ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিসি ক্যামেরার গোপন ভিডিও ফাঁস ঠেকাতে যা করতে হবে


সিসি ক্যামেরার গোপন ভিডিও ফাঁস ঠেকাতে যা করতে হবে

বর্তমান সময়ে সিসি ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে বাড়ি, অফিস, দোকান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য। তবে এই ব্যবহারের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নিয়ে গোপনীয়তার চরম অভিযোগও উঠেছে। বিশ্বের নানা স্থানে হ্যাকারদের খপ্পরে পড়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হওয়া, তথ্যের পরিবর্তন বা অন্যের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের নানা ঘটনা ঘটে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ঘটনার পেছনে জটিল হ্যাকিং নয়, বরং ব্যবহারকারীর কিছু সাধারণ ভুলই প্রধান কারণ হয়ে থাকে।

সিসি ক্যামেরায় সাধারণত ব্যবহৃত হয় ‘admin’, ‘123456’ বা নির্মাতার দেওয়া ডিফল্ট পাসওয়ার্ড। এটি গোপনীয়তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধীরা ক্যামেরার মধ্যে অ্যাক্সেস পেতে প্রচুর চেষ্টা করে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ক্যামেরা চালু হওয়ার পর ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা জরুরি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অনেক ব্যবহারকারী একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এতে এক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশ সহজ হয়ে যায়। সাইবার নিরাপত্তায় এটি ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’ নামে পরিচিত।

সিসি ক্যামেরা কম্পিউটারের মতো কার্যকরী। তাই এর সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যারে নিরাপত্তাজনিত কিছু সমস্যা থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়মিত এই ত্রুটিগুলি ঠিক করার চেষ্টা করে। তবে ব্যবহারকারীদেরও নিয়মিত আপডেট ইনস্টল করা উচিত। যদি তারা এটি না করে, তাহলে পুরোনো দুর্বলতাগুলি হ্যাকারদের জন্য প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে।

যেসব ক্যামেরা বা অ্যাপ টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সমর্থন করে, সেগুলি ব্যবহার করা উচিত। এতে পাসওয়ার্ড জানলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া ক্যামেরায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

হোটেল, ক্যাফে বা বিমানবন্দরের উন্মুক্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সব সময় নিরাপদ হয়ে ওঠে না। এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে গেলে তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা বা নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করাই শ্রেয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

অনেকে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, সম্ভব হলে ক্যামেরা নির্মাতার অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ। অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি থাকতে পারে।

প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি, ক্যামেরার স্থাপন স্থানও জরুরি। শোবার ঘর, বাথরুম বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্থানে ক্যামেরা বসানো থেকে বিরত থাকা উচিত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার বিপদই বেশি।

ক্লাউড সিস্টেম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। আধুনিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও ক্লাউডে সরাসরি সংরক্ষিত হয়। ক্লাউড সেবা ব্যবহারের সময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, ২-ধাপ যাচাই এবং নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পরীক্ষা করা উচিত। অপরদিকে, অপ্রয়োজনীয় পুরোনো ডিভাইসের অ্যাক্সেস মুছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

পুরোনো ক্যামেরা বিক্রি বা অন্যদের দেওয়ার আগে কেবল মেমোরি কার্ড খুলে ফেলা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভাইসটিকে ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করে সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করতে হবে। প্রয়োজনে ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকেও ডিভাইসটি অপসারণ করতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত: পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হওয়া, অচেনা ডিভাইস থেকে লগইনের নোটিফিকেশন, ক্যামেরার নিজে থেকে ঘুরে যাওয়া (পিটিজিডি ক্যামেরার ক্ষেত্রে), অস্বাভাবিক ডেটা ব্যবহার এবং অচেনা সময়ে ক্যামেরা অনলাইনে দেখা যাওয়া।

সচেতনতা দিয়ে নিরাপত্তা শুরু হয়। সিসি ক্যামেরার প্রধান উদ্দেশ্য হল গোপনীয়তা বজায় রেখে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। কিন্তু সামান্য অসাবধানতার ফলে ব্যক্তিগত জীবনকে সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত আপডেট করা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অফিসিয়াল সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো সহজ অভ্যাসগুলো অধিকাংশ ঝুঁকি কমিয়ে ফেলতে পারে। প্রযুক্তির স্মার্ট হওয়ার সাথে সাথে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই শুধু ক্যামেরা কেনা নয়, এটিকে নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি উৎপাদনের অভিযোগে কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি উৎপাদনের অভিযোগে কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ঘি উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ অভিযানে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বিসিক শিল্পনগরীর আবু তাহের ছানা কোম্পানিতে সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি সরবরাহের অর্ডার নিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে কারখানা থেকে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে পাত্র ছিল। জব্দ করা ঘি ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ আদালতের অনুষ্ঠানে ধ্বংস করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, জানা গেছে, কারখানাটির মূল মালিক আব্দুল মান্নান। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেনের ভাই। অভিযানের সময় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন উৎপাদনের অনুমোদন পেলেও বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ঘি তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘি বাবুর্চিদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরবরাহ করা হত।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিসিক শিল্পনগরীতে ‘আবু তাহের ছানা কোম্পানি’ নামে জমি বরাদ্দ নিলেও বর্তমানে ‘তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সয়াবিন তেল, ডালডা ও ফ্লেভার ব্যবহার করে ঘি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে

গফরগাঁওয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২২ এম


গফরগাঁওয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গফরগাঁও শাখা, ময়মনসিংহ শাখা, ভালুকা কৃষি শাখা, হালুয়াঘাট শাখা ও করিমগঞ্জ শাখার যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনব্যাপী জানানো হয়েছিল উপজেলার শাঁখচুড়া উচ্চ বিদ্যালয়, আঠারোদানা (বহুমুখী) উচ্চ বিদ্যালয় ও আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া দারুল উলুম মার্কাজ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গফরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে এবং শাখা কর্মকর্তা মহিবুস সালেহীনের উপস্থাপনায় আলোচনা সভা, বৃক্ষ রোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জোনাল হেড ও ময়মনসিংহ শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ হাবিবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা এস এমই/ কৃষি শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, করিমগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং হালুয়াঘাট শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের বক্তারা ইসলামী ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানের পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচীর বর্ণনা প্রদান করেন।

জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জনসচেতন বৃদ্ধিতে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ।

সভাশেষে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয় এবং বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবুজবাগে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


সবুজবাগে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবকের মৃত্যু

রাজধানীর সবুজবাগে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. পলাশ (৩৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ বাজার এলাকার পানির পাম্প সংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে।

গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত পলাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি একজন প্রাইভেটকার চালক হলেও গত কিছুদিন ধরে তিনি সেই কাজ বন্ধ রেখেছিলেন।

নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী হীরা জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পলাশ রাজারবাগ বাজারের একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় রয়েল, সবুজ ও নাঈমসহ একদল দুর্বৃত্ত এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পলাশের দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং বুক ও মাথায় গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবুজবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলার জয়যাত্রার নাবিকেরা দেশে ফিরেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ এম


বাংলার জয়যাত্রার নাবিকেরা দেশে ফিরেছেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন আটকা থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’-এর নাবিকেরা অবশেষে দেশে ফিরেছেন। এই জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের অবরুদ্ধ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ বিকেলবেলা ঢাকায় অবতরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দেশবাসী যাঁরা দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার সময়ে অনেক জাহাজের নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেন। অনেক জাহাজ খাবার ও পানির সংকটে পড়ে এবং কিছু জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ডুবেও যায়।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল এবং আশপাশে জাহাজগুলো ডুবে যাচ্ছিল। তখন সরকার তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বললেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।

জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।

জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা কার্যকরী নয় হয়ে পড়ায় তাঁরা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে বাধ্য হন। এছাড়া, এলাকায় মাইন থাকার কারণে সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।

নাবিকেরা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছালেন, তখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়ে সম্মান দেখান। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে, কাতারের একটি বন্দরে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় উপসাগর এলাকায় আটকা পড়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%