ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, রাজধানীতে একদিনে ১৩৮৬ মামলা


ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, রাজধানীতে একদিনে ১৩৮৬ মামলা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একদিনে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সময়ে ৩৯৪টি যানবাহন ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৩১৪টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে সর্বোচ্চ ২৯৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর গুলশান বিভাগে ২৫১টি, তেজগাঁও বিভাগে ১৮০টি মামলা, উত্তরা বিভাগে ১৭৪টি, ওয়ারী বিভাগে ১৬৬টি, মিরপুর বিভাগে ১৫৩টি, লালবাগ বিভাগে ৯৪টি এবং রমনা বিভাগে ৬৯টি মামলা হয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অভিযানে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৪টি বাস, ২টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ৪টি সিএনজি ও ১২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৯টি মামলা পরিচালিত হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৩টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৪১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৩৫টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ৮২টি সিএনজি ও ১০৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৯টি মামলা রয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৩টি বাস, ১৭টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ২০টি সিএনজি ও ৩৬টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মোট ১৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৮০টি মামলা তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৮টি বাস, ১০টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ১২টি সিএনজি, ৪৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৯টি বাস, ৭টি ট্রাক, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩০টি সিএনজির বিরুদ্ধে ৫২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২০টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ৪৮টি সিএনজি ও ৭১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রা-ণ গেল একজনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রা-ণ গেল একজনের

মানিকগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও ২ জন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া ডাবল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, মেদুলিয়া ডাবল ব্রিজ এলাকায় একটি ট্রাক উল্টো দিক থেকে আসা সিএনজির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির এক যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত হন সিএনজিতে উপস্থিত আরও ২ জন। দুর্ঘটনার ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত ওই স্থল ত্যাগ করে।

এই বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ট্রাকটি শনাক্ত এবং আটকের চেষ্টা চলছে। একইসাথে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে কমানোর অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


বাংলাদেশের ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে কমানোর অঙ্গীকার

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশক (২০২১-২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

আজ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে মন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই বিপুল সংখ্যক মামলার চাপ সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বিরাট বোঝা সৃষ্টি করেছে। তাই প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা নেমে এসেছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ২৪টি থেকে কমে ১৮টিতে নেমেছে এবং সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ হ্রাস। স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন সংক্রান্ত মামলা ১৭টি থেকে কমে মাত্র ২টিতে এসেছে, যা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাসের নজির সৃষ্টি করেছে। আইনমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনের মামলায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ও পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাসের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে স্ত্রীদের প্রতি যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলেও জানায়। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যেখানে ৫ হাজার ৬০৫টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০টিতে। অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ মামলা কমেছে, যা বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আইনমন্ত্রী বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কিংবা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও যদি সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে বিচারপ্রার্থী জনগণের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলার পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষ শুধু মানসিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যত বেশি জানবে, তত বেশি মানুষ আদালতের বাইরে আইনি উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ গ্রহণ করবে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধুমাত্র মামলাই কমাতে চায় না, সরকার অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশেও দাঁড়াতে চায়। তাদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই গণমাধ্যমকে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি কক্সবাজার জেলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সেখানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ সময় আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজ দেশের ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়া বিচারব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু বর্তমান উদ্যোগের ইতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ করে, সরকার দ্রুত এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি মামলা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। মহাপরিচালক আরও বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে দ্রুত, সুষম ও টেকসই বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কার্যক্রম আরও সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল— এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আন্তনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছে, যা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ছিল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই কারণে শত শত যাত্রী তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রেলওয়ে ও যাত্রী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। কসবা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর আকস্মিকভাবে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনেই দাঁড়িয়ে ছিল।

হঠাৎ করে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারীসহ শত শত যাত্রীকে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

ট্রেনটির পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিকল ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য আখাউড়া থেকে একটি মেকানিক দল রওনা দিয়েছে। একই সঙ্গে লাকসাম থেকে একটি রিলিফ ইঞ্জিনও পাঠানো হয়েছে। রিলিফ ইঞ্জিনটি কসবায় পৌঁছানোর পর ট্রেনটি আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ট্রেনটি সচল করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%