনের চালের আড়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল কালাম আবু রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বিল এলাকার মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে ছিলেন। তিনি বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা সকালে মসজিদের শৌচাগারের টিনের চালের আড়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল করিম বান্টু বলেন, "আবু অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কিত। এটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা এখনই বলা কঠিন।"
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মনজুরুল আহসান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক আর্থিক সমস্যা কিংবা পারিবারিক কোনো সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, "প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।"
এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাইশারীর ছাদুঅং পাড়ার একটি বৌদ্ধ বিহারের মাঠ থেকে কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম বাবুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আবুল কালামের মৃত্যু ও জাফর আলম বাবুলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করার পর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মারা গেছেন। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. ফখরুল ইসলাম, বয়স ৪২ বছর। তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত ছিলেন।
মৃত ফখরুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মৃত সানাউল হকের পুত্র। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিআইডিতে পোস্টিং পান। এর পূর্বে, তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এএসআই মো. ফখরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থিত সিআইডি অফিসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তার সহকর্মীরা তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহসান হাবিব এ বিষয়ে জানান, ওই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার মৃত্যু কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদ্রোগের কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, সিআইডিতে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তার মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের আমিষের ঘাটতি পূরণে দেশের মুক্ত ও বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারাদেশের আনাচেকানাচে মৎস্য চাষের ধারাবাহিকতায় সংসদ ভবন লেকে পর্যায়ক্রমে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবন লেকে পোনামাছ অবমুক্তকরণের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকা মৎস্য উৎপাদন ও আহরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
এ সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ ভবন লেকে মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের জনগণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এদেশের জনগণ মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে আগ্রহী হবেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছ-মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তান থাকুক দুধে-ভাতে’ ও ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বাস্তবায়নে দেশের সব আনাচে-কানাচে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
সংসদ ভবন লেকে মোট ১২০০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৫০ কেজি রুই, মৃগেল, কাতলা ও কালিবাউশ জাতীয় পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় শৌচাগারের কথা বলে ২৫ মামলার আসামী রাজা, যিনি পিচ্চি রাজা নামে পরিচিত, তার পলায়নের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আসামী রাজার পলায়নের পর পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কমিশনার আরও জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য রোববার সকালে পিচ্চি রাজাকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে ফের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। পরে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় রাজা।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথে নাওজোড় এলাকায় প্রাকৃতিক কাজ সারার কথা বলে সে শৌচাগারে যায়। সেখান থেকেই পালিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা, যিনি পিচ্চি রাজা নামে পরিচিত, গ্রেপ্তার হন। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবর পেয়ে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ২৫টির মতো মামলা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ