বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এক রাতের মধ্যে পাঁচটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির ফলে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদের পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীফলতলা লস্কর পাড়ার ভুক্তভোগী গ্রাহক নাজমুল হোসেইন জানান, নতুন ট্রান্সফরমার এবং সংযোগের জন্য তাদের ৪৩ হাজার টাকা, পরিবহন খরচ বাবদ আরও ২ হাজার টাকা, মোট ৪৫ হাজার টাকা মাশুল দিতে হয়েছে। ওই এলাকায় মোট ১৮ জন গ্রাহক মিলে এই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্য একটি স্পটের ভুক্তভোগী গ্রাহক দেলওয়ার হোসাইন মাস্টার জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় নতুন ট্রান্সফরমার ও সংযোগ বাবদ ২২ জন গ্রাহককে মোট ৪৫০৫৩ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। নিত্যানন্দপুর মাঠ পাড়াসহ চুরির ঘটনা ঘটেছে এমন অন্যান্য এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে এবং প্রতিটি স্থানে গ্রাহকদের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এই একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ও এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শ্রীফলতলা, লস্কর পাড়ায় সোহরাব মাস্টারের বাড়ির সংলগ্ন মাঠ থেকে ১টি, বড় শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি, এবং নিত্যানন্দপুর মাঠ পাড়া এলাকা থেকে ২টি, সড়াবাড়িয়া থেকে ১টি, মোট ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চোরেরা গভীর রাতে ট্রান্সফরমারগুলো থেকে মূল্যবান তামার তার ও কয়েল লুটে নিয়ে খালি বডিগুলো ফেলে রেখে যায়।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক নজরুল লস্কর শাহাবুদ্দীন ও আজিজ লস্কর বলেন, "ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে রাতের আঁধারে, এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনের ব্যর্থতা। অথচ সেই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের মতো খেটে খাওয়া কৃষক শ্রেণির মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চোরের শাস্তি ও জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।" তারা আরও জানান, এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দরিদ্র কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণী হয়ে পড়ছেন।
হঠাৎ করে এই বড় অঙ্কের আর্থিক খেসারত দিতে গিয়ে অনেক প্রান্তিক চাষি চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় ফসলের মাঠে পানি সেচ ব্যাহত হচ্ছে, যা চাষিদের আরও বড় চাষাবাদজনিত লোকসানের মুখে ফেলেছে।
আইনি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রচলিত ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’ এর ৩৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা ট্রান্সফরমার চুরি ও বিনষ্ট করা একটি মারাত্মক এবং জামিনঅযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অন্যূন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই আইনে চোরকে শাস্তির স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও, গ্রাহকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের কোনো বিধান নেই। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের অভ্যন্তরীণ ‘গ্রাহক সেবা নির্দেশিকা’র দোহাই দিয়ে মাঠের পাহারার দায় কৃষকদের ওপর চাপাচ্ছে এবং নতুন ট্রান্সফরমারের মূল্যের ৫০ শতাংশ ও পরিবহন খরচ বাবদ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে— যা প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হরিণাকুণ্ডু জোনাল অফিসের এজিএম মো. শাহরিয়ার পল্লব জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত বা নিয়মবহির্ভূত টাকা নেওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) নির্দেশনা ১০০-৩৫ এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ীই সম্পূর্ণ বৈধ রশিদের মাধ্যমে এই টাকা সরকারি কোষাগারে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (BREB) নীতিমালায় মাঠপর্যায়ের বা সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার পাহারার মূল দায়িত্ব স্থানীয় গ্রাহকদের ওপর থাকে এবং প্রথমবার চুরি হলে ট্রান্সফরমার মূল্যের ৫০ শতাংশ টাকা গ্রাহকদের বহন করার নিয়ম রয়েছে।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, এই চুরির ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে এলাকার কৃষকদের আইনি সহায়তা দিতে এবং নতুন করে চুরি রোধ করতে টহল পুলিশকে আরও সক্রিয় থাকার ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক কৃষকদের কাছ থেকে চুরির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে, যেখানে তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভায় ফোন করে চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফের মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফজলুর রহমানের মন্তব্য চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে মেধাভিত্তিক এবং প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
জকসু এ বিষয়ে বলেছে, দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সামনে ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া উদ্বেগজনক। সংগঠনটি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফজলুর রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়াও, দেশের সকল নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জকসু।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত, স্ত্রী মান্যতা দত্তকে নিয়ে মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় লালবাগচা রাজা মণ্ডপে হাজির হয়ে আলোচনায় আসেন। দর্শনের সময়, তিনি মান্যতাকে আগলে রাখেন এবং গণেশের পায়ের কাছ থেকে সিঁদুর নিয়ে মান্যতার কপালে পরিয়ে দেন। এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সঞ্জয় দত্ত ও মান্যতা লালবাগচা রাজায় দর্শন করতে যান। সঞ্জয়ের পরনে ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের পাঞ্জাবি, আর মান্যতাকে দেখা যায় উজ্জ্বল গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজে।
মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে সঞ্জয় মণ্ডপে প্রবেশ করেন। পুরো সময়জুড়ে তিনি মান্যতার কাছে ছিলেন এবং ভিড়ের মধ্যে তাকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন।
দর্শনের সময় আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটি বিশেষ মুহূর্ত। গণেশের পায়ের কাছ থেকে সিঁদুর নিয়ে মান্যতার কপালে পরিয়ে দেওয়ার সময়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সঞ্জয় দত্ত প্রতিবছর লালবাগচা রাজায় আসার ইচ্ছার কথাও জানান। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, আবারও লালবাগচা রাজার দর্শন করতে পারা তার সৌভাগ্য। গণেশ তাকে ডেকেছেন বলেই তিনি এখানে এসেছেন এবং প্রতি বছর যেন তিনি এখানে আসতে পারেন, সেই প্রার্থনাও করেন।
এদিন লালবাগচা রাজায় সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে দেখা হয় অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডের। চাঙ্কি, তার মেয়ে অনন্যা পান্ডেকে সঙ্গে নিয়ে মণ্ডপে এসেছিলেন। সেখানে দুই পুরোনো সহকর্মী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্জয় দত্ত একাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি ‘হাউসফুল ৫’, ‘বাগি ৪’ এবং ‘ধুরন্ধর’-এ অভিনয় করবেন। ২০২৬ সালে তার অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘দ্য রাজা সাব’, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’, ‘রাজা শিবাজি’, ‘আখরি সাওয়াল’ এবং কন্নড় সিনেমা ‘কেডি: দ্য ডেভিল’।
সঞ্জয়ের পরবর্তী সিনেমার তালিকায় ‘রেঞ্জার’ রয়েছে। জগন শক্তি পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৭ সালে মুক্তির কথা রয়েছে। এতে অজয় দেবগনকে বন কর্মকর্তার চরিত্রে এবং সঞ্জয় দত্তকে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করছেন তামান্না ভাটিয়া।
এ ছাড়া ‘খলনায়ক রিটার্নস’ সিনেমাতেও সঞ্জয় দত্তকে দেখা যাবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় একটি সেতুর মাঝের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। একটি পিলারও দেবে গেছে। প্রতিদিন ১৬ গ্রামের হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়রা শঙ্কিত, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
১৯৯০ সালে দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের হরিনাবাজার, ভবানীপুর ও বাজারখোলা গ্রামের মধ্যবর্তী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে সেতুর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে পাঁচগাছিয়া ও পাশের আরেকটি ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। অনেকেই হেঁটে সেতুটি পার হচ্ছেন। পার হওয়ার সময় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন অনেকে।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নূরে আলম জানান, "প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে সেতুটি পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।"
স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত বলেন, "এই সেতুতে উঠলে মনে হয় এই বুঝি প্রাণটা গেল। এটা সেতু নয় পুলসিরাত।"
পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো তারাও ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
বাজারখোলা গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ জানান, "প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।"
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, "সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাতে বিছানায় শুয়ে থাকার সময় পায়ে অস্বস্তির অনুভূতি হতে পারে। কখনো জ্বালাপোড়া, কখনো চুলকানি, আবার কখনো মনে হয় পায়ের ভেতর দিয়ে কিছু একটা হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছে। স্থির থাকতে পারছেন না, বারবার পা নাড়াতে হচ্ছে। পা নড়াচড়া করলেই কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতি নিয়মিত হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এর পেছনে অস্থির পা সিনড্রোম থাকতে পারে।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, অস্থির পা সচেতনতা দিবস। প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয় যাতে মানুষ এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয়। রাতে বিশ্রামের সময় পায়ে অস্বস্তি এবং পা নাড়ানোর তীব্র ইচ্ছা এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে এর কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
অস্থির পা সিনড্রোম কী
এটি স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নড়াচড়াজনিত সমস্যা। সাধারণত বিশ্রামে থাকা অবস্থায় পায়ে অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়। সেই অস্বস্তি কমানোর জন্য পা নাড়ানোর প্রবল ইচ্ছা হয়।
সন্ধ্যা ও রাতে উপসর্গ বেশি দেখা দেওয়ায় অনেকের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৭ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।
অতএব, এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই অস্থির পা সচেতনতা দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২৩ সেপ্টেম্বর কেন সচেতনতা দিবস
অস্থির পা সচেতনতা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১২ সালে। দিনটি সুইডেনের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কার্ল-অ্যাক্সেল একবর্নের জন্মদিনের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৯০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক ১৯৪৫ সালে প্রথম অস্থির পা সিনড্রোমের বৈশিষ্ট্য ও উপসর্গ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দিনটি পালনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
কেন হয় এই সমস্যা
অস্থির পা সিনড্রোমের মূল কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যক্রম, শরীরে আয়রনের মাত্রা এবং শিরাসংক্রান্ত কিছু সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে।
কিছু ওষুধ ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও এই রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
অস্থির পা সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পায়ে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, ঝিমঝিম করা কিংবা পোকা হাঁটার মতো অনুভূতির কথা বলতে পারেন।
কারও ক্ষেত্রে পায়ে বারবার ঝাঁকুনি বা অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়াও দেখা দিতে পারে। সাধারণত দীর্ঘ সময় বসে থাকা কিংবা শুয়ে থাকার সময় অস্বস্তি বাড়ে। পা নড়াচড়া করলে কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি পাওয়া যায়।
খুব কম ক্ষেত্রে পায়ের পাশাপাশি হাতেও একই ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় অস্থির পা সিনড্রোমের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করান এমন ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে।
বংশগতিরও ভূমিকা থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের নিকটাত্মীয়দের মধ্যেও একই ধরনের সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। তবে পরিবারের কারও এই রোগ থাকলেই অন্য সদস্যেরও রোগটি হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়।
হালকা শরীরচর্চায় মিলতে পারে স্বস্তি
অস্থির পা সিনড্রোমের কিছু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে হালকা শরীরচর্চা সহায়ক হতে পারে। চিকিৎসক বা শারীরিক পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা টান দেওয়ার ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, সাঁতার কিংবা সাইকেল চালানোর মতো পরিমিত শরীরচর্চা করা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
রাতে নিয়মিত পা নাড়ানোর তীব্র ইচ্ছা, পায়ে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা ঝিমঝিম ভাবের কারণে ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে চিকিৎসক উপসর্গের কারণ খুঁজে দেখবেন এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন। এই রোগের স্থায়ী নিরাময়ের উপায় নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে উপসর্গ কমানোর বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।
তাহলে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সমস্যাটি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি
অস্থির পা সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় নিজের সমস্যাটি ঠিকভাবে বোঝাতে পারেন না। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুর মধ্যে এমন লক্ষণ দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যেতে সহায়তা করা উচিত।
সচেতনতা বাড়লে এই অস্বস্তিকর সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ