প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের কাঁদলে ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে বসিয়ে রাখা হতো। মুখ বন্ধ করতে জেট স্প্রে দিয়ে তীব্র গতিতে মুখে পানি ছিটানো হচ্ছিলো। ভারতের বেঙ্গালুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতনের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
ছোট্ট শিশুরা কাঁদছে বলেই তো কিছুটা কান্না হবেই। তারা মা-বাবার জন্য মন খারাপ করে। কিন্তু এই কান্না থামানোর জন্য যে আক্রমণাত্মক নির্যাতন করা হচ্ছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।
জানা গেছে, ডে কেয়ার সেন্টারটিতে কান্না থামানোর উদ্দেশ্যে একটি ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর দুই-তিন বছরের অবুঝ শিশুদের পুরে রাখা হচ্ছিল। সেখানেই শেষ নয়, বাথরুমের টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি তাদের মুখে পানি ছিটানো হচ্ছিল, যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। দম বন্ধ হয়ে যায় এমনভাবে বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হতো ওই শিশুদের।
এই ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে উল্লিখিত ডে কেয়ারের পাঁচ নারী কেয়ারগিভার বা শিশু পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ ঘটনাটি আড়ালের মধ্যে থেকে যেতো, যদি না নির্যাতনের সেই গোপন ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হতো। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নিজেদের সন্তানের ওপর এমন অমানুষিক অত্যাচারের দৃশ্য দেখে আইটি কোম্পানির চাকরিজীবী মা-বাবারা স্তম্ভিত এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ভিডিওগুলো সামনে আসার পর শুধু পুলিশে নয়, কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কর্পোরেট অফিসগুলোর ভিতরে থাকা এ ধরনের চাইল্ড কেয়ার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন