০৪:২০ এম
রাজধানীতে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচজন সদস্য গ্রেফতার করেছে ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১। মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫) ২। বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫) ৩। মরিয়ম (৪৯) ৪। শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও ৫। উর্মী বেগম (৩৯)।
ডিবি-সাইবার বিভাগের সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী এক কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ সালে ঋণ সংক্রান্ত কাজে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে সেখানে একজন নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সাথে পরিচিত হন। এরপর ওই নারী ভুক্তভোগীর ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন। এরপর কয়েকদিন মোবাইল ফোনে নিত্যদিন যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারী ভুক্তভোগীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে, তিনি বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর, অপর এক নারী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে রিকশাযোগে বিভিন্ন গলি অতিক্রম করে ডিএমপির খিলগাঁও থানাধীন একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। তারা এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে এবং প্রয়োজনে, তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকিং এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেন।
এরপর আসামিরা ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও অন্যান্য উপায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। তারা ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী গত ২২ জুন ২০২৬ সালে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিবি-সাইবার বিভাগ থেকে আরও জানা যায়, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি অভিযানকারী দল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৭:৩০ ঘটিকা থেকে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। এ সময়, তাদের হেফাজত থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি ওয়াকিটকি ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
প্রাথমিক তদন্তের সময়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগী এবং চক্রটির অপরাধ কর্মকাণ্ডের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। মামলার সাথে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি, অপরাধ সংঘটনের কৌশল এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন