বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ পি.এম
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের নবনিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় সিঙ্গাপুরের ট্রেডট্রাস্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারের আলোকে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের অংশগ্রহণের জন্য সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিরা প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বৈদেশিক বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং বহুমুখী করার আহ্বান জানান।
সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে দেশটির মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ওয়াং চু সিন এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের বেঞ্জামিন চু-সহ একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ এবং পরিচালক আবু ছালেহ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা জসীম। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে রুপালি পর্দায় এসে বীরত্ব, অ্যাকশন ও লড়াইয়ের দৃশ্যে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর ২৮ বছর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে নানা সংলাপ, অভিনয় ও অ্যাকশন দৃশ্যের মাধ্যমে এখনও আলোচনায় থাকেন এই অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নায়ক জসীমের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৮ সালের এই দিনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জসীম। তার আসল নাম আবদুল খায়ের জসীম উদ্দিন। ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও দুরন্ত স্বভাবের ছিলেন তিনি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে অংশ নেন জসীম। স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রে এসে নিজের সেই সাহসী সত্তার প্রতিফলন ঘটান অভিনয়ে। ঢাকাই সিনেমায় অ্যাকশন ও মারপিটের দৃশ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেন তিনি।
১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন জসীম। তবে ১৯৭৩ সালে জহিরুল হক পরিচালিত ‘রংবাজ’ সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। সিনেমাটির অ্যাকশন দৃশ্যে তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ’ যুক্ত ছিল।
পরে দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান জসীম। হিন্দি ‘শোলে’ ছবির এই রিমেকে তিনি গব্বর সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। খলনায়ক চরিত্রে জনপ্রিয়তার পর নায়ক হিসেবেও সমানভাবে দর্শকের ভালোবাসা পান তিনি।
সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় প্রথমবার নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন জসীম। ছবিটির সাফল্যের পর আর খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেননি তিনি। নায়ক হিসেবেই পর্দায় নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন।
প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জসীম। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘দোস্ত দুশমন’, ‘কালিয়া’, ‘কাজের বেটি রহিমা’, ‘তুফান’, ‘লালু মাস্তান’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘গরিবের ওস্তাদ’, ‘রাজা বাবু’, ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘বুকের ধন’, ‘স্ত্রী হত্যা’ ও ‘ভালোবাসার ঘর’।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জসীমের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। ইউটিউব শর্টস, ফেসবুক রিলসসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও নিয়মিত দেখা যায় তার অভিনয়, নাচ ও অ্যাকশন দৃশ্যের ভিডিও। তরুণদের অনেকেই তার সংলাপ অনুকরণ করেন। তাকে ঘিরে তৈরি হয় নানা মিম ও ট্রল।
এমনকি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও জসীমের চেহারা ও অভিনয়শৈলীর আদলে চরিত্র দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও বিখ্যাত সংলাপ ব্যবহার করে তৈরি হয় নানা ধরনের কার্ড ও কনটেন্ট।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা জসীমের জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। আর অভিনয় ও অ্যাকশনে তৈরি করা নিজস্ব স্বকীয়তার কারণে মৃত্যুর পরও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক সময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ফোনের প্রয়োজন ছিল না। ব্যাটারি খুলে তা আলাদা করে একটি বিশেষ চার্জারে বসাতে হতো। কিছু মানুষের কাছে এটি ‘অটো চার্জার’ নামে পরিচিত ছিল, আবার অন্যদের কাছে এটি ‘ম্যাজিক চার্জার’ হিসেবে পরিচিত ছিল। স্মার্টফোন ও দ্রুত চার্জিংয়ের যুগে সেই যন্ত্র এখন প্রায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
পুরনো দিনের এই চার্জারে ব্যাটারি বসানো ছিল অনেকটা ছোটখাটো বিজ্ঞান পরীক্ষার মতো। ব্যাটারির দুই প্রান্ত চার্জারের পিনের সঙ্গে সঠিকভাবে মেলাতে হতো। সংযোগ সঠিক হলে লাল কিংবা সবুজ এলইডি জ্বলে উঠত। সেই আলো দেখেই নিশ্চিত হওয়া যেত, ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ হচ্ছে।
এ ধরনের চার্জারে বিভিন্ন ধরনের রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো। এক সময় নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) ও নিকেল-মেটাল হাইড্রাইড (Ni-MH) ব্যাটারির ব্যবহার ছিল বেশি। পরবর্তীতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিরও জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। চার্জ দেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে ব্যাটারিতে সঞ্চিত হতো। আর ফোন ব্যবহারের সময় সেই শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপ নিয়ে ফোন চালাত।
তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের ব্যবস্থাও পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোনে সাধারণত বিল্ট-ইন লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। ইউএসবি-সি কেবল সংযুক্ত করলেই চার্জিং শুরু হয়ে যায়। ব্যাটারি খুলে আলাদা করে চার্জারে বসানোর প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি আধুনিক চার্জিং প্রযুক্তিতে ভোল্টেজ, কারেন্ট ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো নানা নিরাপত্তাব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে।
এক সময় ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল নানা ছোটখাটো দুশ্চিন্তা, যেমন চার্জার ঠিক আছে কি না, ব্যাটারির পিন ঠিকমতো মিলেছে কি না, এলইডি জ্বলছে কি না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফোনে ব্যাটারি লাগিয়ে চালু করার অভিজ্ঞতাও ছিল আলাদা।
আজকের দিনে কয়েক মিনিটেই ফোনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি যত আধুনিক হয়েছে, ততই পুরোনো অনেক যন্ত্র হারিয়ে গেছে। সেই তালিকায় ‘ম্যাজিক চার্জার’ও এখন এক প্রকার স্মৃতি।
তবে পুরোনো এই চার্জার শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তি পণ্য নয়। এটি একটি সময়ের সাক্ষী, যে সময়ে মোবাইল ফোন ছিল নতুন প্রযুক্তির বিস্ময়, আর ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ছোট্ট প্রক্রিয়াটিও হয়ে উঠেছিল দৈনন্দিন জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এক প্রজন্মের কাছে তাই ‘ম্যাজিক চার্জার’ মানেই প্রযুক্তির শৈশবের এক টুকরো নস্টালজিয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কার কারণে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সমস্ত ধরনের সভা, সমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজের সকল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে পূর্বঘোষিত 'নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন' কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অটল রয়েছে। প্রশাসন এবং ছাত্র সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ঐতিহাসিক এই বিদ্যাপীঠে থমথমে পরিস্থিতি এবং তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলস্বরূপ ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জরুরি বৈঠকে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১১৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ৮ অক্টোবর কেসি কলেজের সকল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য শিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রচারিত আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, 'অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের।
এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কেসি কলেজ শাখার সভাপতি এস এম মাহবুব জানান, "আমরা গত ৪ অক্টোবর কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের লিখিতভাবে কিছু জানায়নি, তবে অনুষ্ঠান না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে আমরা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।"
অন্যদিকে, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের মধ্যে শিবিরের ঘোষিত মেগা প্রোগ্রাম ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। শেষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে কিনা কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো ঝিনাইদহবাসীর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যু অবধারিত। একদিন পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুর ফলে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দিলে মৃত ব্যক্তি কি তা শুনতে বা অনুভব করতে পারেন?
ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যায়, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ সালাফ, নির্ভরযোগ্য আলেম ও ফকিহের মত হলো, মৃত ব্যক্তি কবর জিয়ারতকারীর সালাম শুনতে পারেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তার সালামের জবাবও দেন। তবে সেই জবাব সাধারণত জীবিত মানুষ শুনতে পান না।
হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়ায় পরিচিত মৃত ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গিয়ে তাকে সালাম দিলে আল্লাহ তার রুহকে সালামের জবাব দেওয়ার জন্য ফিরিয়ে দেন। এ হাদিসের ভিত্তিতে আলেমরা বলেন, মৃত ব্যক্তি জিয়ারতকারীকে চিনতে এবং তার সালামের জবাব দিতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরবাসীদের সালাম দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। কবর জিয়ারতের সময় তাদের উদ্দেশে সালাম ও দোয়া করা সুন্নত। এ থেকে বোঝা যায়, কবরবাসীদের সঙ্গে জীবিতদের এক ধরনের সম্পর্ক ও যোগাযোগের বিষয় ইসলামি সূত্রে স্বীকৃত।
ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বরাতে বলা হয়েছে, কেউ তার কোনো নিকটাত্মীয়ের কবর জিয়ারত করে সেখানে বসে তার জন্য দোয়া করলে মৃত ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন এবং এতে আনন্দিত হন। ইমাম কুরতুবি (রহ.)-ও উল্লেখ করেছেন, মৃতরা জীবিতদের কণ্ঠস্বর শুনতে এবং তাদের পদচারণা অনুভব করতে পারেন।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কাইয়িমের মতেও, আল্লাহ তাআলা মৃতদের এমন কিছু উপলব্ধির ক্ষমতা দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তারা দুনিয়ার নির্দিষ্ট কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত হন। তবে মৃতরা ঠিক কতটুকু শুনতে বা জানতে পারেন, তা আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তিকে সালাম দিলে তিনি তা অনুভব করেন। বারজাখের জীবনে আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে এমন এক ধরনের উপলব্ধি দান করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ যেসব বিষয় তাকে অনুভব করাতে চান, সেগুলো তিনি অনুভব করতে পারেন।
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সালাফের মতে মৃত ব্যক্তিকে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়া হলে তিনি সালামের উত্তর দেন, যদিও জীবিতরা সেই উত্তর শুনতে পান না। আবার সমকালীন কিছু আলেমের মতে, মৃতরা সালাম শুনতে পান বা কবর জিয়ারতকারীর উপস্থিতি অনুভব করেন—এ বিষয়টি হাদিসের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।
কবর জিয়ারতের গুরুত্ব
কবর জিয়ারত মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। কবর জিয়ারত মানুষের অন্তর নরম করে, মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আখেরাতের প্রস্তুতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
ইসলামের শুরুর দিকে কবর জিয়ারত থেকে নিষেধ করা হলেও পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা অনুমোদন করেন। হাদিসে তিনি বলেছেন, আগে তিনি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন; পরে কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়ে বলেন, এটি দুনিয়াবিমুখতা তৈরি করে এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১)
তাহলে কবর জিয়ারতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, সালাম দেওয়া এবং নিজের আখেরাতের কথা স্মরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মৃতরা আমাদের সালাম ঠিক কীভাবে অনুভব করেন—এর পূর্ণ বাস্তবতা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা সালামের জবাব দেন—এ মতই অধিকাংশ আলেমের কাছে গ্রহণযোগ্য।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়েন, উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম। আংতুম সালাফুনা, ওয়া নাহনু বিল আসার।
অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৩)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ