ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক বছর পর স্বদেশে ফিরলেন পুশ ইনের শিকার চার ভারতীয়


এক বছর পর স্বদেশে ফিরলেন পুশ ইনের শিকার চার ভারতীয়

অবশেষে চার ভারতীয় নাগরিকের জীবনে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

এক বছর আগে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন হওয়ার শিকার হয়ে অনেকটা দুর্গতির মধ্যে কাটিয়েছিল তারা। খবর পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) চার ভারতীয় নাগরিকসহ শিশুকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিশুসহ ওই চার ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এসময় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ও বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশে দীর্ঘ এক বছর কাটানোর পর নিজ দেশে ফিরে তারা স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করেন।

ফেরত যাওয়া ভারতীয় নাগরিকরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশে ফিরে আসা চার জনের মধ্যে রয়েছে এক শিশু, একজন কিশোর, একজন নারী ও একজন যুবক।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এই চারজনসহ ছয় ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইন করে বিএসএফ। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বেগম এবং তার ছেলেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে নিলেও বাকি চারজনকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেরি হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা এই চারজনকে আইনি জটিলতা ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিলম্বের কারণে আদালতের নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক জিম্মাদারের বাসায় সাত মাসেরও বেশি সময় থাকতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

পুশ ইন-এর ঘটনার পর গত বছরের ২০ আগস্ট অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে জেলা পুলিশ তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করতে হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুশ ইন-এর শিকার এই চার ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরতে সক্ষম হলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


রাজবাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও

রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) ‘ঘুষ’ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, শীতকালের কোনো এক সময় আদালত কার্যালয়ে নিজের কক্ষে বসে থাকা এসআই ইসরাফিল হাওলাদারের কাছে এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে টাকা বের করে দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণ করার পর এসআই ওই ব্যক্তিকে হাত দিয়ে কিছু দেখিয়ে দিচ্ছেন। পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এসআই ইসরাফিল হাওলাদার এই অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছিল। তিনি জানান, ভিডিওতে কোন টাকা ছিল না, এটি মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে দেওয়া একটি স্লিপ।

তিনি আরো বলেন, আইনজীবীদের একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লেগে আছে। এ ছাড়া, আমাদের কোনো এক স্টাফও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। আমাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওই দিন মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই–বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচকে দায়িত্ব দিল ফুলহ্যাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচকে দায়িত্ব দিল ফুলহ্যাম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহ্যাম, রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে নিয়োগ দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে তিন বছরের জন্য।

৪৩ বছর বয়সী আরবেলোয়া মার্কো সিলভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সিলভা ইতোমধ্যেই পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকায় যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। তিনি ফুলহ্যামের দায়িত্ব পালন করেছেন মোট ৫ বছর সময়কাল ধরে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর আরবেলোয়া মন্তব্য করেন, ‘লন্ডনের সবচেয়ে পুরোনো ক্লাব ফুলহ্যাম এফসিতে আমার নতুন যাত্রা শুরু করতে পারা সত্যিই বড় সম্মানের বিষয়। আমি গভীর দায়িত্ববোধ অনুভব করছি এবং প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান শহিদ খান ও ভাইস-চেয়ারম্যান টনি খানের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

চেয়ারম্যান শহিদ খান বলেন, ‘আলভারো নিজেই স্বীকার করে যে তিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, ক্লাব এবং ফুটবল পদ্ধতির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা ফুলহ্যামে তার কাজে দারুণভাবে সহায়ক হবে।’

রিয়াল মাদ্রিদে আরবেলোয়া প্রথমে যুব দলের কোচ হিসেবে কাজ করেন। জানুয়ারিতে জাবি আলোনসো চলে যাওয়ার পরে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পান। তার অধীনে মৌসুমের শেষ ২৮টি ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ খেলেছে। ওই সময়ে দলটি লা লিগায় রানার্সআপ হয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নেয়।

আরবেলোয়া রিয়াল মাদ্রিদ থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়কে সঙ্গে আনতে আগ্রহী। সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের তালিকায় রয়েছেন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, ফুলব্যাক ফ্রান গার্সিয়া এবং ফরোয়ার্ড গঞ্জালো গার্সিয়া।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাটির ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


মাটির ঘরের দেয়াল ধসে  শিশুর মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় টানা অতিবৃষ্টির ফলে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে গিয়ে তানঝুমা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের মরজাল মাইজপাড়া গ্রামে এটি ঘটে।

নিহত তানঝুমা স্থানীয় আপেল মিয়ার মেয়ে এবং মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিষয়টি রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে তানঝুমা। এ সময় ওই এলাকায় একটি চালবিহীন পরিত্যক্ত মাটির ঘরের দেয়াল টানা ভারী বর্ষণের কারণে হঠাৎ করে ধসে তার ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য আছমা বেগম জানায়, মাটির ঘরের দেয়াল ধসে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি আরো জানান, নিহত শিশুর বাবা বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন। তিনি বাড়িতে ফিরলে তানঝুমার দাফন সম্পন্ন হবে।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রফতানি বাড়লেও লাভ কমছে, সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


রফতানি বাড়লেও লাভ কমছে, সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা

দেশের প্রধান চিংড়ি উৎপাদন অঞ্চল খুলনায় নানা সংকটে উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনার সংকট, খরা, অতিবৃষ্টি, লবণ পানির স্বল্পতা, রোগবালাইসহ নানা কারণে দিন দিন চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদন বাড়াতে না পারায় রফতানি আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৯ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন সামান্য কমেছে। তবে একই সময়ে চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ২৭৮টি থেকে বেড়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৪০টিতে উন্নীত হলেও সে হারে উৎপাদন বাড়েনি।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনায় ৩০ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন, বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫২৪ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন এবং সাতক্ষীরায় ৪০ হাজার ২০ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চিংড়ি চাষি কৌশিক বাগচি বলেন, 'একসময় চিংড়ি চাষ করে ভালো লাভ হতো। এখন মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনা পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় লাখ লাখ টাকার পোনা ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগে মারা যায়। তখন ঋণের টাকা শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই সরকার মানসম্মত পোনা নিশ্চিত করুক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করুক।'

একই উপজেলার চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আগে মৌসুম অনুযায়ী লবণ পানি পাওয়া যেত। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখনও দীর্ঘ খরা, আবার কখনও অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘেরের পানির লবণাক্ততা ঠিক রাখা যায় না। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যায় না। অনেকেই তাই চিংড়ি চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।'

আরেক চাষি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আধুনিক পদ্ধতিতে কীভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বা উৎপাদন বাড়াতে হবে, সে বিষয়ে অনেক চাষিরই ধারণা নেই। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, মানসম্মত খাদ্য ও পোনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব।'

উৎপাদনে স্থবিরতা থাকলেও রফতানির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ হাজার ৯৭০ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৪ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৩৬৫ মেট্রিক টন থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন বেশি। তবে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আয় কমেছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল প্রায় ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় আয় কমেছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেছেন, 'বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির এখনও ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বর্তমানে ইকুয়েডর, ভারত ও ভিয়েতনাম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি উৎপাদন করছে। আমাদেরও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানের চাষাবাদ এবং রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। তা না হলে রফতানি বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'

খুলনা মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক বলেন, 'চিংড়ি শিল্পকে টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, ঘের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%