রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০০ পি.এম
ময়মনসিংহের ভালুকায় বজ্রপাতে মাটির ঘরের দেওয়াল ধসে আয়েশা সিদ্দিকা নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধীতপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা সিদ্দিক উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার সিদ্দিক ও ফারজানা দম্পতির সন্তান। সে মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে শিশুর নানা মোন্তাজ উদ্দিনের বাড়ির মাটির ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আয়েশা। হঠাৎ বজ্রপাতের ফলে মাটির দেওয়াল ভেঙে শিশুটির ওপর পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির মৃত্যুতে তার মা, নানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন সরকার রিপন জানান, আয়েশা সিদ্দিকা তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সকালে মাটির ঘরে ঘুমিয়ে ছিল সে। হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটির দেওয়াল ধসে ঘুমন্ত আয়েশার ওপর চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইতালির নাপলি শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শফিকুল ইসলাম নামের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির বন্দর নগরী নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শফিকুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুর এলাকার দর্জিবাড়ি ব্রিজসংলগ্ন এলাকার নসু প্রামাণিকের পুত্র।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, ইতালির নাপলি শহরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় শফিকুল ইসলাম প্রাণ হারান। কিন্তু দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর মাদারীপুরে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়রা দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা মন্তব্য করেন, "বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। নিহতের পরিবার যোগাযোগ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু করেছে, যা বিনিয়োগকারী, শেয়ারবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের জন্য তথ্য ও সেবা প্রদানে আরও সহজতর হবে।
নতুন ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করা হয়। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিএসইসির আইন-কানুন, অ্যানফোর্সমেন্ট অ্যাকশন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস আদেশ, নিবন্ধিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের তালিকা এবং আইপিও ও আরপিও প্রসপেক্টাসসহ কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।
এছাড়া, বিএসইসির বিভিন্ন সেবা এবং সেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।
বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ওয়েবসাইটটি বিশ্বের স্বনামধন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আধুনিক ওয়েবসাইটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস এবং তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে এবং কমিশনার (আইসিটি) তানভীর হাবিব রহমানের তত্ত্বাবধানে কমিশনের আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করা হয়েছে। বিএসইসি আশা করছে, নতুন ওয়েবসাইটটি শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে কমিশনের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরও গতিশীল হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। পূর্ববর্তী অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট চালুর সঙ্গে সঙ্গে।
নতুন ওয়েবসাইটের ঠিকানা sec.gov.bd। ওয়েবসাইট সম্পর্কে মতামত, পরামর্শ বা ফিডব্যাক [email protected] ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের কচুয়ায় ঘটে যাওয়া তিনটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশ উদঘাটন করেছে।
এই ঘটনায় তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি কালো রঙের মোবাইল ফোন এবং একটি মোবাইল ফোনের চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, কচুয়া থানার চান্দেরকোলা গ্রামের চন্দ্রসেকোনা এলাকায় ২ আগস্ট রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোরের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ৪ আগস্ট বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে কচুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার পর কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দক্ষ দল এবং কচুয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে আরও দুই আসামি আসাদুল শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফোনের চার্জার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করে আসছিল। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামির মধ্যে জাহিদুল ইসলামের পিতার নাম মৃত মজিদ হাওলাদার, আসাদুল শেখের পিতার নাম মৃত সুলতান শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুর পিতার নাম বারিক হাওলাদার। তারা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরকীয়া প্রেমের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অন্যতম প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী একাডেমিক কার্যক্রমে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্যান্যদেরও নিয়মিত চলাচল করতে হয়। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে, তবে এর অগ্রগতি ধীর গতির কারণে সড়কটি কবে নাগাদ স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহার উপযোগী হবে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পুরোনো পিচ উঠে গেছে। সড়কের মাঝখানে ছোট-বড় একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেকটাই পূর্ণ হয়ে আছে। ফলে পথচারীদের জন্য গর্তের অবস্থান বুঝে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে প্রতিদিন তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। কাজ শুরু হলেও বর্তমানে আবার বন্ধ রয়েছে। কেন কাজ বন্ধ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, নকশা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কি না তা জানি না। কয়েক দিন আগে বিকেলে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় দেখি, ডরমিটরি থেকে আসা এক শিক্ষক এর মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে পড়ে যায়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন।"
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, "আবহাওয়ার কারণেই মূলত কাজটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।" তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব মালামাল আগেই এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "নির্দেশ দিলেই ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে ভেজা আবহাওয়ায় কাজ করলে যানবাহন চলাচলের সময় পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতেই আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে।"
উপপ্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুস সাকিব বলেন, "কাজের অগ্রগতি থেমে থাকার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের কোনো অবহেলা নেই। রাস্তার পাশে রড, পিচসহ প্রয়োজনীয় উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "রাস্তার স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি গুণগত মান নিশ্চিত করতে টানা ১০ থেকে ১৫ দিন শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। তাই খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে কাজ শুরু করে ঝুঁকি নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে এবং কাজ শুরু করার পর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ