০৮:২৭ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা আমাদের কাম্য নয়। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার কোনো ইচ্ছা নেই। এজন্য তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তালার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ঢাকা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের সহকারী বিশপ সুব্রত বি. গমেজের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেন এবং এসব বিষয়ে তার সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সকল নাগরিকের দেশ। এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বঞ্চিত বা বৈষম্যের শিকার না হন—এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। হলিক্রস, সেন্ট গ্রেগরিজ, সেন্ট জোসেফ ও নটরডেমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের উচ্চ শিক্ষার মান বজায় রাখতে ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ভূমি ও সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তা ধরে রাখতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও উদ্যোগী হতে হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবনের দরজা দেশের সকল নাগরিকের জন্য সবসময় উন্মুক্ত। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা ও বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মিজ্ আন্না মিন্জ, নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল ফাদার হেমন্ত রোজারিও, সিএসসি, নটরডেম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ফাদার চার্লস, হলিক্রস কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার শিখা গমেজ, সিএসসি এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জন গমেজ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন