০১:১৯ পি.এম
অনবরত বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে কুড়িগ্রামে পরপর দুই দফার স্বল্পমেয়াদী বন্যায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি কৃষকদের জন্য চরম আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকার প্রান্তিক কৃষকদের জন্য। উল্লেখ্য, স্থানীয় কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, বন্যার পানিতে একরের পর একর পটল ও করলার ক্ষেত তলিয়ে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য ফসলের ক্ষেত, বিশেষ করে পাট, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতগুলো রক্ষার উপায় না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের ক্ষেত থেকে নষ্ট ও আধপাকা ফসল সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের ফলে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদীর অববাহিকা এবং বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ পটল, শসা, করলা, পাট, বাদাম, আমন বীজতলা সহ নানা ফসল নিমিষে তলিতে যায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই দফা বন্যায় ফসলের ক্ষেত দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে থাকায় তা সম্পূর্ণরূপে পচে গেছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানিয়েছেন, হঠাৎ বন্যায় তাদের উঠতি ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা ধারদেনা করে লাগানো ফসল থেকে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পরবর্তী ফসল চাষ করার জন্য তারা এখন সরকারি জরুরি সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক মোছাব্বের হোসেন সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানাচ্ছেন, '২ বিঘা জমিতে পটল লাগিয়েছিলাম। কিন্তু সম্পূর্ণ আবাদটাই বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মাত্র তিন বার পটল তুলে বাজারে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। তাতে আমার উৎপাদন খরচই ওঠেনি। এখন সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে পরবর্তী আবাদের জন্য আমার অর্থনৈতিক সামর্থ্য কোনো নেই।'
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান কৃষকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, 'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পরবর্তী আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিয়ে আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়াব।'
জেলা কৃষি বিভাগের সরকারি তথ্যানুযায়ী, পরপর দুই দফা বন্যার ফলে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৪৯৯ হেক্টর জমির সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন