ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশের আরও কিছু দায়িত্ব বাকি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


পুলিশের আরও কিছু দায়িত্ব বাকি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সাতজনের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার জন্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি বলেন, পুলিশের আরও কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, "আমরা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে চাই।" মেট্রোপলিটন এলাকায় যারা চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়ে দেন, যদি চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনও সদস্য জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, "চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে।" যদি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে চাঁদাবাজদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে সেই সদস্যদেরও তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সংকট চলছে, তা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট তৈরি করেনি; বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া। তবে, সরকার পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করছে।

অর্থমন্ত্রী একইসঙ্গে বলেছেন, এ সংকট কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। কিছু ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। আগামীতে, পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। এ কারণেই অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কিছু সময় লাগবে। সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। তবে, সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে এই বাস্তবতা বুঝতে হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা উল্লেখ করেছেন আমির খসরু। তিনি বলেন, এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিচ্ছে। ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান এমনদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে কাগজে ঋণ দেখানো কোনো অর্থ রাখে না। তাই ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও যদি কোনো ব্যাংকে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকারের কাছে বিষয়টি জানানো দরকার।

ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে, অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল। এবার তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না। আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে হবে। আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা করতে হবে এবং সরকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবাই মিলে ঢাকাকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো: ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


সবাই মিলে ঢাকাকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, এই মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি वृক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি নির্দেশনার আলোকেই এই দীর্ঘমেয়াদী সবুজায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এসেছে, যা একটি টেকসই পরিবেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, নগরীর সবুজায়ন কর্মসূচিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৫ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং মহাখালী, ফার্মগেট, বিজয়নগরসহ প্রধান সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পুরো অঞ্চলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে সবুজায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো রোপণকৃত গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা। কর্মসূচির আওতায় ৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি রোপণকৃত গাছগুলোর পরিচর্যা কাজে যুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীদের বন্ধুবান্ধবদের উৎসাহিত করতে পরবর্তীতে তাদের বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এই উদ্যোগকে অত্যন্ত মহৎ ও দূরদর্শী অভিহিত করে প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে এভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় সম্পৃক্ত করা অন্য সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সবুজায়নের পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার ওপর জোর দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, কেবল সিটি করপোরেশনের একক প্রচেষ্টায় একটি মেগাসিটিকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বশীল এবং সচেতন হতে হবে।

তিনি রাস্তায় কিংবা যত্রতত্র প্লাস্টিক বোতল, ওয়ান টাইম কাপ, টিস্যু, পানির কন্টেইনার এবং আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিন বা স্থানে ফেলার অনুরোধ করেন। নাগরিকদের সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা 'ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা' রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৬ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জহুরুল আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেম প্রমুখ।

আরিটিভি/ এসকেডি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিষে নীল সুন্দরবন, জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


বিষে নীল সুন্দরবন, জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে নতুন করে ‘বিষদস্যুদের’ দৌরাত্ম্য দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ে বেশি মাছ শিকারের আশায় সুন্দরbনের ছোট ছোট খালে কীটনাশক ও বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করছে এক শ্রেণির অসাধু জেলে। বিষক্রিয়ায় মারা পড়ছে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য।

শুধু মাছ শিকারেই থেমে নেই এই চক্র। সুন্দরবনের গভীরে টংঘর ও মাচা তৈরি করে আগুন জ্বালিয়ে বিষে ধরা ছোট চিংড়ি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শুঁটকি। একই সঙ্গে বিষে মারা যাওয়া অন্যান্য মাছ গোপনে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন হাট-বাজারের আড়তে। বিষাক্ত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকা মাছ না জেনেই কিনে খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে পরিবেশের পাশাপাশি বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও।

সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিষ দিয়ে ধরা মাছ, চিংড়ি শুঁটকি, কীটনাশক, বিষাক্ত রাসায়নিক, নৌকা ও জাল জব্দ করেছে বন বিভাগ। শুঁটকি তৈরির কয়েকটি টংঘর ও আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে আটক না করায় পুরো চক্রের নিয়ন্ত্রণ ও তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। নিয়মিত অভিযান, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, ফুট প্যাট্রোলিং এবং বিভিন্ন শাখা খালের মুখে বেড়া দেওয়ার ফলে অপরাধীদের বনে প্রবেশ অনেকটা কঠিন হয়েছে। তবে এসব বাধা অতিক্রম করে কেউ কেউ গোপনে বনে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগের চেষ্টা করছে।

সুন্দরবন-সংলগ্ন জেলে ও বনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসাধু জেলেরা জোয়ারের শুরুতে ছোট খালের মুখে কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক ঢেলে দেয়। বিষ পানিতে মিশে স্রোতের সঙ্গে খালের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ দুর্বল হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, একবার কোনো খালে বিষ প্রয়োগ করা হলে দীর্ঘ সময় সেখানে মাছের উপস্থিতি কমে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা এক জেলে বলেন, মাছ কমে যাওয়ায় অনেকে অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার জন্য বিষ ব্যবহার করছেন। তবে এর ফলে সুন্দরবনের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী জেলেদের বিষ দিয়ে মাছ ধরতে উৎসাহিত করেন। এমনকি তারা জেলেদের কাছে কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক সরবরাহ করেন। স্থানীয় বাজারের কিছু দোকানেও গোপনে এসব রাসায়নিক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, বিষ প্রয়োগের কারণে সুন্দরবনের সিলন টেংরা, চিত্রা, রিঠা, কাইন মাগুর, বাটা, পারসে-সহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের প্রজাতি হুমকির মুখে পড়েছে। যদি এভাবে চলতে থাকে তবে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের অনেক প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে পারে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তারেক আরাফাত বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা কেবল একটি অবৈধ পদ্ধতি নয়, এটি পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের ডিম, রেণু, পোনা, চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও ক্ষুদ্র জীব ধ্বংস হতে পারে। এতে পানির স্বাভাবিক গুণগত মানও নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, বিষাক্ত মাছ ও জলজ প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুতন্ত্র, যকৃত ও কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু রাসায়নিক দীর্ঘদিন পানি, কাদা ও তলদেশের পলিতে থেকে গিয়ে বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে বন বিভাগের নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পানি, মাটি ও জলজ প্রাণীর দেহে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা উচিত। বনজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে সুন্দরবনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিষদস্যুসহ সব ধরনের বন অপরাধ দমনে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালনা করছে। স্মার্ট প্যাট্রোলিং, ফুট প্যাট্রোলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর বন অপরাধ অনেকটাই কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বন অপরাধ দমনে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বন বিভাগকে সহায়তা করতে হবে। আর বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। যদি না হয়, তবে অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার এই অবৈধ প্রবণতা ভবিষ্যতে সুন্দরবনের জলজ সম্পদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসার শিক্ষকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসার শিক্ষকের মৃত্যু

নওগাঁর পোরশায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক মাদরাসাশিক্ষক রায়হান কবির (২৮) এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের অধীনে দয়াহার শেখপাড়া মাদরাসার সংলগ্ন পুকুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রায়হান কবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার দামদিপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র ছিলেন। তিনি দয়াহার শেখপাড়া কওমি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের সময়ে মাদরাসা-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে যান রায়হান কবির। সাঁতার কাটতে কাটতে পুকুরের মাঝখানে পৌঁছালে তিনি হঠাৎ করে পানির নিচে তলিয়ে যান।

এ ঘটনার দৃশ্য দেখে মাদরাসার সহকর্মী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এরপর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%