রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৯ পি.এম
মানুষের জীবনে বরকত একটি অমূল্য নিয়ামত, যা শুধুমাত্র সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অল্প সম্পদে তৃপ্তি, সময়ের সঠিক ব্যবহার, ইবাদতে স্বাদ, পরিবারে শান্তি এবং কর্মে সফলতার মধ্যেই বরকতের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। অনেককে দেখা যায় যাঁরা অধিক পরিমাণে উপার্জন করেন; কিন্তু দিনশেষে তাঁদের অশান্তি ও হতাশার গল্প শোনাতে হয়। এর পেছনে কারণ হলো, চলার পথে কিছু গোনাহ ও ভুল অভ্যাস রয়েছে, যা অজান্তেই জীবন থেকে বরকত কেড়ে নিচ্ছে।
১. মিথ্যা ও প্রতারণা
মিথ্যা ও প্রতারণা বরকত ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে অসততা মানুষের উপার্জনকে বরকতহীন করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি সত্য কথা বলে এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে, তবে তাদের লেনদেনে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তবে তাদের লেনদেনের বরকত মুছে ফেলা হয়।" (বোখারি: ২০৭৯)
অতএব, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত লাভ সাময়িকভাবে বেশি মনে হলেও তা প্রকৃত অর্থে কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত করে।
২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা শুধুমাত্র একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি বরকত লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ুতে বরকত দেওয়া হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।" (বোখারি: ৫৯৮৬) যেখানে সম্পর্ক রক্ষা বরকতের কারণ, সেখানে সম্পর্ক ছিন্ন করা নিঃসন্দেহে বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ।
৩. সুদ ও হারাম উপার্জন
সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা মানুষের হক নষ্ট করে অর্জিত সম্পদ বাহ্যিকভাবে বাড়লেও তাতে বরকত থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি করেন।" (সুরা আল বাকারা: ২৭৬)
তাফসিরবিদগণ বলেন, এখানে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার অর্থ শুধু সম্পদ কমে যাওয়া নয়; বরং সেই সম্পদের বরকত, কল্যাণ ও শান্তি উঠে যাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। (তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/৬১৩)
৪. দিনের প্রথম ভাগকে অবহেলা করা
সকালের সময়কে আল্লাহ তাআলা বিশেষ বরকতময় করেছেন। অথচ অনেকেই দিনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টি ঘুম, অলসতা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, "হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য দিনের প্রথম ভাগে বরকত দান করুন।" (আবু দাউদ: ২৬০৬)
তাহলে ফজরের পরের সময়কে ঘুমের মধ্যে না কাটিয়ে, ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও জীবিকার কাজে ব্যয় করা বরকত অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, বরকত কখনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ। তাই জীবনের বরকত ধরে রাখতে হলে মিথ্যা ও প্রতারণা বর্জন করতে হবে, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে, সুদ ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকতে হবে, দিনের প্রথম ভাগকে মূল্য দিতে হবে এবং অলসতাকে পরিহার করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার শহীদ জিয়া শিশু পার্কের আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হলে, আগামী জুন মাসের মধ্যে এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগস্থ শহীদ জিয়া শিশু পার্ক প্রকল্প এলাকায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর ‘শিশু পার্ক শাখা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দ্রুততার সাথে পার্কের বাকি কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য ১৫টি অত্যাধুনিক রাইড ক্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই রাইডগুলো প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শিশুদের জন্য একটি আধুনিক পার্ক উপহার দিতে সক্ষম হবে।
ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘রাস্তার সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও বৃক্ষরোপণসহ সব সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) থেকে সবাইকে অংশ নিতে হবে।’
এছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য গৃহস্থালি ও আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার রাখার এবং কোথাও তিনদিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসক।
শহীদ জিয়া শিশু পার্ক আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে পার্ক প্রাঙ্গণে পূবালী ব্যাংকের শাখা ভবনটি নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেওয়াল ধসে আয়েশা সিদ্দিকা নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধীতপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা সিদ্দিক উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার সিদ্দিক ও ফারজানা দম্পতির সন্তান। সে মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে শিশুর নানা মোন্তাজ উদ্দিনের বাড়ির মাটির ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা। হঠাৎ বজ্রপাতের ফলে মাটির দেওয়াল ভেঙে শিশুটির ওপর পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির মৃত্যুতে তার মা, নানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন জানান, আয়েশা সিদ্দিকা তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সকালে মাটির ঘরে ঘুমিয়ে ছিল সে। হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেওয়াল ধসে ঘুমন্ত আয়েশার ওপর চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইতালির নাপলি শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শফিকুল ইসলাম নামের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির বন্দর নগরী নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শফিকুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুর এলাকার দর্জিবাড়ি ব্রিজসংলগ্ন এলাকার নসু প্রামাণিকের পুত্র।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, ইতালির নাপলি শহরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় শফিকুল ইসলাম প্রাণ হারান। কিন্তু দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর মাদারীপুরে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়রা দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা মন্তব্য করেন, "বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। নিহতের পরিবার যোগাযোগ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু করেছে, যা বিনিয়োগকারী, শেয়ারবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের জন্য তথ্য ও সেবা প্রদানে আরও সহজতর হবে।
নতুন ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করা হয়। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিএসইসির আইন-কানুন, অ্যানফোর্সমেন্ট অ্যাকশন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস আদেশ, নিবন্ধিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের তালিকা এবং আইপিও ও আরপিও প্রসপেক্টাসসহ কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।
এছাড়া, বিএসইসির বিভিন্ন সেবা এবং সেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।
বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ওয়েবসাইটটি বিশ্বের স্বনামধন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আধুনিক ওয়েবসাইটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস এবং তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে এবং কমিশনার (আইসিটি) তানভীর হাবিব রহমানের তত্ত্বাবধানে কমিশনের আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করা হয়েছে। বিএসইসি আশা করছে, নতুন ওয়েবসাইটটি শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে কমিশনের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরও গতিশীল হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। পূর্ববর্তী অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট চালুর সঙ্গে সঙ্গে।
নতুন ওয়েবসাইটের ঠিকানা sec.gov.bd। ওয়েবসাইট সম্পর্কে মতামত, পরামর্শ বা ফিডব্যাক [email protected] ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ