০৭:০৬ পি.এম
এখন পর্যন্ত রান্নাঘর, বাজার অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া কাঁঠালের বীজ থেকেও এবার তৈরি হচ্ছে মিনারেল কনসেন্ট্রেট, যা হচ্ছে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) একদল গবেষক এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছেন, এবং এটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট অর্জন করেছে।
বুধবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার সেকশন অফিসার মো. রনি ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গাকৃবির খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তিন বছরের গবেষণার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ সাফল্য আসে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানাচ্ছে, ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে যাত্রা শুরু হওয়ার পর এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সংখ্যা হওয়ার পর দাঁড়িয়েছে ২১টি।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশেরও বেশি মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে, খনিজের ঘনত্ব ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
গবেষণাটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (জিএআরই)’ প্রকল্প। পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) প্রযুক্তিটির পেটেন্ট প্রদান করে, যা পেটেন্ট নম্বর পি/বিডি/২০২৪/০০০০৪০-এ নিবন্ধিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, কাঁঠালের বীজ থেকে উৎপাদিত মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়াও, কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার, খাদ্য অপচয় কমানো, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি কেবল একটি পেটেন্ট অর্জনের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় একটি নতুন মাইলফলক। কৃষিজ বর্জ্য হিসেবে পরিচিত একটি উপাদানকে কীভাবে উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তা এ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক জানান, যদি বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, তাহলে দেশে নতুন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন