প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহীর বিনোদপুরে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ফলে গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতপ্রাপ্ত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে, রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
তারা হাসপাতালের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারেন, রাফিদের মাথায় তীব্র আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত জমে গেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং করা হয়।
রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজারে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল আকস্মিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে সাইড দিতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারান। এর ফলে তিনি বাইক থেকে ছিটকে পড়ে মাথা সড়কের ডিভাইডারে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি কোমায় যাওয়ার আগের পর্যায়ে রয়েছেন অর্থাৎ বর্তমানে কোমা স্কেলে তার অবস্থা ৩.৫ বলে জানা গেছে। তবে রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায়, শেষ চেষ্টা হিসেবে ঢাকায় নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার মন্তব্য করেন, "আমাদের শিক্ষার্থী রাফিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব নয়, চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে প্রশাসনের থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি। রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।"
দুর্ঘটনার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রুয়েট ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, "বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ শব্দে আমরা সচেতন হই। পরক্ষণে এ দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি। তারপর আমরা ভাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে বলে জানতে পারি।"
এদিকে, রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্রাউড ফান্ডিং সংগ্রহ হয়েছে। তার পরবর্তী চিকিৎসায় আরও ১৮-২০ লক্ষ টাকার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন