১২:৩৫ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন আটকা থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’-এর নাবিকেরা অবশেষে দেশে ফিরেছেন। এই জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের অবরুদ্ধ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ বিকেলবেলা ঢাকায় অবতরণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দেশবাসী যাঁরা দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার সময়ে অনেক জাহাজের নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেন। অনেক জাহাজ খাবার ও পানির সংকটে পড়ে এবং কিছু জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ডুবেও যায়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল এবং আশপাশে জাহাজগুলো ডুবে যাচ্ছিল। তখন সরকার তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বললেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।
জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা কার্যকরী নয় হয়ে পড়ায় তাঁরা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে বাধ্য হন। এছাড়া, এলাকায় মাইন থাকার কারণে সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।
নাবিকেরা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছালেন, তখন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়ে সম্মান দেখান। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে, কাতারের একটি বন্দরে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় উপসাগর এলাকায় আটকা পড়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন