১২:০৯ এম
বর্তমান সময়ে সিসি ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে বাড়ি, অফিস, দোকান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য। তবে এই ব্যবহারের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নিয়ে গোপনীয়তার চরম অভিযোগও উঠেছে। বিশ্বের নানা স্থানে হ্যাকারদের খপ্পরে পড়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হওয়া, তথ্যের পরিবর্তন বা অন্যের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের নানা ঘটনা ঘটে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ঘটনার পেছনে জটিল হ্যাকিং নয়, বরং ব্যবহারকারীর কিছু সাধারণ ভুলই প্রধান কারণ হয়ে থাকে।
সিসি ক্যামেরায় সাধারণত ব্যবহৃত হয় ‘admin’, ‘123456’ বা নির্মাতার দেওয়া ডিফল্ট পাসওয়ার্ড। এটি গোপনীয়তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে সাইবার অপরাধীরা ক্যামেরার মধ্যে অ্যাক্সেস পেতে প্রচুর চেষ্টা করে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ক্যামেরা চালু হওয়ার পর ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা জরুরি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অনেক ব্যবহারকারী একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এতে এক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশ সহজ হয়ে যায়। সাইবার নিরাপত্তায় এটি ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’ নামে পরিচিত।
সিসি ক্যামেরা কম্পিউটারের মতো কার্যকরী। তাই এর সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যারে নিরাপত্তাজনিত কিছু সমস্যা থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়মিত এই ত্রুটিগুলি ঠিক করার চেষ্টা করে। তবে ব্যবহারকারীদেরও নিয়মিত আপডেট ইনস্টল করা উচিত। যদি তারা এটি না করে, তাহলে পুরোনো দুর্বলতাগুলি হ্যাকারদের জন্য প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে।
যেসব ক্যামেরা বা অ্যাপ টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সমর্থন করে, সেগুলি ব্যবহার করা উচিত। এতে পাসওয়ার্ড জানলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া ক্যামেরায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
হোটেল, ক্যাফে বা বিমানবন্দরের উন্মুক্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সব সময় নিরাপদ হয়ে ওঠে না। এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে গেলে তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা বা নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অনেকে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, সম্ভব হলে ক্যামেরা নির্মাতার অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ। অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি থাকতে পারে।
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি, ক্যামেরার স্থাপন স্থানও জরুরি। শোবার ঘর, বাথরুম বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্থানে ক্যামেরা বসানো থেকে বিরত থাকা উচিত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার বিপদই বেশি।
ক্লাউড সিস্টেম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। আধুনিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও ক্লাউডে সরাসরি সংরক্ষিত হয়। ক্লাউড সেবা ব্যবহারের সময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, ২-ধাপ যাচাই এবং নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পরীক্ষা করা উচিত। অপরদিকে, অপ্রয়োজনীয় পুরোনো ডিভাইসের অ্যাক্সেস মুছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
পুরোনো ক্যামেরা বিক্রি বা অন্যদের দেওয়ার আগে কেবল মেমোরি কার্ড খুলে ফেলা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভাইসটিকে ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করে সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করতে হবে। প্রয়োজনে ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকেও ডিভাইসটি অপসারণ করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত: পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হওয়া, অচেনা ডিভাইস থেকে লগইনের নোটিফিকেশন, ক্যামেরার নিজে থেকে ঘুরে যাওয়া (পিটিজিডি ক্যামেরার ক্ষেত্রে), অস্বাভাবিক ডেটা ব্যবহার এবং অচেনা সময়ে ক্যামেরা অনলাইনে দেখা যাওয়া।
সচেতনতা দিয়ে নিরাপত্তা শুরু হয়। সিসি ক্যামেরার প্রধান উদ্দেশ্য হল গোপনীয়তা বজায় রেখে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। কিন্তু সামান্য অসাবধানতার ফলে ব্যক্তিগত জীবনকে সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত আপডেট করা, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অফিসিয়াল সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো সহজ অভ্যাসগুলো অধিকাংশ ঝুঁকি কমিয়ে ফেলতে পারে। প্রযুক্তির স্মার্ট হওয়ার সাথে সাথে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই শুধু ক্যামেরা কেনা নয়, এটিকে নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন