ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?


কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?

মৃত্যু অবধারিত। একদিন পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুর ফলে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দিলে মৃত ব্যক্তি কি তা শুনতে বা অনুভব করতে পারেন?

ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যায়, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ সালাফ, নির্ভরযোগ্য আলেম ও ফকিহের মত হলো, মৃত ব্যক্তি কবর জিয়ারতকারীর সালাম শুনতে পারেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তার সালামের জবাবও দেন। তবে সেই জবাব সাধারণত জীবিত মানুষ শুনতে পান না।

হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়ায় পরিচিত মৃত ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গিয়ে তাকে সালাম দিলে আল্লাহ তার রুহকে সালামের জবাব দেওয়ার জন্য ফিরিয়ে দেন। এ হাদিসের ভিত্তিতে আলেমরা বলেন, মৃত ব্যক্তি জিয়ারতকারীকে চিনতে এবং তার সালামের জবাব দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরবাসীদের সালাম দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। কবর জিয়ারতের সময় তাদের উদ্দেশে সালাম ও দোয়া করা সুন্নত। এ থেকে বোঝা যায়, কবরবাসীদের সঙ্গে জীবিতদের এক ধরনের সম্পর্ক ও যোগাযোগের বিষয় ইসলামি সূত্রে স্বীকৃত।

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বরাতে বলা হয়েছে, কেউ তার কোনো নিকটাত্মীয়ের কবর জিয়ারত করে সেখানে বসে তার জন্য দোয়া করলে মৃত ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন এবং এতে আনন্দিত হন। ইমাম কুরতুবি (রহ.)-ও উল্লেখ করেছেন, মৃতরা জীবিতদের কণ্ঠস্বর শুনতে এবং তাদের পদচারণা অনুভব করতে পারেন।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কাইয়িমের মতেও, আল্লাহ তাআলা মৃতদের এমন কিছু উপলব্ধির ক্ষমতা দিতে পারেন, যার মাধ্যমে তারা দুনিয়ার নির্দিষ্ট কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত হন। তবে মৃতরা ঠিক কতটুকু শুনতে বা জানতে পারেন, তা আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তিকে সালাম দিলে তিনি তা অনুভব করেন। বারজাখের জীবনে আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে এমন এক ধরনের উপলব্ধি দান করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ যেসব বিষয় তাকে অনুভব করাতে চান, সেগুলো তিনি অনুভব করতে পারেন।

আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সালাফের মতে মৃত ব্যক্তিকে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়া হলে তিনি সালামের উত্তর দেন, যদিও জীবিতরা সেই উত্তর শুনতে পান না। আবার সমকালীন কিছু আলেমের মতে, মৃতরা সালাম শুনতে পান বা কবর জিয়ারতকারীর উপস্থিতি অনুভব করেন—এ বিষয়টি হাদিসের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।

কবর জিয়ারতের গুরুত্ব

কবর জিয়ারত মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। কবর জিয়ারত মানুষের অন্তর নরম করে, মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আখেরাতের প্রস্তুতির কথা মনে করিয়ে দেয়।

ইসলামের শুরুর দিকে কবর জিয়ারত থেকে নিষেধ করা হলেও পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা অনুমোদন করেন। হাদিসে তিনি বলেছেন, আগে তিনি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন; পরে কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়ে বলেন, এটি দুনিয়াবিমুখতা তৈরি করে এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১)

আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ

তাহলে কবর জিয়ারতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, সালাম দেওয়া এবং নিজের আখেরাতের কথা স্মরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মৃতরা আমাদের সালাম ঠিক কীভাবে অনুভব করেন—এর পূর্ণ বাস্তবতা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা সালামের জবাব দেন—এ মতই অধিকাংশ আলেমের কাছে গ্রহণযোগ্য।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়েন, উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম। আংতুম সালাফুনা, ওয়া নাহনু বিল আসার।

অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৩)

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত এবং আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজনে আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে।

তিনি বলেন, কিন্তু আবরার ফাহাদের সাহসী ও তীক্ষ্ম প্রতিবাদ ছিল নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, টলস্টয়ের মতে, অন্যের বেদনা অনুভব করাই মানবিক অস্তিত্ব। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের দেশ ছেড়ে পলায়ন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী’। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কীভাবে রুখে দাঁড়ায়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।

এছাড়া আলোচনা সভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের হাজারো ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানে বোমা রেখে ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উধাও ছিনতাইকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


বিমানে বোমা রেখে ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উধাও ছিনতাইকারী

শান্ত ও সৌম্য চেহারার অধিকারী। স্যুট পরিহিত, গলায় টাই। হাতে একটি ছোট ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে, তিনি সাধারণ যাত্রীর মতোই। কিন্তু বিমানে উঠার পর পরিবর্তিত হয় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবিতে বিমানটি ছিনতাই করেন তিনি। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে অন্ধকারে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন। তারপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের জন্য একটি একমুখী টিকিট ক্রয় করেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের কাছাকাছি। বিমানে উঠে তিনি বারবন ও সোডা অর্ডার করেন।

বিকেল ৩টার কিছু পরে, তিনি বিমানের এক বিমানবালার কাছে একটি নোট দেন। নোটে লেখা ছিল যে, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে তিনি ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান।

এরপর পাইলটের কাছে তার দাবি পাঠানো হয়। ছিনতাইকারীর শর্ত ছিল চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে।

সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে তিনি ছেড়ে দেন। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাত ৮টার কিছু পরে, সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।

ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ‘নরজ্যাক’ নামে একটি বিশাল তদন্ত শুরু করে। বিমানে তল্লাশি চালানো হয় এবং শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকে।

তদন্তকারীরা বিমানে একটি কালো জে.সি. পেনি টাই খুঁজে পান। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার কয়েক মাস পরে, রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায়, তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি।

এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর কুপার হয়তো বেঁচে ছিলেন না। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী ছিল। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।

তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে নতুন অধ্যায় যোগ হয়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ৫ হাজার ৮০০ ডলার ছিল। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি?

আরেকটি বিষয় নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও, ‘ডি.বি.’ আসলে ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও এফবিআই রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এরপর কেটে গেছে আরও বহু বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে। কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল?

উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য।

সূত্র: এফবিআই

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় নারীসহ দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


চট্টগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় নারীসহ দুই শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নগরীর ইপিজেড ৫ নম্বর সড়কে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

নিহতদের মধ্যে তামান্না ও মো. খলিল রয়েছেন। তামান্নার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। তিনি কলসির দীঘির পাড় ওয়াসিম চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করতেন। অপরদিকে, খলিল ইপিজেড থানার ফ্রি পোর্ট নিউমুরিং এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে তরুণদের বাহিনী অভিযান চালায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে তরুণদের বাহিনী অভিযান চালায়

গাজীপুরের টঙ্গীতে অপরাধ দমনে নিজেদের উদ্যোগে মাঠে নেমেছে তরুণদের একটি দল। এই দলের নাম ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’। সংগঠনের সদস্যরা নির্দিষ্ট পোশাক পরে এলাকায় টহল দেন, বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং সন্দেহভাজনদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

তবে, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়ার এবং নিরীহ মানুষের হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট টঙ্গীতে এক ব্যক্তিকে আটক করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আটক ব্যক্তি নিজেকে আনোয়ার ওরফে ‘ব্লেড আনোয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। তরুণেরা তাকে টঙ্গীর ছিনতাইকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিতে বলেন। আনোয়ার বলেন, টঙ্গীতে কেউ ছিনতাই করতে গেলে ‘পাবলিক’ তাকে মারধর করবে।

ভিডিওতে তরুণেরা আনোয়ারকে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ সংগঠনের নাম বলতে বলেন। এরপর ভিডিওটি শেষ হয়।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহাদ ইসলাম জানান, টঙ্গী এলাকায় তাদের প্রায় ২৫০ সদস্য কাজ করছেন। সংগঠনের সদস্য হতে আরও প্রায় ৭০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। টঙ্গী সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী দাবি করেন, তারা ছিনতাই, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের হাতেনাতে ধরে পুলিশে তুলে দেন।

সংগঠনটির ফেসবুক পেজে নিয়মিত আটক ব্যক্তিদের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পেজটির অনুসারী প্রায় ৫৪ হাজার। ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের ভিডিওতে হাজার হাজার দর্শক দেখা যায়। অভিযানে সংগঠনের সদস্যদের নির্দিষ্ট পোশাক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চলতে দেখা যায়। কখনও কখনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংগঠনটির উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন’ আত্মপ্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এরপর তারা প্রায় ২৫০ জন ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সবুজ উদ্দিন ইকবাল জানান, তাদের সোর্সদের মাধ্যমে অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর তারা অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, অনেক সময় পুলিশও তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য বার্তা দেয়।

অপরাধী ধরার কাজ পুলিশের হলেও তারা কেন এ দায়িত্ব পালন করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সবুজ উদ্দিন জানান, নিজেদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এ কাজ করছেন। তার দাবি, সংগঠনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে, যেখানে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাও যুক্ত আছেন।

তবে টঙ্গীতে অপরাধের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম দুই থানার আওতাধীন এলাকায় গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিনতাই, ছিনতাইচেষ্টা ও ডাকাতির ঘটনায় যথাক্রমে ৭১ ও ৭২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় ৭০২ এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় ৪২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে মামলা ও আটকের এই হিসাব দিয়ে টঙ্গীর অপরাধের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করেন না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গীর স্টেশন রোড, হোসেন মার্কেট, কলেজ গেট, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড, সাতাইশ, কেরানীরটেক ও হাজী মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

২৬ আগস্ট রাত সাড়ে তিনটার দিকে সাতাইশ এলাকার বাসিন্দা শেখ মোহাম্মদ রুসেল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রংপুর যাওয়ার জন্য বাসার বাইরে বের হলে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তার ভাষ্য, রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় মুখ কাপড়ে ঢাকা তিন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তার পরিবারের দুটি মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরদিন তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। তবে পরে কোনো মালামাল উদ্ধার বা আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম অবশ্য বলেন, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের দায়িত্ব। তবে এ কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। জনগণের সচেতনতা ও সহায়তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, অপরাধ দমনে এ ধরনের বেসরকারি দল গঠনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে দল গঠন করে অপরাধ দমন করতে গেলে নতুন ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী বা ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত করে মারধর কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনাও ঘটতে পারে। এমনকি ব্যক্তিগত স্বার্থে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অধ্যাপক ওমর ফারুকের মতে, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মাদকব্যবসার মতো অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%