শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৩ পি.এম
জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফিলিস্তিন ও এর জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং এই সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যা কিছু ঘটছে, প্রতিটি রাষ্ট্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে, যা মানবিক সংকট তৈরি করছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে— এমন একটি মানবিক সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরপর তিনি স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এদেশের শান্তিরক্ষীরা।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাবা-মায়ের পর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
একই পরিবারের তিন সদস্য, বাবা, মা ও সন্তান, রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার ইতিহাস দ্বিতীয়টি নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল ইতিহাস গড়লেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।
বাংলা ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসেও একটি বিরল অধ্যায় রচনা করেছে। পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা তুলে ধরেছেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ভাষণে সম্বোধন করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এ মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।"
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি ও রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।
পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন ও ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায়ও খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন আবশ্যিক হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দ্বারা নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক মূল ভবন ও আওতাধীন ভবনগুলোতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে, যা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করবে।
‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫’ এর বিধি ১০-এর (ঙ) ও (চ) অনুযায়ী, হাট ও বাজার থেকে প্রাপ্ত ইজারার আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই অর্থ ব্যবহার করে দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘শাইনি হান্টার্স’ নামক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এর প্রায় সব এজেন্ট ও চাকরিতে আবেদনকারীদের 'অতি সংবেদনশীল তথ্য' চুরি করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হ্যাকাররা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লিদারম্যানকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছে যে, তারা ব্যুরোর চাকরির ওয়েবসাইট 'fbijobs.gov'-এ অনধিকার প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এফবিআই নিশ্চিত করেছে যে, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের উৎস খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে। এটি এফবিআইয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে হয়েছে, নাকি সংশ্লিষ্ট কোনো তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মিরিয়াম উগমিস্টার বলেছেন, শাইনি হান্টার্সের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের এই দাবি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। তবে কতজন এজেন্ট এবং আবেদনকারীর কী ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, গত মে মাসে এফবিআই শাইনি হান্টার্সকে 'থ্রেট অ্যাক্টর' বা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। হ্যাকারদের দাবি, সেই সতর্কবার্তার প্রতিশোধ নিতে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এফবিআইকে সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি তথ্য চুরি হয়ে থাকে, তবে এজেন্ট এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা হয়রানি, ব্লাকমেইল ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ইতিপূর্বে একাধিকবার এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এবং পরিচালকদের তথ্য লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পুরনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এই উদ্দেশ্যে ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
যদি পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে গ্রিডে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা সৃষ্টি হবে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমান। এই উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুতের নতুন সংযোগের পাশাপাশি আধুনিক সেন্সর ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যমান সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের যন্ত্রাংশ উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইল জুড়ে সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও লাইনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
উদ্যোগটিতে ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আরও ৩৩৫ কোটি ডলার যৌথ অর্থায়ন আসবে। কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই আর্থিক সুবিধা পাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে বাইডেন প্রশাসনের সময় পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো তহবিলের আওতায় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দেশীয় তেল-গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখার নীতি জোরদার করছেন। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে নতুন এই গ্রিড আধুনিকায়ন প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ