রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৬ পি.এম
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তার শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং পিএসসির কর্মকর্তারা।
এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।
সম্প্রতি অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনি ১৮ আগস্ট পদত্যাগ করেন, ফলে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তৎকালীন পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৮ জন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৩ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এখন এক লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর মোট সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। এই সময়ের মধ্যে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।
এই তথ্যটি তিনি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে প্রদান করেন।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম জানতে চান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক হিসাব কী?
অর্থমন্ত্রী তার জবাবে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংক (অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসি) এর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে সর্বাধিক খেলাপি ঋণ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯০২৯.৬৭ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮.৭৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮১৩১.০৯ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫৩৯৬.৬৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯২৮১.৭৪ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫০৪৮.৩৯ কোটি টাকা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বনানী থানা এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির হত্যার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানার পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬), এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বনানী থানার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বনানী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল এবং গলায় কালো দাগ দেখা যায়। পরে সুরতহাল সম্পন্ন করে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
নিহতের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম ইসমাইল হোসেন (৪৯) বলে জানা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তার ছেলে হাসান জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান।
ঘটনার পর বনানী থানার পুলিশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা শুরু করে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি যাত্রীবাহী বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাসটি শনাক্ত করা হয়। পরে জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
অভিযানকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং হেলপার মো. মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাইত বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। পরে বাসের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করতে থাকে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ভিকটিমের কাছে ভাড়া চাইলে ইসমাইল লুঙ্গির কোচর থেকে টাকা বের করে ভাড়া পরিশোধ করেন। এ সময় সুপারভাইজার ধারণা করেন, তার কাছে আরও টাকা রয়েছে। বিষয়টি বাসচালক সোহেল রানাকে জানালে সেও ইসমাইলের কাছে আরও টাকা থাকার কথা বলে। এরপর তারা ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং তার নাক-মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেয়। এরপর গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরবর্তীতে মরদেহ বাসে করে ঢাকায় নিয়ে আসে তারা। বিমানবন্দর এলাকা দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে বনানীতে নেমে কাকলি মোড় হয়ে পুনরায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে। পরে কাকলি থেকে কুড়িলগামী অংশে ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে বাসটি কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে চলে যায়।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের বাস, দুটি গামছা, বাসের রক্তমাখা দুটি সিট কভার এবং একটি ফিচার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সাজু ওরফে লিমনের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা, দুটি মাদক মামলা ও দুইটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
এই ঘটনায় বনানী থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিতর্ক যেন শেষ হচ্ছে না। লডর্সে পরাজয়ের পর, কোচ এবং বেশ কিছু খেলোয়াড়কে ছাঁটাই করার পর, পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট দলের সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এজবাস্টন টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন পিসিবির হেফাজতে থাকবে।
তবে, কোন কোন ক্রিকেটারের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কেন পিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুম ও প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস এরিয়ায় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইসিসির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (৪.১.১, ৪.১.২ এবং ৪.১.৩) বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহার বা অন্য কোনো কারণে খেলোয়াড়দের মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ল্যান্ডলাইন ফোন বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বারণ।
পেশাদার ক্রিকেটে সাধারণত এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু পিসিবির এই পদক্ষেপ আইসিসির সাধারণ প্রটোকলের চেয়েও কঠোর।
কোনো ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে একেবারেই নজিরবিহীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ