০৬:৫০ পি.এম
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি এ সময় বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর লেক শোর হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: মানবিক প্রতিক্রিয়া থেকে টেকসই সমাধান’ শিরোনামে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) এবং অক্সফাম যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটি সরকারের জন্য একটি নীতিগত চক্র হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এটি তার পুরো শৈশব, একজন তরুণের কাছে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। আমরা কিছুতেই এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দিতে পারি না।’
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেছে।
তবে বাংলাদেশ এমন একটি সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনা, যে সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি—এই বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক পথ নয়, বরং সামনে এগোনোর একমাত্র টেকসই উপায়। রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) সংকুচিত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সুরক্ষা কোনোকিছুকেই বিলাসিতা মনে করা যাবে না; এগুলো জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ জমি, সম্পদ, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর বেড়ে গেছে চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। তাই স্থানীয় জনগণের জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেকসই কূটনীতি, নিশ্চিত অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় ধরে রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচারের ব্যাপারে সকলের সতর্ক থাকতে হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকার চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউয়িন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ব বন্ডে প্রমুখ।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন