ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিনিতে লোকসান, কেরুর মদে রেকর্ড মুনাফা


চিনিতে লোকসান, কেরুর মদে রেকর্ড মুনাফা

দেশের অধিকাংশ চিনিকলের মতো চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন ইউনিটও লোকসান গুনে চলেছে বছরের পর বছর। তবে, চমক দেখিয়েছে কেরুর ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিট।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু অ্যালকোহল (মদ) বিক্রি থেকেই ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা কামিয়ে নিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে, চিনিতে বড় লোকসান হলেও আয়ে ভাটা পড়েনি কেরুর; নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি। কোম্পানিটির ইতিহাসে স্মরণকালের রেকর্ড এটি। 

এর আগে, গত অর্থবছরে ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল কেরু। সেটিও তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

সামগ্রিক মুনাফার এই চিত্রের উল্টো পিঠে রয়েছে কেরুর চিনি কারখানা। এবার চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান দেখানো হয়েছে ৬০ কোটি টাকারও বেশি। চিনিতে প্রতিবছর লোকসান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আখচাষি ও স্থানীয়রা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা ছিল ১৮৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি টাকায়।

এছাড়াও জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট থেকেও উল্লেখযোগ্য মুনাফা এসেছে। এসব মুনাফার সঙ্গে লোকসান ও রাজস্ব খাত সমন্বয় করে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। 

তবে, আগামীতে চিনি খাতের লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি কেরু কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

 

 

 

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

হলিউডের তারকা হেনরি ক্যাভিলের ভাতিজা, থমাস, ছোটবেলায় স্কুলে গিয়েছিল এবং সেখানে সহপাঠীদের বলেছিল যে, তার চাচা হচ্ছে সুপারম্যান। কিন্তু এই বক্তব্যে বিশ্বাস করেনি শিক্ষক ও অন্যান্য সহপাঠীরা। বরং শিক্ষক তাকে মিথ্যা বলার জন্য শাসন করেছিলেন। পরবর্তীতে থমাসের মা যখন বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তখন পুরো পরিস্থিতি অন্যরূপ ধারণ করে। ক্যাভিল নিজেই এই ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে যখন ক্যাভিল সুপারম্যানের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হন। একবার পরিবারের সঙ্গে স্কুলে একটি আলোচনার সময় থমাস গর্ব করে জানায়, তার চাচা হচ্ছে সুপারম্যান। তবে শিক্ষকেরা থমাসের কথা বিশ্বাস করেননি, কারণ তাকে স্কুলে গল্প বানিয়ে বলার জন্য পরিচিত ছিল। এজন্য তাকে সতর্ক করা হয় যে, মিথ্যা বলবেন না এবং পূর্বোক্ত বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়।

স্কুল থেকে ছেলের চিকিৎসক নেয়ার সময় থমাসের মা শিক্ষককে জানান যে, থমাস আসলে মিথ্যা বলছে না। তার চাচা সত্যিই হেনরি ক্যাভিল, যিনি পর্দায় সুপারম্যান হয়ে আছেন। এই সম্পর্কিত ক্যাভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর থমাস আত্মবিশ্বাসের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করে দেয় যে, সে সত্যিই শুরু থেকেই সত্য কথা বলছিল।

ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। ছবিটি ক্যাভিলের ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ের দৃশ্য মনে হলেও, ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ছবিটি আসলে ২০১৩ সালে তোলা একটি পারিবারিক ছবি এবং এটি পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হয়েছে।

একই সাথে, হেনরি ক্যাভিল ২০১৩ সালে জে লেনোর অনুষ্ঠানে এই ঘটনার কথা বলেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড রায়ান’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আবার খোঁজখবর নিয়েছেন। এর মানে হল, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ক্যাভিলের নিজের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি পুরনো পারিবারিক ঘটনা, যা সময়ের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্দ কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্দ কৃষক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকরা জোট বেধে একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তায় প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে যায়।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়ে দিয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমশি করেন। তার মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা সার, যার মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা সার।

এ দিন সকালে দুই শতাধিক কৃষক তার ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য জড়ো হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর, ঢাকার ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যেতে থাকে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকী সার রক্ষা করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা, এবং উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে ফোন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, আমি সারাদিন জেলা মিটিং-এ ছিলাম। ফলে বিষয়ে আমি অবগত নই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়লো শিশুদের ওপর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়লো শিশুদের ওপর

খুলনার পাইকগাছায় শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়ার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী, যার নাম আফিয়া ইভনাত আলভী (৬)।

এই ঘটনা ঘটে রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা এলাকার ৪৭ নম্বর হাউলী প্রতাপকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

আহত আফিয়া ইভনাত আলভী প্রতাপকাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস খানের কন্যা, এবং সে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় এবং আহত ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে যথারীতি পাঠদান চলছিল বিদ্যালয়ে। এই সময় শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি চালু ছিল। হঠাৎ করে ফ্যানটির নাট খুলে সেটি নিচে পড়ে যায়। প্রথমে ফ্যানটি শ্রেণিকক্ষে একটি টেবিলের ওপর পড়ে, এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল আফিয়ার নাক ও মুখে আঘাত করে।

ফলে তার নাক ও মুখ কেটে যায় এবং রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণ দ্রুত তাকে কপিলমুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকগণ প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আফিয়াকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সাধু জানান, নতুন ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি লাগানো হয়েছিল। ফ্যানের নাট খুলে যাওয়ার কারণে সেটি প্রথমে টেবিলের ওপর পড়েছিল। পরে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল ওই ছাত্রীর নাকে লেগে যায় এবং তার ফলে সে আহত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে আফিয়ার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো রয়েছে।

এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জামের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত ফ্যান, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ নকশার প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


সেলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ নকশার প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমানের একটি প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছিল। তিনি বিশ্বের পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে, দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্নে তিনি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সেই স্বপ্নের ভিত্তিতে ২০০৭ সালে তিনি ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে ইউএলকাসেমির যাত্রা শুরু করেন। আজ প্রায় দুই দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলীর একটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটেরও অংশ।

এনায়েতুর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এক পর্বে সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে এএমডিতে সেমিকন্ডাক্টর চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজের সময় তিনি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত পরিবর্তন ও এশিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর ধারণা পান। তখন প্রশ্ন জাগে, যদি দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তারাও আন্তর্জাতিক চিপ নকশা শিল্পে নিজেদের প্রতিস্থাপন করতে পারবেন কিনা। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগণ ও প্রতিবছর অনেক প্রকৌশলী তৈরির বিষয়টি তাঁকে আশাবাদী করে তোলে।

পরিশেষে প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশে retorn 오는 সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৭ সালে ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হয় ইউএলকাসেমির যাত্রা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা হয়।

শুরুর পথ কিন্তু সহজ ছিল না। বাংলাদেশে তখন চিপ নকশা শিল্পের শক্তিশালী পরিবেশ ছিল না। দক্ষ প্রকৌশলী প্রস্তুত করা, আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের আস্থা অর্জন, এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কাও সামলাতে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।

শুরুতে ইউএলকাসেমি চিপের বিন্যাস নকশার কাজ দিয়ে এগিয়েছে। পরে ধীরে ধীরে চিপের কাঠামো নির্ধারণ, নকশা যাচাই ও ভৌত নকশাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করে। বর্তমানে, ইউএলকাসেমিতে ৬০০-এর অধিক নকশা প্রকৌশলী কাজ করছেন এবং চারটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির নকশা কেন্দ্র রয়েছে। সংস্থার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের সম্মিলিত সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতা ২৫০ বছরেরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। অ্যানালগ সার্কিট নকশা, বিশেষায়িত চিপ বিন্যাস, চিপের ভৌত নকশা, চিপের কাঠামো ও নকশা যাচাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা দিচ্ছে।

ইউএলকাসেমির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৪০০-এর বেশি ভৌত নকশা সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তাদের ১৫০টি এসআরএএম এবং ৫০টি ওটিপি নকশা সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় মাইলফলক ২০২১ সালে আসে। সেবছর ইউএলকাসেমি টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশীদার হয়। এই জোট চিপ বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের নকশা সমাধানের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ग्राहकদের নকশা সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, দেশের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বৈশ্বিক চিপ নকশা শিল্পের কার্যক্রম করতে সক্ষমতা দেখিয়েছে।

তবে এনায়েতুর রহমানের লক্ষ্য কেবল নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করা নয়। তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখছেন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনের চেয়ে, চিপ নকশা, নকশা যাচাই, পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরি করাই বাংলাদেশের জন্য অধিক বাস্তবসম্মত।

এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশলী স্নাতক হন। তাদের যদি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক চিপ নকশা ও প্রকৌশল সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এনায়েতুর রহমান।

সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সম্ভাবনাময় উচ্চপ্রযুক্তির রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। দক্ষ লোকবল তৈরি, নীতিগত সমর্থন এবং প্রযুক্তি খাতের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউআরকাসেমি। চিপের অ্যানালগ ও ডিজিটাল নকশা যাচাই এবং বিন্যাস প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একসময় এনায়েতুর রহমান এএমডির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে চিপ নকশা করতেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে এখন শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করছেন। চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ ৬০০-এর বেশি প্রকৌশলীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে বসেও উচ্চপ্রযুক্তির বৈশ্বিক শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক কাজ করা সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%