বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৫ পি.এম
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শিলাস্থান গ্রামে ইমরান হোসেন (২৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শিলাস্থান গ্রামের কাজীবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান ওই গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে। তার স্ত্রী এবং দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতেও ইমরান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন। পরে রাতের কোনো এক সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের বাবা রবিউল্লাহ বলেন, "আমার ছেলে খুব ভালো ছিল। মঙ্গলবার রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। পরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। তবে এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের সাথে সে মেলামেশা করত।"
স্থানীয়দের মতে, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাদের ধারণা, মাদকাসক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত দেনা-পাওনা ও নানা দুশ্চিন্তাও তার জীবনে চাপ তৈরি করে থাকতে পারে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪৪তে পৌঁছেছে। এই মৃত্যুর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সর্বাধিক তিনজন মারা গেছেন। এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫০৯ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, সিলেটে ১৯৪ জন, চট্টগ্রামে ২৮৬ জন, বরিশালে ১২৫ জন, ময়মনসিংহে ৬৩ জন, খুলনায় ৯৭ জন এবং রংপুরে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২৮২ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর বিশ্বাস জমিয়ে দেখা করার আমন্ত্রণ, আর তারপর গোপনে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিওধারণ—এই ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমেই মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের ভয়ংকর ফাঁদ বা ‘হানি ট্র্যাপ’ এখন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের একাধিক ঘটনার সন্ধান মিলেছে। পুলিশের ভাষ্য ও অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়; বরং নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সুপরিকল্পিত কৌশল। টার্গেটের আর্থিক সক্ষমতা, পেশা, সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা আগে থেকেই যাচাই করে ফাঁদ পাতছে এসব চক্র। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, আইনজীবী এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই মূলত এদের প্রধান লক্ষ্য।
মিরপুরে ৫ লাখ টাকা আদায়
৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে এমন একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিককে কৌশলে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওধারণ করা হয়। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে সেই চক্রটি। শেষ পর্যন্ত নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ব্যাংকের কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার এই ধরনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে সরাসরি একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অপরাধের কাঠামো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমে বিশ্বাস অর্জন, নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া, ভিডিওধারণ এবং সর্বশেষ ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়—পুরো প্রক্রিয়াটিই যে পূর্বপরিকল্পিত, তা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীকে ফাঁসিয়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া
এর কয়েক মাস আগে মার্চে যাত্রাবাড়ীতে একই কৌশলে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারী ওই ব্যবসায়ীকে দেখা করার কথা বলে শনিরআখড়ায় ডেকে নেন। পরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে সহযোগীরা প্রবেশ করে তাকে মারধর করে এবং আপত্তিকর ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। এভাবে জোর করে তার কাছ থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে ৬৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, হানি ট্র্যাপ কেবল অনলাইন পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরোনো পরিচয়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ কিংবা সামাজিক সম্পর্ককেও এতে কাজে লাগনো হচ্ছে। অর্থাৎ, ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জনই এই চক্রের প্রথম ও প্রধান সাফল্য।
টার্গেটের আর্থিক তথ্য আগেই সংগ্রহ
গত জুলাইয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সদস্যের একটি চক্রের কর্মকাণ্ডেও একই ধরনের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার তথ্য বেরিয়ে আসে। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের টার্গেট করত এবং তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে রাখত। চক্রের এক নারী সদস্য প্রথমে ঋণগ্রহীতা পরিচয়ে কোনো এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর মোবাইলে যোগাযোগ বাড়িয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে দেখা করার প্রস্তাব দিতেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মারধর, ভিডিওধারণ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হতো। পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা দাবি করে তার ব্যাংক হিসাব থেকে জোরপূর্বক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। ওই অভিযানে নয়টি মোবাইল ফোন ও একটি ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল ডিবি।
খুলনায় বাড়ছে নতুন আতঙ্ক
রাজধানীর বাইরে খুলনাতেও হানি ট্র্যাপ নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি সক্রিয় চক্রের অস্তিত্ব রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীসঙ্গ বা সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং গোপনে ছবি-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায়ই এসব চক্রের মূল কাজ। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যাংকার ও আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েই এসব অপকর্ম চালাচ্ছে তারা। সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অনেক ভুক্তভোগীই এসব ঘটনা প্রকাশ করতে চান না, যার কারণে অপরাধের প্রকৃত চিত্র আরও অনেক বড় হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
খুলনায় সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনাও এসব চক্রের ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় এক যুবককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে মারধর ও ভিডিওধারণ করে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অন্য একটি ঘটনায় এক আইনজীবীকে মামলার কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রগুলোর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই যার প্রথম দরজা
বর্তমানে ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচিতি তৈরি করছে এসব চক্র। কখনো ভুয়া পরিচয়, কখনো আকর্ষণীয় ছবি, আবার কখনো সরাসরি বন্ধুত্ব বা প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে শুরু হয় যোগাযোগ। এরপর দীর্ঘ কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যক্তির পেশা, পরিবার, আর্থিক সচ্ছলতা ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেয় তারা।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষের কম সচেতনতা এই অপরাধকে আরও সহজ করে তুলছে। তবে সব ক্ষেত্রেই যে নারীই একমাত্র অপরাধী হবেন, এমন ধারণা সঠিক নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, নারীকে সামনে রেখে পুরুষ সহযোগীদের দিয়ে মারধর, জিম্মি করা, ভিডিওধারণ ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অর্থাৎ ‘হানি ট্র্যাপ’ মূলত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধকৌশল, যেখানে নারী বা পুরুষ উভয়েই বিভিন্ন ভূমিকায় অংশ নিতে পারে। তবে অপরাধ দমনে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গোপন ক্যামেরা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকমেইল
এই অপরাধের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, একবার কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চক্রের হাতে চলে গেলে ভুক্তভোগী দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। এমনকি একবার টাকা আদায় করার পরও চক্রের দৌরাত্ম্য থামে না। বারবার টাকা দাবি করা, নতুন করে হুমকি দেওয়া কিংবা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। আইনগতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ভিডিওধারণ, সংরক্ষণ কিংবা প্রচারের ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য অন্যান্য কঠোর আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
সম্মানের ভয়ই চক্রের মূল অস্ত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, হানি ট্র্যাপের অপরাধগুলো সফল হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে সামাজিক লজ্জা ও সম্মানহানির ভয়। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা বা পুলিশের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে অর্থ দিয়েই বিষয়টি মীমাংসা করতে চান। আর ঠিক এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে চক্রগুলো আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে টাকা দিয়ে সাময়িক রেহাই মিললেও এর মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং এতে অপরাধীদের কাছে ভুক্তভোগীর দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবির ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রতিরোধে সতর্কতাই প্রথম ঢাল
অপরিচিত কারও আকস্মিক অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, দ্রুত ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রস্তাব কিংবা নির্জন বাসা বা হোটেলে দেখা করার জন্য অনবরত চাপ—এসব বিষয়কে শুরুতেই সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছবি বা কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কেউ যদি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন, তবে আতঙ্কিত হয়ে অর্থ না দিয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ‘হানি ট্র্যাপ’ এখন সাধারণ কোনো প্রেমের প্রতারণা নয়; এটি প্রেম, প্রযুক্তি, গোপন ক্যামেরা এবং সুসংগঠিত চাঁদাবাজিকে এক সুতোয় গাঁথা একটি আধুনিক ও ভয়ংকর অপরাধব্যবস্থা। আজকের দিনে বিত্তশালী ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবীরা টার্গেট হলেও অসাবধানতার কারণে যে কেউ এই ফাঁদে পা দিতে পারেন। তাই অচেনা মানুষের ওপর অন্ধ আস্থার পরিবর্তে সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে এই ডিজিটাল ফাঁদ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চার দশক ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। সহকর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূলের অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তার আত্মিক সম্পর্ক। অবসরে গেলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯ নম্বর কড়ইয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ সহকারী জাহানারা বেগম, দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে।
কর্মজীবনের শেষ দিনটি ছিল একেবারেই অন্যরকম। আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পাশাপাশি সহকর্মীদের ভালোবাসায় ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছিল একটি গাড়ি। সেই গাড়িতে করেই কর্মস্থল থেকে তাকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকের চোখেমুখে ছিল আবেগ ও স্মৃতির ছাপ।
বুধবার দুপুরে ৯ নম্বর কড়ইয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাহানারা বেগমকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল।
ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমীর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাছিম আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কচুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম সওদাগর, নলুয়া বাজার ব্যবসায়ী ওয়াসিম, কচুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সমীরন চন্দ্র সরকার।
এ সময় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসাইন আহমেদ, শাহাদাত, নাছিমা, ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে জাহানারা বেগম ৩/গ ইউনিট, সাহেদাপুর, দৌলতপুর, নলুয়া ও কহলথুরী এলাকায় পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা তার কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার কল্যাণ সহকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জাহানারা বেগম সহকর্মী ও সেবাগ্রহীতাদের কাছে যে আস্থা তৈরি করেছেন, তা সহজে ভোলার নয়।
বিদায় সংবর্ধনার আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মোস্তফা কামালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সৌজন্যে আয়োজন করেন SACMO নাছিম আহমেদ, FPI সমীর রায় এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী নাছিমা, ফাতেমা জুরিয়া, আনজুমান আরা ও খাদিজা পাবিলা।
চার দশকের কর্মজীবন শেষে বিদায়ের মুহূর্তে ফুলেল ভালোবাসা, সম্মাননা আর সহকর্মীদের আবেগঘন শুভেচ্ছায় সিক্ত হন জাহানারা বেগম। কর্মস্থল থেকে ফুলে সাজানো গাড়িতে তার বিদায়ের দৃশ্যটি উপস্থিত সবার মাঝে তৈরি করে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়া শহরে হতে যাচ্ছে। তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ নারী দলের সামনে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ম্যাচ না খেলেই।
বাংলাদেশের মেয়েরা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে অংশগ্রহণ করবে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে চীন। বাংলাদেশ ও চীনের ম্যাচটি জাপানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় অনুষ্ঠিত হবে।
যদি বৃষ্টির কারণে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হয়, তাহলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে মাঠের ক্রিকেটে না খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ী হবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
বর্তমানে নাগোয়াতে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ম্যাচের পূর্বে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের মেয়েরা পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করতে পারেননি। যদি ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তাহলে আম্পায়াররা সুপার ওভারে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করবেন।
এটি সম্ভব না হলে, র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ী ঘোষণা করা হবে। কারণ আইসিসির বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বাংলাদেশ ১০ নম্বরে এবং চীন ৩৭ নম্বরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মূল পরীক্ষাটি হবে সেমিফাইনালে, যেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত।
ভারত গত আসরের চ্যাম্পিয়ন এবং সোনাজয়ী দল। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দল ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছিল। তাই সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশের জ্যোতিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ