প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলা কিউআর ব্যবহার করে আগামী নভেম্বর মাস থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। এই সেবার মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে টাকা আদান-প্রদান করতে সক্ষম হবেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এ সময় সরকারি মুখপাত্রসহ পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, দেশে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে এই পদ্ধতিতে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। একই সময়ে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। এই পরিস্থিতিতে মার্চেন্টদের খরচ কমানো, তাৎক্ষণিক অর্থ জমা এবং গ্রাহকদের লেনদেনকে আরও সহজ করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরিফ হোসেন খান আরও জানান, গত জুন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখে, এবং প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
বর্তমানে দেশের ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়ানো এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনকে উৎসাহিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিছু নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্চেন্টদের হিসাবে তাৎক্ষণিক অর্থ জমা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং আর্থিক প্রণোদনা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টদের হিসাবে জমা হবে। পাশাপাশি অ্যাকোয়ারার প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) তুলে দেওয়া হয়েছে। ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফি (আইআরএফ) শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে মার্চেন্টদের কিউআরভিত্তিক লেনদেনের খরচ কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা খরচে অথবা কম খরচে এ সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে।
এছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিটুপি) লেনদেনও শুরু হতে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
অন্যদিকে, লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলা কিউআর লেনদেন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন