ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৭ ডলার ছাড়াল


বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৭ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে একটি বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নভেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে অক্টোবরের জন্য ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

এভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সর্বশেষ দর বৃদ্ধির ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

লোহিত সাগর ও আশপাশের অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি। এই পথে বড় ধরনের কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাথরুমে বন্দি রাখা হতো শিশু তানিয়াকে, নি-র্যাতনে শরীরে পচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


বাথরুমে বন্দি রাখা হতো শিশু তানিয়াকে, নি-র্যাতনে শরীরে পচন

১১ বছরের তানিয়া বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার বয়সে রয়েছে। কিন্তু অভাবের কারণে তাকে ছোট বয়সেই জীবিকার কঠিন দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ির বাসিন্দা বেলাল হোসেনের মেয়ে তানিয়াকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে শিশুটি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

তানিয়া এবং তার পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তাকে দিনের পর দিন শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি একটি বাথরুমে বন্দি করে রাখা হতো তাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে তার পা ও পিঠে পচন ধরতে শুরু করে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তানিয়াকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত নিয়ে বাড়ি ফেরার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে তানিয়া। শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর শিশুটির ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন জানান, অভাবের কারণে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কথায় মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মেয়েটি এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার হবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

তিনি বলেন, "আমি দিনমজুর। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য ছিল না। তানিয়া সাত বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছে। একদিকে মা নেই, অন্যদিকে সংসারে অভাব সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছে সে।"

পরিবারের দাবি, ঢাকায় যে বাসায় তানিয়া কাজ করত, সেখানে রাসেল নামে এক ল্যাপটপ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী ছোটন, যিনি পেশায় শিক্ষক, থাকতেন। তাদের পরিচয়, ঠিকানা এবং তানিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে তানিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবার। শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, "শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।"

খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, "ভুক্তভোগীর পক্ষে কেউ মামলা করলে নির্যাতনকারীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমলো, সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমলো, সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে শক্তিশালী বার্তা পাওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম কমতে শুরু করেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা সরাসরি সোনার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক দরপতনের ধারাবাহিকতায় ধাতুটি তিন সপ্তাহ ধরে পতনের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সোনার ফিউচার বা চুক্তিকালীন দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারের চলমান অস্থিরতা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সংকেত সোনার মূল্য পতনের প্রধান কারণ। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠকের আগে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। মূলত, সুদের হার বৃদ্ধি পেলে স্থায়ী রিটার্ন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা বিক্রির প্রবণতা বাড়ে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

একই দিনে, তেলের বাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক ইরানের কার্যক্রমের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের এই উল্লম্ফন মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ায় সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামেও পতনের ঢেউ লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়া কাপের ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


এশিয়া কাপের ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এটি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটছে, যখন ভারতীয় ক্রিকেট দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালো।

গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ভারত এখনও ট্রফিটি হাতে পায়নি। ফাইনালের পর নাকভি ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এবং পরে সেটি এসিসির দপ্তরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। কিন্তু পুরুষ দলের মতো এবারও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি জানায় ভারতীয় নারী দল। ফলে তারা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিসিসিআই আগেই এসিসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে নাকভির উপস্থিতিতে ট্রফি গ্রহণ করবে না। তবে শেষ পর্যন্ত পুরস্কার মঞ্চে ট্রফি আনা হয়নি।

বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ভারত আশা করেছিল যে, এসিসির অন্য কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির কাছ থেকে ট্রফি নেওয়ার জন্য ভারতীয় নারী দল প্রস্তুত ছিল।

তবে সাইকিয়ার দাবি অনুযায়ী, নাকভি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সাইকিয়ার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগের পুরুষদের এশিয়া কাপের সময় নেওয়া অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ভারত এবারও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

সাইকিয়া বলেন, আমরা এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ট্রফি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না।

তবে সাইকিয়া আশাবাদী যে, ট্রফি শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের হাতে আসবে। তিনি বলেন, কোনো এক পর্যায়ে পুরুষ ও নারী দুই দলের এশিয়া কাপের ট্রফিই বিসিসিআইয়ের হাতে ফিরে আসবে।

এদিকে নারী এশিয়া কাপে দারুণ সাফল্যের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের মানুষ ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় গিলে নিলো শেষ স্মৃতি, কবরটাও রইল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


পদ্মায় গিলে নিলো শেষ স্মৃতি, কবরটাও রইল না

পদ্মা নদী গিলে ফেলেছে বাড়িঘর ও জমিজমা। এবার পদ্মা নদী আমাদের পূর্বপুরুষের কবরটিও গিলে ফেলেছে। এই কথা বলছিলেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া এলাকার মোহাম্মদ রাজিব হোসেন, যিনি আক্ষেপের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন।

পদ্মার প্রবল ভাঙনের ফলে তার বসতভিটা ও ফসলি জমির পাশাপাশি বিলীন হয়েছে তার দাদা মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবর। এই কবরটি প্রায় দেড় যুগ ধরে পরিবারের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। দুই দিন আগে পদ্মার ভাঙনে এটি নদীগর্ভে চলে যায়।

স্থানীয়দের মতে, হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন গত কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি বর্ষায় লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, জয়পুর ও হালুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এছাড়া, গত চার-পাঁচ বছরে চরাঞ্চলের সুতালড়ি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, চরাঞ্চলের একমাত্র হাতিঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজারসহ হাজার হাজার বাড়িঘর ও ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া ও সেলিমপুরসহ চরাঞ্চলে কৃষি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বারসিকের মাঠ কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন জানান, সেলিমপুর গত বছরই পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এবার বর্ষায় জয়পুরে শতাধিক বাড়ি নদীতে চলে গেছে। মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যারা আগে জমিজমার মালিক ছিলেন, তাদের অনেকেরই থাকার জায়গা নেই। ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

চরাঞ্চলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান শাকিল মিয়া বলেন, "আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি কয়েকবার নদীতে গেছে। এখন আবার চরাঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়েছে। হড়িনা ঘাট এলাকাতেও ভাঙন চলছে। চরাঞ্চলে পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে কেউ কাজ করে না।"

আজিমনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির হোসেন বলেন, "কয়েক বছরে আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনসহ অনেক স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।"

সুতালড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সোলাইমান হোসেন সুরমান জানান, "কয়েক বছর আগে সুতালড়ি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর স্কুল ভবন নদীতে চলে গেছে। আমাদের ইউনিয়নও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বছর লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হচ্ছে। দ্রুত বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না করলে চর থাকবে না।"

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, "খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মহোদয় বিমানমন্ত্রী থাকাকালে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর-হরিহরদিয়া এলাকায় ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আমাদের চর শেষ হয়ে গেল।"

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, "চরের মানুষ কোথায় যাবে? লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল পদ্মার ভাঙনে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর তেমন কিছুই নেই। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো কাজ নেওয়া হচ্ছে না।"

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নদীভাঙনের বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, "সোমবার মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান, উপজেলা প্রশাসনসহ চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকায় ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে যাচ্ছেন। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%