মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৩ পি.এম
উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে দেশের ৪ বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর)-এর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)-এর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)-এর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর)-এর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আশুলিয়ায় ২ বছরের শিশু অপহরণের ঘটনায় অপহরণকারী বেলী বেগম (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপহৃত শিশু মীম আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসআরবি-৪ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বটতলা এলাকা থেকে শিশু মীম আক্তারকে তার নিজ বাসা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ এর অভিযানিক দল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের জন্য ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১৪ এর যৌথ অভিযানিক দল ১২ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন খালপাকুটিয়া দেওলাবড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং তার হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী মীম আক্তারের পরিবার বটতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। ভুক্তভোগীর মা একজন গার্মেন্টস কর্মী। গার্মেন্টসে ডিউটি করার সময় তার মেয়ে মীম আক্তারকে দেখাশোনা করার জন্য গ্রেপ্তার আসামি মোছা. বেলী বেগমকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ঘটনার দিন বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবার শিশুটিকে বেলী বেগমের কাছে রেখে গার্মেন্টসে চলে যায়। একই তারিখ রাত ১০টার দিকে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান মেয়ে ও গৃহকর্মী বাসায় নেই। পরে শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায় আসামি বেলী আক্তার ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভুক্তভোগীর মা রাবেয়া আক্তারের বর্তমান বাসার কাছে ঘর ভাড়া নেন এবং ৮ সেপ্টেম্বর মীমকে অপহরণ করে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। আসামি সম্পর্কে বাড়িওয়ালা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেও সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেলী আক্তারের ডিভোর্স লেটার নোটিশের সূত্র ধরে টাঙ্গাইলের একটি ঠিকানা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও এলাকাবাসীর সহায়তায় বেলী আক্তারের তৃতীয় স্বামীর বর্তমান ঠিকানা খাল পাকুটিয়া, দেওলাবাড়ি, ঘাটাইল থানা এলাকা থেকে বেলী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অপহৃত মীমকে জীবিত উদ্ধার করে এসআরবি। পরবর্তীতে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এসআরবি-৪।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ইসলামপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালের দিকে ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রশিদ ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা উজান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড়ের স্থানীয় অনুশেখের মনোহারী দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- ডিবি-১) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এ বিষয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, "মাদক আমাদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি।" তিনি আরও বলেন, জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি যোগ করেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬০ বোতল দেশীয় মদ ও পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক নার্গিস আক্তার (৫৫) দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত রব মোল্লার স্ত্রী।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম নার্গিস আক্তারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬০ বোতল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদ উদ্ধার করে। একই সময় তার মাদক ব্যবসার সহযোগী হিসেবে পরিচিত লালমিয়ার (৬০) বাড়ি থেকে পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। নার্গিস আক্তারকে আটক করা হয়, তবে লালমিয়াসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের আটকের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের তৈরি নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল যখন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়বদ্ধতার বোঝা বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক উপলব্ধি করছে। সরকার যে নীতিগুলো গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটি একমত।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য যে কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। এ বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, "আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।"
অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনকার আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ যেসব কাজ করবে এবং যেসব সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এই আলোচনার মাধ্যমে। আলোচনা ঢাকায়ও চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি তৈরি করা দরকার, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি ও মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। কীভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমির খসরু বলেন, "আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক কী হবে, তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা চলমান থাকবে।"
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, "আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।"
সরকারের বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।
এদিকে, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আইএমএফের সাইড ইভেন্টে আলোচনা হয়েছে। এই ইভেন্টে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইড ইভেন্টে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে আইএমএফের গবেষণা বিভাগের পরিচালক সিলভিনা টেনরেইরোসহ চারজন গবেষক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও)।
এর আগে, সকালে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। একই সময়ে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আজ ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছেন।
তবে, বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা সহায়তা করছে।
আইএমএফের মতে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ