বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৫ পি.এম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ওয়েবসাইটে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের এমএ কোর্সে ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই শিক্ষাবর্ষে MA in English Literature এবং MA in English Language Teaching (ELT)—এই দুটি কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ নভেম্বর; সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত English Literature এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ELT কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৫ নভেম্বর।
আগ্রহী প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি ১ হাজার টাকা, যা সোনালী ব্যাংকের মাভাবিপ্রবি শাখার নির্ধারিত হিসাবে জমা দিয়ে রসিদসহ আবেদনপত্র ইংরেজি বিভাগে জমা দিতে হবে।
ভর্তি যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, ইউজিসি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ থাকতে হবে এবং ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে স্নাতক সম্পন্নকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি কোর্সে ৩০টি করে আসন রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি ও পোষ্য কোটার জন্য ২টি করে আসন সংরক্ষিত থাকবে; বাকি ২৮টি আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সাক্ষাৎকার, চূড়ান্ত মেধাতালিকা এবং ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ইংরেজি বিভাগের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শৈশবের সংজ্ঞা হলো খেলতে খেলতে শেখা, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং নিজের মতো করে পৃথিবীকে চেনা। কিন্তু বৈষম্য, দারিদ্র্য ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেক শিশুর শৈশব থমকে যায়। শিশুদের এই বাস্তবতা ও অধিকারকে সহজ গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল মীনা নামের কার্টুন চরিত্র। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে মীনা শুধুমাত্র বিনোদনের চরিত্র নয়, বরং সচেতনতার পরিচিত মুখ হিসেবেও পরিচিত।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস। প্রতিবছর দিবসটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সমতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পালিত হয়।
মীনার জন্ম যেভাবে
১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে ‘মেয়েশিশুর দশক’ হিসেবে ঘোষণা করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। ওই সময় মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘের শিশু তহবিল একটি কার্টুনভিত্তিক ধারাবাহিক তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ থেকেই মীনা চরিত্রের জন্ম হয়।
মীনা একটি নয় বছর বয়সী মেয়ে। তার সঙ্গে রয়েছে ছোট ভাই রাজু এবং পোষা টিয়াপাখি মিঠু। মীনার গল্পে উঠে এসেছে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, শিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিভিন্ন বিষয়।
মীনা কখনো স্কুলে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে, কখনো মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। আবার কিছু গল্পে স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পানি কিংবা পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। গুরুতর এসব বিষয়কে শিশুদের জন্য সহজ গল্পে উপস্থাপন করা ছিল মীনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা পৌঁছে যেত।
বাংলাদেশে মীনার যাত্রা
বাংলাদেশে মীনা কার্টুনের প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ নামের ওই পর্বে স্কুলে যাওয়ার জন্য মীনার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মীনা পরিচিত হয়ে ওঠে। কার্টুনের পাশাপাশি কমিক বই, বেতার অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও ছড়িয়ে পড়ে তার গল্প। টেলিভিশনের পর্দা পেরিয়ে শিশুদের শেখার জগতেরও অংশ হয়ে ওঠে চরিত্রটি।
দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয়তা
মীনার জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষায় প্রচারিত হয়েছে তার গল্প। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির শিশুদের কাছে মীনার গল্প সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। কারণ গল্পগুলোর বিষয় ছিল তাদের পরিচিত জীবনের নানা সমস্যা।
মেয়েশিশুর শিক্ষা, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে মীনার গল্প শিশুদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও ভাবিয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার অধিকার ও সমতার বার্তা ছিল এই চরিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কেন ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস
১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হয়ে আসছে। মেয়েশিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর এ দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে মীনা দিবস শুধুমাত্র একটি কার্টুন চরিত্রকে মনে করার দিন নয়। এটি একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে আনে।
সময় বদলেছে, বদলায়নি মীনার বার্তা
মীনার যাত্রা শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। এর মধ্যে শিশুদের জীবনযাপন ও বিনোদনের মাধ্যম অনেক বদলে গেছে। টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুরা সময় কাটায়।
তবে মেয়েশিশুর শিক্ষা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য কিংবা বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এখনো আলোচনার বাইরে যায়নি। সেখানেই মীনার গল্পের প্রাসঙ্গিকতা।
সময় ও মাধ্যম বদলালেও একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার অধিকার, নিজের মত প্রকাশের সুযোগ এবং নিরাপদ শৈশবের প্রয়োজন বদলায়নি।
মীনা তাই শুধুমাত্র পর্দার একটি কার্টুন চরিত্র নয়। অনেক শিশুর কাছে সে সাহস করে প্রশ্ন করতে শেখার এক পরিচিত বন্ধু। মীনা দিবস সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—কোনো শিশুর স্বপ্ন যেন তার লিঙ্গ, পারিবারিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে থেমে না যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বিনোদপুরে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ফলে গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতপ্রাপ্ত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে, রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
তারা হাসপাতালের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারেন, রাফিদের মাথায় তীব্র আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত জমে গেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং করা হয়।
রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজারে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল আকস্মিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে সাইড দিতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারান। এর ফলে তিনি বাইক থেকে ছিটকে পড়ে মাথা সড়কের ডিভাইডারে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি কোমায় যাওয়ার আগের পর্যায়ে রয়েছেন অর্থাৎ বর্তমানে কোমা স্কেলে তার অবস্থা ৩.৫ বলে জানা গেছে। তবে রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায়, শেষ চেষ্টা হিসেবে ঢাকায় নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার মন্তব্য করেন, "আমাদের শিক্ষার্থী রাফিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব নয়, চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে প্রশাসনের থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি। রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।"
দুর্ঘটনার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রুয়েট ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, "বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ শব্দে আমরা সচেতন হই। পরক্ষণে এ দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি। তারপর আমরা ভাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে বলে জানতে পারি।"
এদিকে, রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্রাউড ফান্ডিং সংগ্রহ হয়েছে। তার পরবর্তী চিকিৎসায় আরও ১৮-২০ লক্ষ টাকার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিতে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ‘মেসি কাপ’। এই টুর্নামেন্টটি ইন্টার মায়ামির উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এবং এর দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণ করবে ১৬টি ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ দল। পূর্ববর্তী আসরে অংশ নিয়েছিল আটটি দল।
এবারের মেসি কাপ আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে ইন্টার মায়ামি স্টেডিয়াম ও ফ্লোরিডা ব্লু ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো। বিভিন্ন দেশের নামী ক্লাবগুলোর একাডেমি থেকে আসা তরুণ ফুটবলাররা এই দুই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে।
প্রথম আসরের তুলনায় এবার দলসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তরুণ ফুটবলারদের আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে খেলার সুযোগ দেওয়া যায়। আয়োজকেরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে চান।
ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তরুণদের বিকাশের ক্ষেত্রে। নিজের নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আর্জেন্টাইন তারকা মন্তব্য করেন, ‘মেসি কাপ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছেলেরা যেন নিজেদের বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ বয়সে মাঠ ও মাঠের বাইরে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মেজাজ কেমন হয়, তা এখন থেকেই বুঝতে শিখুক।’
এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মেসি সন্তুষ্ট। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের এক জায়গায় এনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
মেসি বলেন, ‘টুর্নামেন্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে, তা দেখে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত। বিশ্বের সেরা সেরা ক্লাব থেকে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের এখানে একত্রিত হতে দেখে ভালো লাগছে, যাতে তারা একে অপরের বিপক্ষে লড়তে পারে, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারে এবং সবচেয়ে বড় কথা, ফুটবলকে উপভোগ করতে পারে।’
এবারের মেসি কাপে অংশ নেবে ইন্টার মায়ামি সিএফ, আয়াক্স, ইন্টার মিলান, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বেনফিকা, এফসি বার্সেলোনা, পালমেইরাস, আর্সেনাল, নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ, ফ্ল্যামেঙ্গো, ইউই কর্নেয়া, ম্যানচেস্টার সিটি, বোকা জুনিয়র্স, রিভার প্লেট, ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে দেল ভ্যালে ও চেলসি।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে ডিজনি প্লাস ও ইএসপিএন প্লাস। তবে অঞ্চলভেদে ম্যাচ দেখার সুযোগ নির্ভর করবে স্থানীয় সম্প্রচার-সুবিধার ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মমানের প্রশংসা করে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় পোশাক কারখানা। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতাও চেয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মিশরের মোনুফিয়া ফ্রি জোনে অবস্থিত এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে এবং শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন কারখানাটি পরিদর্শন করেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলিগেন্স অ্যাপারেলসে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। কারখানাটিতে উৎপাদিত পোশাক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বহুজাতিক ক্রেতার কাছে রপ্তানি করা হয়।
পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, পরিশ্রম ও কাজের মানের প্রশংসা করে। তারা বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ, তবু বৈধ হওয়ার সুযোগ। মিশরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকারি পর্যায়ে ওয়ার্ক পারমিটভিত্তিক ভিসা চালু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে নতুন করে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে দেশটিতে আগে থেকেই বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে মিশরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে বৈধতার আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অনেক বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মমানের প্রতি মিশরীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কর্মীদের কল্যাণে গুরুত্ব দূতাবাসের
এলিগেন্স অ্যাপারেলস পরিদর্শনের সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারা কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তারা কর্মপরিবেশ, আবাসন, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দূতাবাসের পরিদর্শনে সন্তুষ্ট কর্মীরা
এ সময় কারখানাটিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রোডাকশন ম্যানেজার হোসেন ও প্রোডাকশন সুপারভাইজার মাসুদ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা সরাসরি কর্মস্থলে এসে বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলায় তারা আনন্দিত। কর্মীদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তারা দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থে নিয়মিত পরিদর্শন।
পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে বলেন, মিশরে যেসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ, কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দূতাবাস কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও সুনাম যেন মিশরে আরও বৃদ্ধি পায় এবং দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়, সে বিষয়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকে মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে দূতাবাসের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার এবং সম্ভাব্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ