ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবির মিল কেন?


একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবির মিল কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি ছবি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠেছে যে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি। ছবিতে ট্রাম্পের দাঁড়ানোর ভঙ্গি এবং ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তবে, ট্রাম্পের অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে তোলা একই ধরনের ছবিগুলো যাচাই করার পর ভিন্ন চিত্র প্রকাশ করেছে দ্য ডিসেন্ট। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক এআই শনাক্তকারী টুলে এসব ছবির কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদনার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, একই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কারণে ট্রাম্পের ছবিগুলোতে এতটা মিল দেখা যেতে পারে।

দ্য ডিসেন্ট এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ট্রাম্পের সঙ্গে ছবিটি প্রকাশ করেন। পোস্টের বিবরণে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নিয়েছেন। ছবিটির উৎস হিসেবে হোয়াইট হাউসের নামও উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

ছবিটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ‘ইনফো বাংলা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ছবিটি প্রকাশ করে দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ‘ফটো কাটআউটের’ সঙ্গে ছবি তুলেছেন। একই ধরনের দাবি আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে জানতে চান, ছবিটি কেউ যাচাই করেছেন কি না এবং ফ্যাক্টচেকারদের অবস্থান কী।

অন্যদিকে, মীর জাহান নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটিকে সম্পূর্ণ এআই দ্বারা তৈরি বলে দাবি করা হয়। ছবিটি অনুষ্ঠান হওয়ার কয়েকদিন পর প্রকাশের বিষয়টিকেও সন্দেহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই রকম পোজ কেন?

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ কসোভো, আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও রোমানিয়ার নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিতে প্রায় একই ধরনের ভঙ্গি দেখা যায়। কোথাও ট্রাম্পকে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফোর পর্যবেক্ষণেও এসব ছবিতে ট্রাম্পের অবস্থান ও অঙ্গভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য মিলের কথা উঠে এসেছে। কসোভোর সংবাদমাধ্যম কোহার এক প্রতিবেদনে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নির্দিষ্ট একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা একে একে তার পাশে এসে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন। একই পটভূমি, ক্যামেরার অবস্থান এবং ট্রাম্পের নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ছবিগুলোতে তার পোজ প্রায় একই রকম দেখা যায়।

কোহা আরও জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট আলোকচিত্র ছাড়া অন্য কারও ছবি তোলার অনুমতি ছিল না। ফলে একই ফটোগ্রাফি প্রক্রিয়ায় একাধিক নেতার ছবি তোলা হয়। তবে ছবিগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান পুরোপুরি অভিন্ন নয়। বিভিন্ন ছবিতে তার বাঁ হাতের অবস্থান, মুখের অভিব্যক্তি ও হাসিতে ছোটখাটো পার্থক্য রয়েছে।

সব ছবিতে কি একই পোজ?

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

অনুষ্ঠানের অন্যান্য ছবিগুলোতেও ট্রাম্পকে ভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা গেছে। কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফো জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তোলা ছবির উদাহরণ দিয়েছে। শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ছবিতে ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখতে দেখা গেলেও অন্য একটি ছবিতে তাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। অর্থাৎ অনুষ্ঠানজুড়ে ট্রাম্পের অঙ্গভঙ্গি একেবারে অপরিবর্তিত ছিল না।

হিব্রিড ডট ইনফোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইভ মডারেশন ব্যবহার করে পরীক্ষায় আলোচিত বলকান নেতাদের ছবিগুলোকে এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া দ্য ডিসেন্ট বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে এসব নেতার ছবি সংগ্রহ করে একাধিক এআই যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের সঙ্গে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানের একটি ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। ২ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ও তার সঙ্গী মিরাবেলা গ্রাদিনারুর ছবি প্রকাশ করার পর ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শুধু হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল আলোকচিত্রীর প্রবেশাধিকার ছিল এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের পর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের কাছে একসঙ্গে পাঠানো হয়।

এ কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর বিভিন্ন দেশের নেতাদের ছবি প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

একই ধরনের ছবি তোলার নজির আগেও

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ছবিতে একই ধরনের ভঙ্গি নতুন নয়। ২০১৯ সালেও ট্রাম্পের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের একটি সংবর্ধনায় তাকে একই ধরনের ভঙ্গিতে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও ব্যঙ্গের ঘটনাও নতুন নয়। ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর পোপের গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও তুলনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

তাহলে বাংলাদেশের আলোচিত ছবিটি?

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ট্রাম্পের ‘কার্ডবোর্ড কাটআউট’-এর ছবিটি অবশ্য আলাদা বিষয়। ফেসবুকে ওই ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও ছবিটি শেয়ার করে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি মূল ছবি নয়; এটি ওপেনএআই ব্যবহার করে তৈরি করা একটি কৃত্রিম ছবি।

অর্থাৎ, ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের আসল ছবিতে ট্রাম্পের পোজ অন্য কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে তোলা ছবির সঙ্গে মিল থাকলেও, শুধুমাত্র এই মিলকে ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং একই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে একই ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার কারণেই একাধিক ছবিতে ট্রাম্পকে প্রায় একই ভঙ্গিতে দেখা যাওয়ার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবর মাসে আসছে ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে হতে পারে ৩ লঘুচাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


অক্টোবর মাসে আসছে ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে হতে পারে ৩ লঘুচাপ

চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৩টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এই তথ্যটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। মাসের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের মধ্যে ৩ থেকে ৪ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে, পুরো মাস জুড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোয় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি সমতল সাময়িকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবনের পরিমাণ ২ থেকে ৪ মিলিমিটার থাকতে পারে। এ ছাড়া গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল হতে পারে দৈনিক ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় না। এটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা পরবর্তী সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাউথ ক্যারোলিনায় ২৮ নতুন মুখে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


সাউথ ক্যারোলিনায় ২৮ নতুন মুখে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নবীন সংবর্ধনা ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজন কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

নবীন সংবর্ধনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। অলাভজনক ও অরাজনৈতিক এই সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৬০ জনের বেশি, যারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর সাউথ ক্যারোলিনা কমিউনিটির কাছে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয়। অতিথিদের গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং পার্কের পুকুর, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখেন।

দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা একসঙ্গে বসে খাবার উপভোগ করেন। বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান ছিল।

দম্পতিদের জন্য বেলুন দৌড়, পুরুষদের জন্য মার্বেল দৌড়, নারীদের জন্য বালিশ পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট দৌড়ের আয়োজন করা হয়। এসব খেলায় অংশগ্রহণ ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রাণবন্ত যোগাযোগ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল। নতুন শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজনের বিশেষ পর্বে ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করে আবৃত্তি করেন।

পরে সংগঠনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরা একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন।

বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি গত এক বছরে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হয় র‍্যাফেল ড্র। এবার মোট ১৫টি র‍্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যা আগের বছরগুলোতে ১০টি ছিল। এবার আরও দুটি বিশেষ পুরস্কার যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। নবাগতদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র‍্যাফেল টিকিট বিক্রি করা নবীন শিক্ষার্থীকেও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে কমিউনিটির মিলন ও বন্ধনের বিশেষ আয়োজন।

আয়োজনে পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা ও অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে যারা সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ২ কোটির বেশি প্রবীণকে ৯০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


ট্রাম্পের ২ কোটির বেশি প্রবীণকে ৯০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে দেওয়া হবে। এই অর্থ মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। অক্টোবরের শুরুতে এই অর্থ যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, এই অর্থ মেডিকেয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ করা হবে। কংগ্রেসের বরাদ্দকৃত এই তহবিলে প্রায় ২০০ কোটি ডলার রয়েছে, এবং এবার সেই অর্থ থেকে এককালীন ৯০ ডলার করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ৯০ ডলার পাবেন। যাদের সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের মেডিকেয়ারের নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। তবে যাদের মেডিকেয়ার প্রিমিয়াম ইতিমধ্যে মেডিকেইডের মাধ্যমে পরিশোধ হয় অথবা যারা বেশি আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন, তারা এই অর্থ পাবেন না।

বর্তমানে মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর সাধারণ মাসিক প্রিমিয়াম ২০২.৯০ ডলার। ফলে এককালীন ৯০ ডলার একজন প্রবীণের এক মাসের প্রিমিয়ামের পুরোটা নয়, তবে এটি কিছুটা সহায়তা করবে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে এই ৯০ ডলারের ঘোষণা এসেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকান দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অর্থসহ সাম্প্রতিক অন্যান্য আর্থিক উদ্যোগকে নির্বাচনের আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওই প্রতিশ্রুতির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক এবং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিককে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের অধীনে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থের অংশ হিসেবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে। এসব আর্থিক পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসুস্থ হয়েও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


অসুস্থ হয়েও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালের বিছানাতেই অসুস্থতার মধ্যেও বিয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ৭৯ বছর বয়সী এক যুগল। জন কোমো এবং তার বাগদত্তা ডায়ান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বেডে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক সহযোগিতায় তাদের জীবনের এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিয়ের সনদ নোটারি করার জন্য বের হন জন ও ডায়ান। কিন্তু পথেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে ফোন আসে। রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে জানিয়ে তাকে দ্রুত হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়।

বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় মন খারাপ করে হাসপাতালে পৌঁছান তারা। সেখানে জরুরি বিভাগের নার্স বেথ গেটস জানতে পারেন, জনের অসুস্থতার কারণে তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার বিয়েটি আর হচ্ছে না।

বেথ গেটস বিষয়টি জানতে পেরে তাদের হতাশ হতে দেননি। তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না জরুরি বিভাগের সি-২৯ নম্বর কক্ষে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই কক্ষটি তাদের বিয়ের আসরে পরিণত হয়।

হাসপাতালের গাউন পরা জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানেই বিয়ের সনদে স্বাক্ষর করেন। পাশে থাকা আরেক রোগী সামান্থা কাগজ দিয়ে তৈরি হলুদ আংটি বানিয়ে দেন। সেই আংটি বদল করে তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন।

এরপর হাসপাতালের বেডে থাকা অবস্থায় সামান্য ঝুঁকে স্ত্রী ডায়ানকে চুম্বন করেন জন। হাসপাতালের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার পরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দে ভরে ওঠে।

হাসপাতালের কর্মীরা তাদের বিয়ের আয়োজন আরও সুন্দর করে তুলতে নানা ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসার সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যেন আনন্দের মুহূর্তে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স কেরিয়া লাইটফুট ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেনের গ্লাস ও ঝলমলে আঙুরের রসের ব্যবস্থা করেন। জরুরি বিভাগের কর্মী নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘সদ্য বিবাহিত’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড।

এই ঘটনায় আপ্লুত জন কোমো বলেন, "চরম বিপদের দিনেও হাসপাতালের কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।"

পরে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন।

প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ডায়ানের সঙ্গে জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মীদের সহযোগিতায় এমন এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%