বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৪ পি.এম
দেশের সাতটি জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময় এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এছাড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অনেকেই ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন। কিছু ব্যক্তি দ্রুত ফলাফল চান, আবার অন্যরা স্বাস্থ্যকরভাবে দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমাতে আগ্রহী। তবে, সকলের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর গতি সমান নয়। বয়স, লিঙ্গ, শুরুর ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং ঘুমের মতো বিভিন্ন বিষয় এ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে সাধারণত প্রতি সপ্তাহে প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ওজন কীভাবে কমে?
শরীর প্রতিদিন খাবার ও পানীয় থেকে শক্তি গ্রহণ করে। অন্যদিকে, শ্বাস নেওয়া, রক্ত সঞ্চালন, হজম এবং শরীরের অন্যান্য স্বাভাবিক কাজেও শক্তি ব্যয় হয়। হাঁটা, ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন অন্যান্য কাজেও শরীরের শক্তি খরচ হয়।
যত বেশি ক্যালরি শরীর খরচ করে, তার চেয়ে কম ক্যালরি খাবার থেকে গ্রহণ করলে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটতি বজায় থাকলে শরীরের ওজন কমতে শুরু করে।
তবে, খুব বেশি ক্যালরি কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে পুষ্টির ঘাটতি ও পেশির পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রথম দিকে দ্রুত ওজন কমতে পারে
ওজন কমানোর প্রথম কয়েক সপ্তাহে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ওজন কমতে দেখা যায়। শরীর নতুন খাদ্যাভ্যাস ও অধিক শরীরচর্চার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কারণে এটি ঘটে।
কিন্তু কয়েক মাস পর ওজন কমানোর গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। এক পর্যায়ে ওজন কমা সাময়িকভাবে বন্ধও হতে পারে, যা ওজন কমার স্থবিরতা হিসেবে পরিচিত।
শরীর যখন ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করে, তখন বিপাকক্রিয়া ও হরমোনে কিছু পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই প্রতি সপ্তাহে একই পরিমাণ ওজন কমবে—এমনটি আশা করা ঠিক নয়।
বয়সেও প্রভাব পড়ে
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের গঠন ও পেশির পরিমাণে পরিবর্তন আসে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশির পরিমাণ কমে এবং শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তন ওজন কমানোর গতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, বয়স বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা অনিচ্ছাকৃত ওজন কমার কারণও হতে পারে।
শুরুর ওজনও গুরুত্বপূর্ণ
যার শুরুতেই ওজন বেশি, তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে একই সময়ে বেশি পরিমাণ ওজন কমতে পারে। আবার, কম ওজনের কারও ক্ষেত্রে একই পরিমাণ ওজন কমানো সম্ভব নাও হতে পারে।
তাহলে, শুধু কত কেজি ওজন কমেছে, তা দিয়ে অগ্রগতি বিচার না করে, নিজের শুরুর ওজনের তুলনায় কত শতাংশ ওজন কমেছে, সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের শরীরে পেশি ও চর্বিবিহীন অংশের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বিশ্রামের সময় তারা কিছুটা বেশি ক্যালরি খরচ করতে পারেন।
একটি আট সপ্তাহের গবেষণায় খুব কম ক্যালরির খাদ্য গ্রহণকারী দুই হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে পুরুষদের ওজন কমার হার নারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল।
তবে, এর অর্থ এই নয় যে সবার ক্ষেত্রে একই ফল হবে। ব্যক্তিভেদে ওজন কমানোর গতি আলাদা হতে পারে।
ঘুম কম হলেও সমস্যা
যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে ক্ষুধা ও শরীরের বিভিন্ন হরমোনে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সুতরাং, ওজন কমানোর পরিকল্পনায় শুধু খাবার ও শরীরচর্চা নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
কোন খাবার সবচেয়ে ভালো?
ওজন কমানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো—এমন প্রমাণ নেই। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যতালিকায় ওজন কমানো সম্ভব হতে পারে।
মূল বিষয় হলো এমন খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া, যা দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা সম্ভব। খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন, কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার ও পূর্ণ শস্য রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি, লবণ, মদ্যপান এবং বেশি পরিমাণ সম্পৃক্ত ও ট্রান্স চর্বি কমানো দরকার।
শুধু খাবার কমালেই হবে না
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন খুব কম ক্যালরি গ্রহণ করা ঠিক নয়। এতে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়ে আবার ওজন বেড়ে যেতে পারে।
দ্রুত ওজন কমানোর ঝুঁকি
খুব অল্প সময়ে অনেকটা ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে পুষ্টির ঘাটতি, শরীরে লবণ ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিপাকক্রিয়া ও হাড়ের ঘনত্বে পরিবর্তন এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সুতরাং, দ্রুত ফল পাওয়ার বদলে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকর ও টেকসইভাবে ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখা ভালো।
পেটের মেদ কি আলাদাভাবে কমানো যায়?
শুধু পেটের মেদ কমানোর নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই। শরীরের কোন অংশে আগে বা বেশি চর্বি জমবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তাই শুধু পেটের ব্যায়াম করলেই পেটের মেদ কমবে—এমনটা নয়।
সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সামগ্রিক শরীরের চর্বি কমাতে পারলে পেটের মেদও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
ওজন কমাতে ধৈর্যই গুরুত্বপূর্ণ
ওজন কমার প্রক্রিয়া সবসময় একই গতিতে চলে না। কোনো সপ্তাহে বেশি ওজন কমতে পারে, আবার কোনো সপ্তাহে কমতে পারে বা একেবারেই কমতে নাও পারে। এটি স্বাভাবিক।
সুতরাং, দ্রুত ওজন কমানোর পেছনে না ছুটে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত ওজন কমানোর লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয় ক্যালরি নিয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে পাসপোর্ট প্রথমবার হারালে, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার থেকে যদি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হয়, তাহলে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৭ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এ পরিপত্রে সই করেন।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে অনেক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের ফলে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
পাসপোর্ট প্রথমবার হারালে, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার থেকে যদি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হয়, তাহলে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৭ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এ পরিপত্রে সই করেন।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে অনেক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের ফলে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, এবং দুবাইয়ের শাসক মহামহিম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ছোট ভাই শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ৭৬ বছর বয়সে রাজপরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্য ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক পালনকালীন পুরো আমিরাতের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় দুবাইয়ের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড জাবিল মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমসহ আল মাকতুম রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে তাকে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী উম্মে হুরাইর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। দাফন পরবর্তী তিন দিন জাবিল মজলিসে বিকেল ৪টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে দুবাইয়ের রাজপরিবার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামহিম শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।’
মরহুমের রহের মাগফিরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘মহান আল্লাহ তার বিদেহী রুহের ওপর অসীম রহমত বর্ষণ করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। একইসঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।’
দুবাই শাসকের আবেগঘন শ্রদ্ধা
প্রিয় ছোট ভাইয়ের বিদায়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আহমদ, তুমি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেছ, কিন্তু আমাদের দোয়া ও হৃদয় থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের সুবিস্তৃত স্থানে স্থান দিন এবং আমাদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন।’
এ ছাড়া দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদও তার চাচার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রার্থনা করেছেন।
মরহুম শেখ আহমদ ছিলেন আধুনিক দুবাইয়ের রূপকার ও প্রাক্তন শাসক শেখ রাশিদ বিন সাঈদ আল মাকতুমের কনিষ্ঠ সন্তান। ১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেখ রাশিদের শাসন আমলে দুবাইয়ের যে আধুনিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তার অগ্রযাত্রায় শেখ আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দুবাই পুলিশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা খাতের বাইরেও দুবাইয়ের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক হাবে রূপান্তরের পেছনে তার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘এআরএম হোল্ডিং’ এবং দুবাই রিয়েল এস্টেট সেন্টারের গ্রুপ চেয়ারম্যান ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে আবাসন, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), হেলথ টেক, টেলিকম ও ব্যাংকিং খাতে দুবাইয়ের অর্থনীতি বিশাল গতি লাভ করে।
ক্রীড়াক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ‘আল ওয়াসল স্পোর্টস ক্লাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার দিকনির্দেশনাতেই ক্লাবটি আমিরাতের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক সাফল্য লাভ করে।
ঘোড়দৌড় ও অশ্বারোহণ অঙ্গনেও শেখ আহমদের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল। তিনি জেবেল আলি রেসকোর্স এবং জেবেল আলি স্টেবলস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক রেসিং কমিউনিটিতে সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার মালিকানাধীন ঘোড়াগুলো আইরিশ ২০০০ গিনির মতো মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক রেসিং প্রতিযোগিতায় বহুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্বনেতারা এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আমিরাতের গণমাধ্যমগুলো একে দেশটির জাতীয় ও ক্রীড়া ইতিহাসের একটি যুগের অবসান বলে অভিহিত করেছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অ্যাপল, আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাহকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তির জন্য এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাপলের বিজ্ঞাপনে ‘সিরি’র বিভিন্ন এআই সক্ষমতার কথা বলা হলেও, সেসব ফিচারের কিছু বাস্তবে কার্যকর ছিল না। ফলে, ওই বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা আইফোন কেনার জন্য প্ররোচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ক্ষতিপূরণের আবেদন
নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের ক্রেতারা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
যোগ্য গ্রাহকেরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারবেন। একই সময়ের মধ্যে চাইলে তারা মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহারও করতে পারবেন।
কারা ক্ষতিপূরণ পাবেন
২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি হওয়া আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন গ্রাহকেরা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বেন।
তবে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট আইফোনের মূল বা প্রথম মালিক হতে হবে এবং ফোনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হতে হবে।
যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে, চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা কতজন যোগ্য গ্রাহক দাবি জমা দেন তার ওপর নির্ভর করবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালতে শুনানি হবে। আদালত নির্ধারণ করবে নিষ্পত্তিটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পর্যাপ্ত কি না।
এ বিষয়ে আগামী বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ