বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:২১ পি.এম
পাবনার সাঁথিয়ায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে উপজেলার আতাইকুলা থানার আর, আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।
মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলকুলা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রায় রাতেই উকি দিতেন প্রতিবেশী মামুন (৩৪) ও জুয়েল (৩৫)। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে প্রবাসী পরিবারের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে যখন ঘরের বাইরে বের হন, তখন পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল তাকে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির পাশে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তারা মোবাইলে সেই অবস্থার ছবি ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে বলেন যদি কাউকে বলো, তাহলে মেরে ফেলবেন। পরে ওই ছাত্রী এই ঘটনা তার মাকে জানালে তিনি বাদী হয়ে মামুন ও জুয়েলের বিরুদ্ধে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার (১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মামুনের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জুয়েলের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মামুন ও জুয়েল উভয়েই বিলকুলা গ্রামের বাসিন্দা। মামুন দুই সন্তানের জনক এবং জুয়েল তিন সন্তানের বাবা।
এ ব্যাপারে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। বর্তমানে আসামিরা পলাতক রয়েছে। ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের কাঁদলে ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে বসিয়ে রাখা হতো। মুখ বন্ধ করতে জেট স্প্রে দিয়ে তীব্র গতিতে মুখে পানি ছিটানো হচ্ছিলো। ভারতের বেঙ্গালুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতনের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
ছোট্ট শিশুরা কাঁদছে বলেই তো কিছুটা কান্না হবেই। তারা মা-বাবার জন্য মন খারাপ করে। কিন্তু এই কান্না থামানোর জন্য যে আক্রমণাত্মক নির্যাতন করা হচ্ছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।
জানা গেছে, ডে কেয়ার সেন্টারটিতে কান্না থামানোর উদ্দেশ্যে একটি ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর দুই-তিন বছরের অবুঝ শিশুদের পুরে রাখা হচ্ছিল। সেখানেই শেষ নয়, বাথরুমের টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি তাদের মুখে পানি ছিটানো হচ্ছিল, যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। দম বন্ধ হয়ে যায় এমনভাবে বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হতো ওই শিশুদের।
এই ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে উল্লিখিত ডে কেয়ারের পাঁচ নারী কেয়ারগিভার বা শিশু পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ ঘটনাটি আড়ালের মধ্যে থেকে যেতো, যদি না নির্যাতনের সেই গোপন ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হতো। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নিজেদের সন্তানের ওপর এমন অমানুষিক অত্যাচারের দৃশ্য দেখে আইটি কোম্পানির চাকরিজীবী মা-বাবারা স্তম্ভিত এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ভিডিওগুলো সামনে আসার পর শুধু পুলিশে নয়, কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কর্পোরেট অফিসগুলোর ভিতরে থাকা এ ধরনের চাইল্ড কেয়ার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির উত্তরাঞ্চলের লুডভিগসলুस्ट শহরের একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে দুই রোগী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত একজন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডিপিএ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে হাসপাতালের রোগীদের একটি কক্ষে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন দ্রুত রেডিওলজি বিভাগের ছাদে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ ভোরে হাসপাতালটির ছাদের কাঠামোয় আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে। তবে বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আগুন লাগার পরপরই ১৬০ শয্যার এই হাসপাতালটি থেকে রোগী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এটিই ওই শহরের একমাত্র হাসপাতাল।
প্রাথমিক খবরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশের ফলে মাত্র একজন আহত হয়েছেন।
শুরুতে মূলত ঘটনাস্থলে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছিলেন, তাদের সবাইকে হিসেবে ধরে কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ সদর দফতরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক নিরাপত্তা কৌশল, গুজব ও ভুয়া তথ্য যাচাই, মানবপাচার এবং নিরাপত্তা সহায়তা বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, উত্তম চর্চা ও তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সাইবার নিরাপত্তা, মানবপাচার, বাংলাদেশ পুলিশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কমিউনিটি পুলিশিং ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশের মতো কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।
প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৭৯৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। এতে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে, নকলের দায়ে নোয়াখালী জেলার একটি কেন্দ্র থেকে একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট ৭৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২ হাজার ৪৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৭৯৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন কুমিল্লা জেলায়। একই সাথে, নোয়াখালীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বোর্ডের অধীনে মোট ৯৫ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। ফরম পূরণ করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র। যদিও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
প্রথম দিনের পরীক্ষা উপলক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারির জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বোর্ড থেকে সার্বক্ষণিক পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সব কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা মোকাবিলায় মোমবাতি, চার্জলাইট এবং সোলার বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকল ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পরীক্ষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বোর্ডের ভিজিল্যান্স টিম নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ